আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ Jul ২০১৯, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন

টাকা দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু পুলিশ নেয়নি !

টাকা দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু পুলিশ নেয়নি !

  • 11
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    11
    Shares

সিনিয়র রিপোর্টার:

নাজমুল নামের এক সিএনজি চালকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দায়েরকৃত মামলার বিবরণে ওই নারী অভিযোগ করেন, ৫ দিন পূর্বে গত ১৮ এপ্রিল দুপুরে তাঁর বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিতে ওঠেন। নাজমুল নামের অপরিচিত ওই সিএনজি চালক জোর করে বগুড়া সদরের গোদারপাড়া এলাকায় তার এক কথিত ভাবির বাড়িতে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে স্বামীকে সাথে নিয়ে ওই নারী থানায় এসে পুলিশের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন। মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতেই ওইদিন দুপুর দেড়টায় অভিযুক্ত সিএনজি চালকের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় ধর্ষণ মামলা রেকর্ড হয়। সদরের ঘোলাগাড়ী এলাকার জয়নালের ছেলে অভিযুক্ত সিএনজি চালক নাজমুলকে (২৫) গ্রেফতার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরেই মামলা রেকর্ড হলেও দু-একটি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে ‘ধর্ষণ মামলা নিতে বগুড়া সদর থানার ওসির বাহানা’। মামলা রেকর্ডের বিষয়ে থানার ওসি’র তালবাহানার বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়নি। মূলত পুলিশের বিরুদ্ধে অনলাইন-প্রিন্ট মিডিয়া এমন সংবাদ প্রকাশ করে ফেসবুক ও সাধারণ জনগনকে পুলিশের বিরুদ্ধে উস্কে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। প্রকাশিত ওই সংবাদে পুলিশকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও।

ধর্ষিতার স্বামী আলামিন বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে থানায় মামলা দায়ের শেষে বের হবার পথে আমাকে একজন এসে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বললো ‘মামলা করতে টাকা লাগে, টাকা এনেছেন ? আপনার মামলা রেকর্ড হয়নি-হবেও না। থানার ওসির কাছে যা বলেছেন, তা ওই পর্যন্তই থাকবে। আমি ওই সাংবাদিক ভাইকে বলেছি, টাকা দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু পুলিশ নেয়নি।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান মুঠোফোনে নববার্তাকে বলেন, ভুল তথ্যে সংবাদ প্রকাশ করেছে। প্রতিটি মামলা অনলাইনে রেকর্ড হয়। এখানে লুকোচুরির কিছু নাই, সুযোগও নাই। বিশ্বের যেকোন জায়গা থেকে দেখা যাবে কোন মামলা কখন রেকর্ড হয়েছে।

এদিকে, দু-একটি পত্রিকায় পুলিশ বিরোধী এই ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তোলপাড়। তবে পুলিশ বা ধর্ষককে নিয়ে নয়, উল্টো ওই নারীকে নিয়েই নেটি দুনিয়ায় চলছে সমালোচনার ঝড়। কেউ কেউ বলছেন, দিন-দুপুরে মাত্র একজন সিএনজি চালক সিএনজি চালিয়ে জোর করে নিয়ে গেলেন কিন্তু ওই নারী চিৎকার করলেন না কেন ? রাস্তায় কি মানুষ ছিল না ? অন্যজনের বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করেছে, সেখানেও নারী চিৎকার করলেন না কিন্তু পাঁচদিন পরে মামলা কেন ?।

অনেকেই বললেন, ওই নারীর সাথে সিএনজি চালকের সম্পর্ক থাকতে পারে। আপসে দৌহিক মেলামেশা শেষে ধর্ষণের নাটক সাজানো হতে পারে, সাধারণ একজন সিএনজি চালককে ফাঁসানো হতে পারে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার দাবি তুলে ধর্ষণের ঘটনার এই রহস্য নিয়ে নেটি দুনিয়ায় চলছে নানা প্রশ্ন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, সরকার বিরোধী একটি চক্র আছে। সাধারণ জনগণকে উস্কে দেয়ার জন্য সরকার বিরোধী এই চক্রটি অনলাইনে অপপ্রচার করে চলেছে। বগুড়ায় সুনামধন্য অনেক অনলাইন পত্রিকা আছে। এই সুযোগে সরকার বিরোধী চক্রটি কথিত দু-একটি অনলাইন পত্রিকা বা টিভি চ্যানেলের নামে ইউটিউব চ্যানেল খুলে অপপ্রচার করছে। এসবের নেই কোনো বৈধতা। অথচ সেদিকে কারো নজর নেই।

এপ্রসঙ্গে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply

Nobobarta.com
Design & Developed BY Nobobarta.com