আজ বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:৫০ অপরাহ্ন

অনলাইন পোর্টালগুলোকে জবাবদিহিতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে : আইনমন্ত্রী

অনলাইন পোর্টালগুলোকে জবাবদিহিতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে : আইনমন্ত্রী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য রেজিস্ট্রেশনের উদ্যোগ ও অনলাইন নীতিমালা প্রণয়নের জন্য সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। শনিবার (০৬ এপ্রিল) রাজধানীর কসমস সেন্টারে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

ভুয়া খবরের প্রচার ও প্রকাশ বন্ধে সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন প্রণয়নের কাজ করছে বলে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ফেইক নিউজের প্রচার ও প্রকাশ বন্ধে সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন প্রণয়ন, সাইবার আদালত গঠন এবং গুজব প্রতিরোধ ও অবহতিকরণ সেল গঠনের পাশাপাশি অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য রেজিস্ট্রেশনের উদ্যোগ ও অনলাইন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে।

আনিসুল হক বলেন, ফেইক নিউজ বা ভুয়া খবর বাংলাদেশের নতুন কোনো শব্দ বা ধারণা নয়। ‘খবর’ ও ‘ভুয়া খবর’ অনেকটা সত্য ও মিথ্যার মতোই সমান্তরালভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। আপনাদের নিশ্চয়ই জানা আছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী অনেক ফেইক নিউজ ছড়িয়েছিলো। ‘তারা আমাদের মহান স্বাধীনতাকে নিয়ে ফেইক নিউজ ছড়িয়েছিলো, মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানকে নিয়ে ফেইক নিউজ ছড়িয়েছিলো, বঙ্গবন্ধুর অবদানকে নিয়ে ফেইক নিউজ ছড়িয়েছিলো। এমনকি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যও তারা দেশ ও বিদেশে অনেক ফেইক নিউজ ছড়িয়েছে এবং তা বিভিন্ন প্রকৃতিতে ছড়িয়েছে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে পাঁচটি উদ্দেশে ভুয়া খবর প্রকাশ করা হয়। উদ্দেশ্যগুলো হলো- সাম্প্রদায়িক গুজব ছড়ানো, উগ্র রাজনৈতিক ধর্মীয় মিথ্যাচার প্রচার, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং অবৈজ্ঞানিক জল্পনা-কল্পনা প্রচার। এসব উদ্দেশ্যের মধ্যে পাঁচ নম্বর কারণ ক্ষতিকর না হলেও বাকি চারটি ভুয়া খবরের কারণে জনমনে সহিংস প্রভাব পড়ে।’

বিগত প্রায় দুই দশকে আমাদের গণমাধ্যমের প্রকৃতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফেইক নিউজের প্রকৃতিও পরিবর্তন হয়েছে মন্তব্য করে আইনমন্ত্রী বলেন, আবার গণমাধ্যমের প্রকৃতি পরিবর্তন হওয়ায় ফেইক নিউজ প্রচারের ধরনও পরিবর্তন হয়েছে। এখন শুধু ট্র্যাডিশনাল সংবাদমাধ্যমে নয় বরং অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক টুইটার বা ইউটিউবের মাধ্যমে ভুয়া খবর, ইমেজ, ভিডিও বা হেট স্পিচ ছড়িয়ে পড়ছে এবং এসবের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনের জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।

‘ভুয়া খবর ও ঘৃণামূলক বক্তব্য, কারণ ও পরিণাম; কিভাবে তা আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধংস করছে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ, সিঙ্গাপুর এর প্রিন্সিপাল রিসার্চ ফেলো এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদষ্টো ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রথম বক্তা ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাকাউন্টিবিলিটি অ্যান্ড ইন্টারনেট ডেমোক্রেসি-এর প্রেসিডেন্ট এবং ইউরোপ ও আইটি আইন বিশেষজ্ঞ ড্যান শেফেট। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কসমস ফাউণ্ডেশনের চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লাহ খান।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

জনসম্মুখে পুরুষ নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

Nobobarta on Twitter

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com