সোমবার, ২৩ Jul ২০১৮, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন

English Version


পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন কে, আলোচনায় ৬ জন

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন কে, আলোচনায় ৬ জন



রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. আবদুল হামিদের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে আগামী ২৩ এপ্রিল। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এদিকে, আবারো রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন আবদুল হামিদ। কারন ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগের পছন্দ এবং বিশ্বস্তের জায়গা থেকে বিকল্প কাউকে ভাবছে না দলটি। বিষয়টি চূড়ান্ত বলেই মতপ্রকাশ করেছেন দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক। ফলে স্থানীয় সরকার, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করলেও রাষ্ট্রপতি পদের জন্য এটা করবে না আওয়ামী লীগ।

তবে তফসিল ঘোষনার আগে বৈঠক করবেন নির্বাচন কমিশনাররা। এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। আজ বিকাল ৩টায় সংসদ সচিবালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল নিয়ে মূলত বৈঠকে আলোচনা হবে। গত সোমবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডে প্রার্থী চূড়ান্ত করে সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংসদ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। তবে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রার্থীদের কাছে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হবে না। আওয়ামী লীগের জাতীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরের শেষের দিকে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিটি নির্বাচনের আগে প্রতিপক্ষ পানি ঘোলা করার চেষ্টা করে। সে সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয় রাষ্ট্রপতিকে। তাই নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতি নিয়ে বড় কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না আওয়ামী লীগ। তারা মনে করেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ পরীক্ষিত। অনেক জাতীয় বিষয়ে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। রাজনৈতিক ও জাতীয়ভাবে তার একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা আছে। সব মতের নেতাদের কাছে প্রিয় ব্যক্তিও তিনি।

গত পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো কালিমা নেই। এমন বিশ্বস্ত রাষ্ট্রপতিকে বাদ দিয়ে নতুন কাউকে আনার কোনো যুক্তি দেখছে না আওয়ামী লীগ। তাছাড়া সংবিধানের ৫০(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন রাষ্ট্রপতি পরপর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘একাদিক্রমে হউক বা না হউক- দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতির পদে কোনো ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকিবেন না।’

সেহেতু আইনি ক্ষেত্রেও আবদুল হাদিমকে দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি পদে রাখার পক্ষে আওয়ামী লীগের সমর্থনের মাত্রা জুগিয়েছে। সোমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দুই নেতা দেখা করেছেন। তারা দুপুরে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতা আজ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমান সরকারে অনেক বিতর্কিত মন্ত্রী আছেন, যারা বিভিন্ন সময়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। সংসদে একাধিক এমপি আছেন যারা বিতর্কিত। এতকিছুর পরও তারা বহাল আছেন। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে তাই তাদের পদত্যাগ করানো হয়নি। সেখানে আবদুল হামিদের মতো জনপ্রিয় ও সমাদৃত ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে নতুন কাউকে এই পদে আনবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- এটা মনে করি না।

রাষ্ট্রপতির চলতি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিধান আছে সংবিধানে। সে অনুযায়ী দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে ২৪ জানুয়ারি (আজ) থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ অবসানের কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। আইনজ্ঞদের মতে, প্রথম ৩০ দিনকে বোঝাবে। নির্বাচন কমিশনও তা-ই মনে করে। এ বিষয়ে সোমবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটি ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতি সরাসরি ভোটে নয়, সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। তফসিল ঘোষণাসহ এই নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী ২৩ এপ্রিল তার ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে। আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং স্পিকার হিসেবে দু’বার দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। গত বছর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের পর থেকেই অনেকে বলে আসছেন, সাধারণ সম্পাদক পদ হারালেও তার (সৈয়দ আশরাফ) জন্য পুরস্কার অপেক্ষা করছে। প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন এ নেতাকে পরবর্র্তী রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা ডা. এসএ মালেকের নামও অল্পবিস্তর আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নামও আলোচনায় আছে।

এদিকে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদও রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। গত সোমবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এমন ঘোষণার পরপরই সাবেক স্বৈরাচার আবারও রাষ্ট্রপতি হবার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জাতীয় পার্টির দুজন নেতাকে এরশাদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বলো আমাকে রাষ্ট্রপতি বানাতে। আমি তাঁকে আবার ক্ষমতায় বসিয়ে দেব।’ এরশাদও বলেছেন,‘আমার বয়স হয়েছে, মারা যাব আর বেঁচে থাকলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে অবসরে যাব। এটাই আমার ইচ্ছা।’ তবে আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, এরশাদকে রাষ্ট্রপতি করার ইচ্ছে তাদের নেই।

–গোনিউজ

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media




ফুটবল স্কোর



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com