শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন

English Version
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) : মাহমুদুল হক আনসারী

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) : মাহমুদুল হক আনসারী



  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) পৃথিবীর সব সৃষ্টির জন্য রহমত। তাঁকে সমগ্র সৃষ্টি জগতের জন্য রহমত হিসেবে এ ধারায় পাঠানো হয়েছে। তিনি সমগ্র মানবজাতির শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছে। সমস্ত পৃথিবীর সৃষ্টিকে তাঁকে সন্তুষ্ট করার জন্যেই সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি শেষ নবী, তার পরে আর কোনো নবী রসূল পৃথিবীর জমীনে আগমন করবে না। তার উপর যে কিতাব অর্থাৎ আল কোরআনুল কারীম, যে অবতীর্ণ করা হয়েছে সেটাও আল্লাহর পক্ষ হতে সর্বশেষ কিতাব। আসমানী কিতাব অবতীর্ণ হওয়ার দরজাও বন্ধ।

মানবতার মুক্তি, শান্তি, শৃংখলাপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্টার মহান নবী তিনি। তাঁর ৬৩ বছর পবিত্র জীবনালক্য পৃথিবীর মানুষের জন্য অনুপম আদর্শ। তাঁর ব্যাক্তি, পরিবার, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন সবই মানবতার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ অনুসরণীয় আদর্শ জীবন। শিশু, শৈশব, যৌবন এবং নবুয়তি জীবন মানব কল্যাণের জন্য একটি দৃষ্টান্তমূলক নৈতিক জীবন। রাষ্ট্রীয় জীবনের সমস্ত ধারা উপধারা তিনি মানবতার জন্য কেয়ামত পর্য্ন্ত আদর্শ হিসেবে রেখে গেছেন। তাঁর রাষ্ট্রীয় ও সমর নীতি পররাষ্ট্র নীতি সবদিকেই সফল মহানায়ক মুহাম্মদ (স.)।শিশু থেকে সব শ্রেণী পেশার গোত্রের জন্য তিনি অনুকরণীয়।

তাঁর অনুপম চরিত্র আদর্শ ও দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে কেউ এখনো পর্য্ন্ত দেখাতে পারে নি। পৃথিবীর সব ধর্ম ও গোত্রের মানুষের মধ্যে এখনো বিশ্বনবী আদর্শ নবী হিসেবে তিনি অলংকিত থাকবেন। আজকের দুনিয়ায় মহান এ নবীর পবিত্র জীবনালক্য বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণে সমাজ পৃথিবী আজ ঝন্ঝা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। পৃথিবীকে শান্তিপূর্ণভাবে শাসন করার মতো আজকের দুনিয়ায় কোনো নেতা নেত্রী সফল হয় নি। ধর্মে ধর্মে গোত্রে গোত্রে হানাহানি মারামারি দেশে দেশে যেভাবে অব্যাহত আছে পৃথিবীর কোনো নেতৃত্ব মানবতাকে শান্তি দিতে পারে নি। সারা দুনিয়ায় মানবতা আজ নৈতিক মূল্যবোধ হারিয়ে আদর্শহীন সমাজে হাবুডুবু খাচ্ছে। পদে পদে মানবতা আজ তাঁর জন্মগত অধিকার থেকে বঞ্চিত। মানবতার যে অধিকারগুলো সমাজ থেকে পাওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রীয় নেতারা তা দিতে ব্যার্থ হয়েছে। সারা পৃথিবীর শাসনে আজ অশান্তির আগুন জ্বলছে।

মানবতা পদে পদে আজ শোষিত নির্যাতিত নিষ্পেশিত হচ্ছে। শাসকের শোষণ, অস্ত্রের শোষণ, ধনুকের শোষণ নির্যাতন অব্যাহত আছে। কোনো দেশ আরেক দেশকে পাত্তায় দিচ্ছে না। গরিবের উপর ধনী রাষ্ট্রের শোষণ চলছে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে। পৃথিবীর অনেক দেশে খাদ্যাভাবে বহু মানুষ না খেয়ে মারা যাচ্ছে। আর কতিপয় দেশে খাদ্য মজুদ এবং উচ্ছিষ্ট খাদ্য ধ্বংস করা হচ্ছে। একশ্রেণীর ধনী রাষ্ট্র অর্থের অহংকারে অস্ত্র দিয়ে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি মানুষকে হত্যা করছে। লাখো লাখো ডলার খরচ করে মানবতা বিধ্বংসী সমরাস্ত্র মজুদ করছে। যে পরিমাণ অস্ত্র তারা মজুদ করেছে তার একশ ভাগের দশ ভাগ মানবকল্যাণে ব্যায় করলে পৃথিবীতে কোনো দরিদ্র পরিবার থাকবে না। পৃথিবীর ধনী রাষ্ট্র রাজনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যাক্তি মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসছে না। পৃথিবীর শান্তি আর শৃংখলাপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্টায় দুনিয়ার নেতৃত্ব আজ শূন্যের কোটায়। জাহেলী আর নির্যাতিত নিষ্পেশিত মানবতার মুক্তির জন্য পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছিলেন বিশ্বনবী মুহাম্মদ (স.)। সে কল্যাণময় জীবনাদর্শ পৃথিবীর কাছে এখনো বিদ্যমান।

সমাজ পৃথিবী এবং দুনিযার রাষ্ট্রপ্রধানগণ এখনো যদি সে মহান আদর্শে প্রত্যাবর্তন করে তবেই পৃথিবীর সার্বিক শান্তি শৃংখলা স্থিতিশীলতা আশা করা যায়। বিক্ষুব্ধ এ সমাজ শাসন করার মতো একক নেতৃত্ব এবং গুণাবলী সম্পন্ন নেতার যথেষ্ট অভাব এবং সংকট আছে। মানুষের উপর মানুষের আধিপত্য বিস্তার জোর জবরদস্তি ক্ষমতা ব্যবহারের প্রবণতা সমাজে বেশী। মানুষের উপর মানুষের শাসন জুলুম অত্যাচার থেকে নিস্তার পেতে মহানবীর উন্নত আদর্শ প্রতিষ্টার কোনো বিকল্প নেই। তখন এখন এবং আগামীতেও সমস্তকালের শ্রেষ্ঠ আদর্শের একমাত্র মাপকাঠি বিশ্বনবী। দেড় হাজার বছরের এ পৃথিবী আজ শাসনে শোষণে মানবতার বিপর্য্য় চরমে। তাই আজ মহান নবীর আবির্ভাবের এ মাসে তার প্রতি হাজার লাখো বার দরূদ ও সালাম পেশ করছি। সমগ্র বিশ্ববাসী তাঁর উপর দরূদ সালাম অব্যাহত রেখেছে। তাঁর সৃষ্টি না হলে আকাশ বাতাস মানবজাতি পৃথিবীর কিছুই সৃষ্টি হতো না।

তাঁর সৃষ্টিতে আসমান জমীন, তারা নক্ষত্র আকাশ বাতাস সমস্ত সৃষ্টি আনন্দ উল্লাস ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তাঁর সৃষ্টির প্রতি আনুগত্য ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা মানবজাতির জন্য ইবাদত। আল্লাহর সমস্ত ইবাদতের মধ্যে প্রিয়নবী মুহাম্মদ (স.)এর উপর দরূদ পড়া, তার স্মরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানেই আল্লাহর ইবাদত, সেখানেই মুহাম্মদ (স.) এর উপর দরূদ পাঠ করার বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ যেখানেই আল্লাহ সেখানেই মহানবীর অংশীদারিত্ব আছে। কোনো ইবাদত নবীর পবিত্র দরূদ শরীফ তিলাওয়াত ছাড়া কবুল হয় না। তাই নবীর আগমনে সমস্ত সৃষ্টির আনন্দের সাথে মানবতার আনন্দ উল্লাস কৃতজ্ঞতা ভালোবাসা কিয়ামত পর্য্ন্ত অব্যাহত থাকবে। নবীর প্রতি সম্মান শ্রদ্ধা দরূদ পাঠ ছাড়া কখনো কোনো মুসলমান ঈমানদার হতে পারবে না। সমস্ত বিষয়ের উপর, ধন সম্পদ ছেলে মেয়ে স্ত্রী যাবতীয় সমস্ত কিছুর উপর মুহাম্মদ (স.) প্রতি ভালোবাসা আনুগত্য থাকতে হবে।

সে ভালোবাসা এবং আনুগত্যের মাধ্যমে প্রকাশ পাবে একজন প্রকৃত আশেকে রসূলের। কথায় কাজে নবীর আদর্শের বাস্তবায়ন না হলে সে প্রকৃত রসূলের উম্মত হিসেবে দাবী করা বাস্তব সম্মত হবে না। নিজে এবং পরিবার সমাজের মধ্যে নবীর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই প্রকৃত পক্ষে একজন মুসলমান আল্লাহ এবং রাসূলের আনুগত্যশীল হিসেবে নিজেকে দাবী করতে পারবে। নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট তারিখে কতিপয় কাজ করে সারা বছরের জন্য আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের প্রিয় হওয়া যায় না। নির্ধারিত ইবাদত বন্দেগী সবসময় সারাবছরই করতে হবে, ব্যাক্তি পরিবার সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে, তবেই একজন মুসলমান প্রকৃত ইমানদার মুসলমান হিসেবে নিজের পরিচয় বহন করতে পারে। আসুন মহান প্রিয়নবীর এ আবির্ভাবের এ রবিউল আউয়াল মাসে নতুন করে প্রতিজ্ঞা করি, জীবনের সবক্ষেত্রে প্রিয়নবীর আদর্শ অনুসরণ আর বাস্তবায়ন করে পৃথিবীকে শান্তিময় করে গড়ে তোলার চেষ্টা করি।

লেখক: মাহমুদুল হক আনসারী
গবেষক, প্রবন্ধিক

লাইক দিন

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com