নাগরিকত্ব আইন ইস্যুতে মমতার পক্ষে পশ্চিমবঙ্গ : জরিপ | Nobobarta
Manobata

আজ বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২০, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন

নাগরিকত্ব আইন ইস্যুতে মমতার পক্ষে পশ্চিমবঙ্গ : জরিপ

নাগরিকত্ব আইন ইস্যুতে মমতার পক্ষে পশ্চিমবঙ্গ : জরিপ

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে আন্দোলনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ৫৯ শতাংশ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করেন। আর ৫১ শতাংশ মনে করেন, এই আন্দোলনের ফলে রাজনৈতিক সুবিধা পাবে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। এবিপি আনন্দ এবং সিএনএক্স-এর যৌথ জনমত জরিপে এই ফলাফল সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার।

জরিপে দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গের ৫০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ধর্মীয় বিভাজনের জন্যই মোদি সরকার নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করেছে। আবার ৪৩ শতাংশ মানুষের ধারণা, এতে লাভবান হবে বিজেপি। জরিপে ৫৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা চান না দেশে নাগরিক তালিকা (এনআরসি) চালু হোক। অবশ্য এনআরসি চেয়েছেন ৪১ শতাংশ। জরিপ অনুযায়ী, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতি সমর্থন রয়েছে ৪৩ শতাংশ মানুষের। আবার ৬৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, মন্দা, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব থেকে নজর ঘোরাতে নরেন্দ্র মোদি সরকার এনআরসি এবং সিএএ সামনে এনেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৭১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সিএএ’র বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলনে অবশ্যই অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি সরকার। আর ৫৯ শতাংশ মনে করেন, এই আন্দোলনের জেরেই এনআরসি নিয়ে নিজেদের অবস্থান বদলাতে বাধ্য হয়েছেন মোদি ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। তবে ৬৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন, নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে বাসে-ট্রেনে আগুন লাগানোর মতো হিংসাত্মক পদ্ধতি নেওয়া ঠিক হয়নি। যদিও এই ধরনের জরিপকে গণভোট হিসেবে ধরা উচিত নয়, তবু জনমতের একটি প্রতিফলন এতে পাওয়া যায়। গত সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার চালানো এই জরিপে ২,১৩৪ জন অংশ নিয়েছেন। জরিপের ফলকে স্বাগত জানিয়ে তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এতেই প্রমাণিত আমরা ঠিক পথে চলছি। সমর্থনের হার দিনে দিনে আরও বাড়বে।’

তবে এই জরিপ মানতে রাজি নয় সিপিএম ও কংগ্রেস। সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘প্রতিদিন এই আন্দোলনের চেহারা বদলাচ্ছে। সমীক্ষায় তা ধরা পড়বে না। দুই সরকারের ওপর আস্থা চলে যাওয়ায় মানুষ পথে নেমেছে। সেই মেজাজ এভাবে বোঝা কঠিন।’ কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অধীর চৌধুরীও বলেন, ‘মোদী-দিদি বৈঠকের পরে পরিস্থিতি বদলে গেছে। অনেকেই মনে করছেন, তৃণমূলের বিজেপি-বিরোধিতা আসলে নাটক। নির্বাচনও অনেক দূরে। এখনই এ সব বলা যাবে না।’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘যদি এত মানুষ সিএএ’র বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতো, তাহলে আমরা তো হাঁটতেই পারতাম না। উদ্বাস্তু ও মতুয়াদের এই সমীক্ষায় ধরা হয়েছে বলে মনে হয় না।’


Leave a Reply



Nobobarta © 2020। about Contact PolicyAdvertisingOur Family DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com