আজ মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

দুই মেয়েকে যৌনপল্লীতে বেচে দিলেন মা!

দুই মেয়েকে যৌনপল্লীতে বেচে দিলেন মা!

প্রতীকী ছবি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

দরদাম করে ফুটফুটে দুই মেয়েকে যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দিলেন এক মা। দাদিমার অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হলো সেই মাকে। তিনি নিজের মেয়ের বিরুদ্ধেই হাইকোর্টে গেলেন। তার আর্জি, খুঁজে দেয়া হোক আমার নাতনিকে। মা-মেয়ের সম্পর্ক এখন সাপে-নেওলে।

প্রায় ১৬ বছর আগে ভারতের দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের বরেন মণ্ডলের (নাম পরিবর্তিত) সঙ্গে বিয়ে হয় স্থানীয় কবিতা হালদারের (নাম পরিবর্তিত)। তাদের দুই মেয়ে হওয়ার পরই একদিন নিখোঁজ হয়ে যান বরেন। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর এলাকারই এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে কবিতার।

তারপর দুই ও তিন বছরের দুই মেয়েকে নিজের মায়ের কাছে রেখে ওই যুবকের সঙ্গে ঘর ছাড়েন কবিতা। দিল্লিতে গিয়ে তাকে বিয়ে করে তিনি হন তানিয়া খান (নাম পরিবর্তিত)। তার মা সুমনা হালদার (নাম পরিবর্তিত) পরিচারিকার কাজ করেন। দিন চলে অতি কষ্টে। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে দুই নাতনিকে ঠাকুরপুকুরের আবাসিক স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। সেই দুই মেয়ে এখন তেরো ও বারো বছরের কিশোরী। অষ্টম ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়া দুই বোনের বড়জন আবার খেলাধূলায় দক্ষ। বাস্কেটবল খেলে। রাজ্যস্তরে প্রতিনিধিত্ব করেছে। অনূর্ধ্ব ১৪ জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয় সম্প্রতি। কিন্তু তাতে দরকার বার্থ সার্টিফিকেট।

সেই বার্থ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে গিয়েই ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। দিদিমার অভিযোপত্রের বয়ান অনুযায়ী, দুই মেয়েকে রেখে গেলেও তাদের জন্মের সার্টিফিকেট নিয়ে গিয়েছিলেন কবিতা। তাই তাকে ফোন করে মেয়ের বার্থ সার্টিফিকেট চাইলে তিনি মাকে মেয়েদের নিয়ে দিল্লিতে তার বাড়িতে আসতে বলেন। এরপর দুই নাতনিকে নিয়ে গত বছর ২৫ ডিসেম্বর কলকাতা থেকে ট্রেনে ওঠেন দিদিমা। পরের দিন দিল্লি স্টেশন থেকে তাদের নিয়ে যান মেয়ে। একদিন সেই বাড়িতে থাকার পর এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে মা ও দুই মেয়েকে নিয়ে বের হন কবিতা। দিল্লির ঠিক কোথায় নিয়ে গিয়েছিল তা বলতে না পারলেও মেয়ে তাদের একটি ছয়তলা বাড়িতে নিয়ে যায় বলে অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন সুমনা।

তার বয়ান অনুযায়ী, সেই বাড়ির একেবারে উপরের তলার একটি ঘরে নিয়ে আমাদের বসানো হয়। তারপর মেয়ে বেরিয়ে যায়। এরই মধ্যে ছয়-সাতজন বিভিন্ন বয়সের লোক ওই ঘরে এসে বসে। তারা দুই নাতনিকে জরিপ করতে থাকে। পরিবেশ অন্যরকম বুঝে মেয়ের খোঁজ করতেই কিছু সময় পর ওই ঘরে ফিরে আসে দিদিমা। তিনি নাতনিদের নিয়ে ফিরে যেতে চাইলে এবার মুখ খোলেন মেয়ে। তিনি বলেন, দুই মেয়েকে এখানেই বিয়ে দেয়া হবে। বৃদ্ধার অভিযোগ, হিন্দিতে কথা হলেও ১০ লাখ টাকা দেয়া নিয়ে যে ওই লোকদের সঙ্গে মেয়ের আলোচনা হচ্ছিল তা তিনি বুঝেছিলেন। তিনি সব বুঝে সেখান থেকে বেরোনোর চেষ্টা করলে তাদের ওই ঘরেই আটকে রাখা হয়।

দু’জন পাহারায় থাকে। ঘরে থাকা পাহারাদাররা ঘুমে ঢলে পড়তেই নাতনিদের নিয়ে ভোররাতে কোনোমতে বড় রাস্তায় এসে পড়েন তিনি। সেখান থেকে পৌঁছেন দিল্লি স্টেশনে। স্টেশনে পৌঁছানোর মুখেই সেই ঘরের দুই পাহারাদার এসে ধরে ফেলে দুই নাতনিসহ বৃদ্ধাকে। কেড়ে নেয় বৃদ্ধার বড় নাতনিকে। কেউ কিছু বোঝার আগেই ওরা চলে যায়। বৃদ্ধা বলেন, ট্রেন থেকে নেমে যে অভিযোগ করব, সেই সাহসও পাইনি। কারণ তখন ছোটটাকে ধরে নিয়ে যায় কিনা, সেই আতঙ্কও ছিল। ছোট নাতনিকে আঁকড়ে কলকাতায় ফেরেন মহিলা। জয়নগরে ফেরার পর স্থানীয় নেতাদের সঙ্গেই জয়নগর থানায় গিয়ে সব ঘটনা জানান। কিন্তু এখানে কিছু করা যাবে না বলে দায় এড়ায় সবাই।

এরই মধ্যে ৫ জানুয়ারি একটি ফোন আসে সুমনার কাছে। ‘দিল্লি পুলিশ থেকে ফোন করছি’ দাবি করে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, তার নাতনিকে তারা পেয়েছে। এক যুবককেও আটক করা হয়েছে। ‘কিন্তু কয়েকদিন আগে দিল্লির গোটা ঘটনাক্রমে আতঙ্কিত মহিলা তাদের জয়নগর থানায় ফোন করার পরামর্শ দেন। তার বক্তব্য, আসলে ফোন কে করেছে তা তো বুঝতে পারছি না। তাই পুলিশের সঙ্গ ছাড়া আর দিল্লি যাওয়ার ভরসা পাইনি।’ তার আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ রায় চৌধুরী বলেন, পুলিশের দিক থেকে কোনও সাহায্য না পাওয়ায় ৭ জানুয়ারি মহিলার তরফে স্থানীয় থানা, পুলিশ সুপার, জেলাশাসক, সিআইডি থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যন্ত সর্বত্র চিঠি দিয়ে গোটা ঘটনা জানিয়ে সাহায্য চাওয়া হয়।

‌’কিন্তু সাহায্য তো দূরের কথা, চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার পর্যন্ত করা হয়নি। তাই প্রতিকারের আশায় শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্ভবত আগামী বৃহস্পতিবার বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির এজলাসে মামলাটি শুনানি হবে। জয়নগর থানার এক পুলিশ অফিসার বলেন, যেখানকার ঘটনা সেখানেই অভিযোগ জানানো উচিত। যদিও গোটা বিষয়টি শোনার পর ওই অফিসারের বক্তব্য, থানায় এমন অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেননি। এবার এলে অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

জনসম্মুখে পুরুষ নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

Nobobarta on Twitter

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com