সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন

English Version
সংবাদ শিরোনাম :
সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা : আইনের বাস্তবায়ন জরুরি! মোস্তাফিজের অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে বাংলাদেশের জয় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা জাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশের ইমরুল-মাহমুদউল্লাহ নৈপুণ্যে টাইগারদের চ্যালেঞ্জিং স্কোর শ্রীনগরে হেরোইনসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার রাজাপুরে কবর জিয়ারত এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুজ্জামান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ পিবিআই’র তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন রিনা ষড়যন্ত্রকারীরা রাজনীতি নয় দুর্নীতির রাঘব-বোয়াল -মোমিন মেহেদী
তেঁতুলিয়াকে বদলে দিচ্ছে চা বাগান

তেঁতুলিয়াকে বদলে দিচ্ছে চা বাগান



রবিউল ইসলাম, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া হচ্ছে উত্তরবঙ্গের শেষ উপজেলা। তেঁতুলিয়া মানুষ জীবিকার জন্য পেয়েছে অনেক ধরনের পথ। ফসল চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো এখানকার কৃষক। এখন তেঁতুলিয়ার মাটিতে পাওয়া যাচ্ছে পাথর। পাথর উত্তোলন করে চলছে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা, কিন্তু কেউ কখনো ভাবে নি তেঁতুলিয়ায় চা চাষ হবে। ভাবে নি কখনো তেঁতুলিয়াকে বদলে দিবে চা বাগান।

১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. রবিউল হোসেনের তত্ত্বাবধানে সীমান্তঘেঁষা উপজেলা তেঁতুলিয়ায় লাগে চা চাষের ছোয়া। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও চা চাষ বাণিজ্যিক রূপ লাভ করে ২০০০ সালের দিকে।

তেঁতুলিয়ায় সফলতার পর পঞ্চগড়ের বিস্তীর্ণ সমতল ভূমিতে বিস্তার লাভ করেছে চা-বাগান। অর্থকরী ফসল সবুজ চায়ের আবাদে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। সিলেট কিংবা চট্টগ্রামে উঁচু-নিচু ভূমি থাকলেও এখানকার সব বাগান একেবারেই সমতল। সমতলের এ চা চাষের সফলতার প্রভাব ফেলেছে গোটা দেশের চা-শিল্পে। স্বাদেও অতুলনীয় পঞ্চগড়ের জেলার চা। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বর্তমানে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও জাপানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও হচ্ছে।

তেঁতুলিয়ার মাটি পরিত্যক্ত থাকতো বছরের পর বছর। পতিত জমি ব্যবহার করা হতো গো-চারণভূমি হিসেবে। অথচ এই পতিত জমির পাশেই সীমান্তের ওপারে একই জমিতে চা চাষ করতো ভারতীয়তা। তা দেখে চা চাষে আগ্রহ বাড়ে তেঁতুলিয়ার মানুষের। মাত্র ক’বছরেই তেঁতুলিয়া উপজেলার বিশাল ভূমি চায়ের সবুজ পাতায় ভরে যায়। প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এই চা বাগানে। আগে যেখানে নারীরা ঘর থেকে বের হতো না, সেই নারীরাই এখন চা-শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংসারের হাল ধরেছেন। জেলায় চা চাষ হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নয় মাসের আয়ের পথ তৈরি হয়েছে। হয়েছে স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানও। ফলে এই এলাকার জমির দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।

সমতলেও চা বাগান দেখতে প্রতি নিয়ত আসছে পর্যটক। তারা মুগ্ধ তেঁতুলিয়ার সমতল চা বাগান দেখে।

বাংলাদেশ চা বোর্ড, পঞ্চগড়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ শামীম আল-মামুন জানান, পঞ্চগড় জেলায় ৫ হাজার ১৯৯.৭৯ একর জমি চা চাষের আওতায় রয়েছে। এ পর্যন্ত নিবন্ধিত ছোট চা-বাগান ৬৬২টি, অনিবন্ধিত প্রায় ৩ হাজার ৫শ। নিবন্ধিত বড় চা-বাগান ৭টি ও অনিবন্ধিত বড় চা-বাগান ১৮টি।

পঞ্চগড় জেলায় ২০১৭ সালে তৈরি চা উৎপাদন হয়েছে ৫৪ দশমিক ৪৬ লাখ কেজি। চলতি বছর প্রায় ৭০ লাখ কেজি উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। পঞ্চগড়ে চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার সংখ্যা রয়েছে ২১টি। তবে বর্তমানে চালু রয়েছে ১২টি।

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com