বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০৫:১৯ অপরাহ্ন

English Version
জিকিরে আসবে প্রশান্তি

জিকিরে আসবে প্রশান্তি

Zikir-Islam



  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাহমুদুল হক আনসারী : মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। বলা হয়েছে আশরাফুল মাখলুকাত। সমস্ত সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানবজাতি। একমাত্র মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন সৃষ্টিকর্তার ইবাদত বন্দেগী জিকির ইয়াদ আর স্মরণ করার জন্য। মানুষের নির্দিষ্ট জীবনে পদে পদে সৃষ্টিকর্তার স্মরণের মাধ্যমে তার পুরো জীবন হবে ইবাদতের জীবন। মানুষের দৈনন্দিন জিন্দেগী পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়।

পরিবার সমাজ রাষ্ট্রের নানাবিদ কর্তব্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মানুষ সবসময় চিন্তা পেরেশানি হতাশায় নিমজ্জিত হয়। সকাল বিকাল সন্ধ্যা সারাক্ষণ মানুষের দৈনন্দিন পারিবারিক সমস্যার শেষ থাকে না। কিছু সমস্যা ব্যাক্তিগত, কিছু পারিবারিক, কিছু সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়। মানুষ কোনোদিন তার সমস্ত চাহিদা বা প্রয়োজন শেষ করতে পারে না। মানুষের চাহিদা প্রয়োজন সম্পন্ন করতে তার সীমাহীন শ্রম বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করতে হয়। তারপরও অনেক সময় তার চাহিদা মতো অথবা পারিবারিক সমস্যা পূরণে ঘাটতি থেকে যায়। এতে করে মানুষের চিন্তা আর পেরেশানির শেষ থাকে না। কোনোদিন মানুষের সমস্ত সমস্যা পূরণ হবার নয়। জীবন যুদ্ধ যতদিন থাকবে যুদ্ধ সংগ্রাম সমস্যা ততদিন মানুষের জীবন সঙ্গী হিসেবে থাকবে।

এ থাকাটা মানুষের মানবীয় পারিবারিক সঙ্গী। ফলে মানুষ তার ও পরিবার সমাজের চাহিদা উদ্দেশ্য পূরণ করতে না পেরে সীমাহীন অস্থিরতায় ভোগে। জীবনের অস্থিরতার মহা ঔষুধ হচ্ছে আল্লাহ ওয়াতাআলার স্মরণ আর জিকির করা। আল্লাহর জিকির করলে মানবের অন্তর প্রশান্ত হয়। স্থিতিশীল থাকে। হতাশা দুশ্চিন্তা অস্থিরতা দূরিভূত হয়। তবে এ জিকির হতে হবে শরিয়ত সম্মত ভাবে।আল্লাহর সমস্ত ইবাদতই জিকির। নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত, তিলওয়াতে কোরআন, নফল নামাজ ও তাসবীহ ইত্যাদি আল্লাহর জিকিরে অন্তর্ভূক্ত। সময় মতো নামাজ ফরজ রোজা হজ্জ ফরজ হলে আদায় করা, সামর্থ্য থাকলে যাকাত প্রদান করা আল্লাহর জিকির। মানবকল্যাণে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করাও জিকির। ভালো চিন্তা করা, সমাজ রাষ্ট্র উন্নয়নে গবেষণা বাস্তবায়ন ইবাদতের অন্তর্ভূক্ত। সৃষ্টির কল্যাণে মানবতার চিন্তা গবেষণা বাস্তবায়ন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। ন্যায় নীতি আদর্শ মানবতার সেবার উদ্দেশ্যে সমস্ত কর্মসূচী ইবাদতের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত হবে।

কথা হচ্ছে অন্তরের প্রশান্তি জিকির নিয়ে। যাদের অন্তরে সর্বদা অস্থিরতা বিরাজ করে তাদের জন্য মহাষৌধ হচ্ছে আল্লাহর জিকির। ব্যাপকভাবে বললে মানবতার কল্যাণ সাধনে সমস্ত চিন্তা চেতনা বাস্তবায়ন জিকিরের মধ্যে গণ্য হয়। যারা হালাল অর্থ খরচ করে পরিবার সমাজ রাষ্ট্রের মানবতার উন্নয়ন এগিয়ে আসবে তাদের সমস্ত কর্ম ইবাদতে শামিল হবে। এতে করে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি প্রতিষ্টান তার কৃতকর্মের জন্য পুরষ্কিৃত হবে। অপরদিকে আল্লাহর জিকির থেকে বিরত থাকার কারণে মানুষ তার ব্যাক্তিগত পারিবারিক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে নিমজ্জিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মধ্যে তার অবস্থান মতো যোগ্যতা ও দায়িত্বের মাপকাঠির ভিত্তিতে পরিবার সমাজ রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্যাক্তি পরিবার রাষ্ট্র যার নিয়ন্ত্রণে থেকে জীবন যাপন করবে অনূরূপভাবে শাস্তি ও কল্যাণ আল্লাহর পক্ষ থেকে পেতে থাকবে। নি:সন্দেহে মানুষ আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। মানুষের আগমণ ও বিদায় সবকিছুর একটা নির্দিষ্ট সময় বাঁধা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মানুষকে তার সমস্ত উদ্দেশ্য আশা কর্মসূচী সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জন করে নিতে হবে। সে সময়ের মধ্যে সন্তুষ্টি অর্জন করতে ব্যার্থ হলে তার পরকাল হবে ব্যার্থ একটি দু:খের জীবন। সে হিসেবে মানবজাতির সমস্ত সময় জীবনের গুরুত্ব অপরিসীম।

এ বিবেচনায় মানুষ তার জীবনের উদ্দেশ্য এবং কর্মসূচী সম্পর্কে অবগত হলে অবশ্যই তার জীবন হবে সুন্দর ও আলোকিত। আর এ আলোকিত জীবন পেতে হলে তাকে অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার সাথে সম্পর্ক রাখতে হবে। সম্পর্ক হবে সৃস্টিকর্তার জিকিরের মাধ্যমে। সৃষ্টিকর্তার নির্দিষ্ট ইবাদত বন্দেগী জিকির জীবনসঙ্গী হিসেবে করতে পারলে তাহলে সে মানুষ হবে পুরষ্কৃত। তার দৈনন্দিন জীবন পারিবারিক সামাজিক রাষ্ট্রীয়ভাবে আলোকিত হবে। সে ব্যাক্তির পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রে কোনো সমস্যা অভাব থাকবে না। সঠিকভাবে আল্লাহর বান্দা মানবজাতি আল্লাহর দেয়া বিধান ও সঠিক পন্থায় নিজের চলা এবং রাষ্ট্রতে পরিচালনা করলে সেখানে কোনো ধরনের দুর্যোগ অস্থিরতা ও মানব অশান্তি থাকবে না। ব্যাক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে শান্তিতে রাখতে চাইলে সেখানে আল্লাহর জিকিরে এবং তাঁর সন্তুষ্টিতে কাজ করতে হবে। মানবতার বিরোদ্ধে সামাজিক অস্থিরতা অরাজকতা সৃষ্টিতে কোনো কাজ করা যাবে না।

সেখানে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি আর সমর্থন থাকবে না। সে সমাজে নেমে আসবে দুর্যোগ অভাব অনটন এবং অস্থিরতা। পরিবার থেকে রাষ্ট্র প্রধান পর্য্ন্ত নিয়ম মেনে জীবন সমাজ পরিচালনা করতে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্রে অন্যায় জুলুম ব্যাভিচার অত্যাচার করা যাবে না। এসব অপরাধের শাস্তি ঘুরে ফিরে অত্যাচারীর উপর ফেরত আসবে। অনন্তকালে সমস্ত অপরাধের শাস্তি অত্যাচারীকে ভোগ করতে হবে। মানুষ ও সমাজকে অন্যায়ভাবে শোষণকারী নেতা সর্দার কেউ সেদিনের শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না। তাই সমাজ ও মানবতার উন্নয়নে সমস্ত কর্মসূচী হবে ইবাদতে শামিল, আর তার পুরষ্কার হবে প্রশান্তি এবং অনন্তকাল পর্য্ন্ত শান্তিময় জীবন। এর বিপরীত মানবতার বিরোদ্ধে জুলুম অত্যাচার নিপীড়ন অশান্তি সৃষ্টি করলে তার জন্য রয়েছে দীর্ঘকাল পর্য্ন্ত কঠিন শাস্তি, ফলে তার জীবন সর্বদা অশান্তি আর দুশ্চিন্তা অস্থিরতা লেগেই থাকবে। তাই ব্যাক্তি সামাজিক পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি প্রশান্তি প্রতিষ্টা করতে হলে সমস্ত কাজে কর্মে আল্লাহর জিকির ইবাদতের মাধ্যমে কর্মসূচীর বাস্তবায়ন থাকতে হবে। তবেই শান্তি প্রশান্তি অর্জনে সক্ষম হবে। দীর্ঘ শান্তি দুশ্চিন্তা মুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে জিকিরের বিকল্প নেই।

লেখক : মাহমুদুল হক আনসারী
গবেষক, প্র্রাবন্ধিক

লাইক দিন

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com