বিশ্বজুড়ে ব্যবহার হচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি গুফি বই | Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১০:৫০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
বস্তিতে ভরা দুপুরে কন্ঠশিল্পী নয়ন দয়া ও হাজী আরমান ৬৫ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেবে সিসিক ভালুকায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেন সাদিকুর রহমান ঝালকাঠি করোনা প্রতিরোধে রক্ত কণিকা ফাউন্ডেশন জীবাণুনাশক স্প্রে করোনাঃ দুস্থদের খাদ্য দিলো কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগ সিরাজদিখানে দেড় হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ রাজাপুরে সাইদুর রহমান এডুকেশন ওয়েল ফেয়ার ট্রাষ্ট’র হতদারিদ্রদের মাঝে ত্রান বিতরণ রাজাপুরে পল্লী বিদ্যুত সমিতির গরীব মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ রাজাপুরে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করলেন ইউপি সদস্য নিজেরা নিয়ন্ত্রন না হলে বিপদে পরতে হবে
বিশ্বজুড়ে ব্যবহার হচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি গুফি বই

বিশ্বজুড়ে ব্যবহার হচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি গুফি বই

Rudra Amin Books

বাংলাদেশের বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে যখন বিদেশি বই পড়ানো হচ্ছে, সেখানে ভাবতে ভালো লাগে যে বাংলাদেশে তৈরি শিশুদের জন্য বই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যবহার হচ্ছে। এই বিষয়টি বাস্তবে রূপ দিয়েছে লাইট অফ হোপ লিমিটেড তাদের গুফি (Goofi) বইয়ের সিরিজগুলোর মাধ্যমে।

আজ থেকে কয়েকশ বছর আগে ইংরেজি শাসকগোষ্ঠী উপমহাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজিয়েছিল যার মূলমন্ত্র ছিল, এই শিক্ষাব্যবস্থা থেকে এমন শিক্ষার্থী বের হবে যারা গায়ের রঙে ভারতীয় কিন্তু চিন্তা এবং মানসিকতায় ইংরেজ হবে এবং আজ পর্যন্ত উপমহাদেশের দেশগুলোর শিক্ষাব্যবস্থা সেটি থেকে বের হতে পারেনি।

ইংরেজি মাধ্যম স্কুল এবং কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের সুবাদে এখনো আমাদের দেশের শিশুরা এমন অনেক কিছু শেখে যেগুলো আমাদের দেশের সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত না। বিশ্বায়নের এই যুগে পশ্চিমা শিক্ষা আরও সুদূরপ্রসারী হয়েছে। ধীরে ধীরে ঢুকে যাচ্ছে আমাদের সমাজের সবখানে– এবং বিশেষ করে স্কুলে এবং শিশুদের জীবনে। তাই স্পাইডারম্যান বা এলসাকে এখনকার শিশুরা চেনে। ডালিম কুমার তার কাছে এখন অচেনা।

অথচ ইংরেজি শিক্ষার আবির্ভাবের পূর্বে আমাদের দেশের যে শিক্ষা ছিল সেখানে শিশুদের জন্য ছিল আগে মানুষ হওয়ার, নৈতিকতা শেখার মূলমন্ত্র– আর এরপর ছিল একাডেমিক শিক্ষা। জাপান বা ফিনল্যান্ডে এখন আবারও উপমহাদেশের শিক্ষার মূলমন্ত্রের ভিত্তিতে শিশু শিক্ষাকে আবার ঢেলে সাজানো হয়েছে। শিশুদের মধ্যে সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, মূল্যবোধ ইত্যাদি বিষয়ের ওপর বিশেষ জোর দেয়া হচ্ছে।

শিশুদের মধ্যে সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, আবেগীয় দক্ষতা এবং নৈতিকতাবোধ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে লাইট অফ হোপ লিমিটেড যাত্রা শুরু করে। যেহেতু এগুলো সারা পৃথিবীর সব দেশের শিশুদের জন্যই প্রয়োজন, তাই যাত্রার শুরু থেকেই চিন্তা ছিল পৃথিবীর সব শিশুর উপযোগী করে বই এবং কনটেন্ট ডিজাইন করা। কিন্তু সেটি করতে গিয়ে ভাষা অনেক সময় হয়ে দাঁড়ায় প্রধান সমস্যা। কারণ বাংলাদেশি শিশু কথা বলে বাংলাতে, আবার আমেরিকান শিশু কথা বলে ইংরেজিতে, আবার জার্মান শিশু কথা বলে জার্মান ভাষায়। ভাষাকে পাশ কাটিয়ে অথবা খুব স্বল্পমাত্রায় ব্যবহার করে কীভাবে বই তৈরি করা যায় যেখানে শিশু মূলত ছবির মাধ্যমে বা বিভিন্ন একটিভিটির মাধ্যমে নিজেদের সৃজনশীলতার চর্চা করতে পারে– সেটি ছিল বড় একটা চ্যালেঞ্জ।

তারই অংশ হিসাবে দুটি সিরিজ তৈরি করে গুফি– Goofi Letter to Picture এবং বর্ণ যখন ছবি হল। এই সিরিজটি তৈরি করেন লাইট অফ হোপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও ওয়ালিউল্লাহ ভুঁইয়া। একটা অক্ষর থেকে ধাপে ধাপে কীভাবে ধীরে ধীরে তৈরি হয়ে যায় বিভিন্ন ছবি সেটি দেখানো হয়েছে এই ৪ টি বইয়ে। যেমন, ক থেকে কীভাবে আঁকা যায় কাক, কিংবা B থেকে Bird এর ছবি কীভাবে আঁকা যায়। এই সিরিজটি এখন পৃথিবীর প্রায় ৩০ টি দেশে শিশু, অভিভাবক এবং শিক্ষকরা ব্যবহার করছে। প্রথমে ই-বুক হিসাবে যাত্রা শুরু করলেও এখন হার্ডকাভার বই হিসাবে ৪ টি বই প্রকাশিত হয়েছে গত ২০১৯ সালে। এই বছরের বইমেলাতেও এই বইগুলো এখন পর্যন্ত বেস্ট সেলার।

সিরিজটি সম্পর্কে ওয়ালিউল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, শিশুরা প্রথমে আসলে শিখে ছবি আঁকা, এরপর শেখে অক্ষর ও ভাষা। একটা শিশু ‘অ’ অক্ষর চেনার আগে চেনে অলি বা মৌমাছিকে। তাহলে যদি আমরা শিশুকে অলি আঁকা শেখানোর মাধ্যমে ‘অ’ অক্ষরটা চিনিয়ে ফেলতে পারি তাহলে সেটি আরও মজার এবং এফেক্টিভ হয়। আবার শিশু যখন অ থেকে অলি আঁকা শিখল, এরপর তাকে বলা যে ‘অ’ দিয়ে আর কি হয়? সেগুলোর কোনটা কি তুমি আঁকতে পারবে?

তখন শিশু যখন ভাবা শুরু করে তখনই ধীরে ধীরে তার মধ্যে সৃজনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়তে থাকে। লাইট অফ হোপ এই দুটি সিরিজের ওপর গবেষণা করে দেখেছে যে শিশুরা অক্ষর শিখে ফেলছে ৩০ ভাগ তাড়াতাড়ি, সেটাও আবার অভিভাবক বা বড়দের সাহায্য ছাড়াই। পাশাপাশি বাড়ছে তাদের মোটর স্কিল এবং সৃজনশীলতা। বাংলা এবং ইংরেজির পর তৈরি হয়েছে জার্মান এবং স্প্যানিশ ভাষার অক্ষরগুলো নিয়ে। কারণ জিজ্ঞেস করে জানা গেল, পৃথিবীর ৭০ ভাগ শিশু কথা বলে প্রধান ৭ টি ভাষায়। সেই ভাষাগুলোতে যদি এই সিরিজটি করা যায় তাহলে ৭০০ মিলিয়ন শিশুর কাছে পৌঁছানো যাবে।

প্রথম সিরিজের দারুণ সফলতার পর গুফি হাত দিয়েছে আরও বিভিন্ন সিরিজের কাজে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ টি বই প্রকাশ করেছে গুফি। সেগুলোর সবই এখন পাওয়া যাচ্ছে দেশে এবং বিদেশে। দেশের অভিভাবকেরা চাইলে অনলাইনে দেশের সব স্বনামধন্য ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকে থেকে গুফি বইগুলো কিনতে পারবেন সরাসরি। কেবল ওয়েবসাইটে গিয়ে Goofi লিখে সার্চ দিলেই চলে আসবে সৃজনশীলতা বাড়ানোর দারুণ সব বই। এ ছাড়া দেশের বাইরে বসবাসকারী অভিভাবকেরা বই এবং অন্যান্য প্রোডাক্টগুলো কিনতে পারবেন Aadi থেকে। এ ছাড়া আড়ং, বাবুল্যান্ড, ইনফিনিটি, বেঙ্গল বই, ইউনিমার্টসহ বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশি কোম্পানি লাইট অফ হোপের লক্ষ্য হচ্ছে গুফিকে সারা পৃথিবীর শিশুদের কাছে পৌঁছে দেয়া। ভবিষ্যতের পৃথিবীর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা যেন তৈরি হয় প্রতিটি শিশুর মাঝে– থাকুক না সে বাংলাদেশের চরে, নিউইয়র্ক শহরে কিংবা নেপালের পাহাড়ে।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta