আজ বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ০৭:০২ অপরাহ্ন

আগোরা-প্রিন্স-স্বপ্ন ও মিনায় পচা মাংস!

আগোরা-প্রিন্স-স্বপ্ন ও মিনায় পচা মাংস!

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় সেভ অ্যান্ড ফ্রেস নামে একটি হিমাগারে কার্টনের পর কার্টন থরে থরে সাজানো আছে বিদেশি মাছ, মাংস ও চকোলেট। সেখানে আছে কোরবানির ঈদের পর সৌদি থেকে আসা দুম্বার মাংস। সেগুলো গরীব মানুষের জন্য বিলি করা মাংস ছিল। এসব খাবারের মেয়াদ ৮ বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও পচা খাদ্য মজুদ রাখার অভিযোগের কারণে ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে। হিমাগারগুলোকে আপাতত সিলগালা করা হয়েছে। রাজধানীর নামিদামী সুপারশপ আগোরা, প্রিন্স বাজার, স্বপ্ন ও মিনা বাজারসহ বেশ কয়েকটি সুপার শপে এসব হিমাগার থেকে মাছ ও মাংস পৌঁছানো হয়ে থাকে।

মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল থেকে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে শুরু হওয়া অভিযানটি রাত ১২টা পর্যন্ত চলে। র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার (এসপি) মহিউদ্দিন ফারুকী ও প্রাণিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযানে সহায়তা করেন।

অভিযান শেষে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম ব্রেকিংনিউজকে বলেন, অভিযান শুরুর সময় মনে হয়েছিল পচা মাংস আর কতটুকু মজুদ রাখতে পারে। কিন্তু হিমাগারগুলোতে প্রবেশের পর চোখ উল্টে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হলো। পচা মাংসের গন্ধে সেখানেই থাকাই মুশকিল হয়ে গেলো। থরে থরে সাজানো মাংস আর মাংস। মনে হচ্ছিল, সারা দেশের মাংস মনে হয় এসব কারখানা থেকে সরবরাহ করা হয়। পরিমাণ এতোটাই বেশি ছিল। মহিষের মাংস, দুম্বার মাংস, খাসির মাংস, গরুর মাংস সবই ছিল পচা অবস্থায়। সেখানে যে রক্তগুলো রয়েছে সেগুলোও দুর্গন্ধে ভরা।

তিনি বলেন, এতো দুম্বার মাংস কোথা থেকে এসেছে তা জানা যায়নি। একই সাথে সামুদ্রিক ও দেশি অনেক প্রকার মাছ পাওয়া যায়। যেগুলোর প্যাকেটের গায়ে কোনো তারিখ নেই। মজুদের তারিখ অথবা মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ কোনটাই নেই। পাওয়া যায় এক বছর আগের সবজিও। সব মিলিয়ে ৫০০ মণ দুম্বা, ৩০০ মণ মহিষের মাংস, ১২০০ মণ পচা খেজুর ও ১০০ মণ কিসমিস জব্দ করা হয়। পচা মাংস ও দ্রব্যাদি রাখার অভিযোগে ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে। হিমাগারগুলোকে আপাতত সিলগালা করা হয়েছে।

অভিযানে সহযোগিতায় থাকা র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার (এসপি) মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, রাজধানীর নামিদামী সুপারশপ আগোরা, প্রিন্স বাজার, স্বপ্ন ও মিনা বাজারসহ বেশ কয়েকটি সুপার শপে এসব হিমাগার থেকে মাছ ও মাংস পৌঁছানো হয়ে থাকে। এছাড়া রাজধানীর অন্তত ৩০০টির মতো ছোট বড় ফার্স্ট ফুডের দোকানে এখান থেকে মাংস ও মাছ সরবরাহ করা হয়। যারা এসব হিমাগার থেকে মাংস মাছ কেনে তাদের অন্তত ২৭০ টি দোকানের নামে করা মেমো পাওয়া গেছে। এসব পচা মাংস দিয়েই চাপ, কাবাবসহ বিভিন্ন খাদ্য তৈরি হয়ে থাকে।

এখান থেকে কেনার কারণ কি জানতে চাইলে র‌্যাবের পুলিশ সুপার বলেন, বাজারে তাজা মাংস কিনতে লাগবে ৫০০ টাকা। এখানে কিনলে মাত্র ৩০০ টাকায় কিনতে পারছে। সামুদ্রিক মাছ যেখানে ৪০০ টাকা কেজি লাগে সেখানে মাত্র ২০০ টাকায় কিনতে পারছে। ফার্স্টফুডের দোকানগুলো অল্পতেই বেশি লাভ করতে পারছে। আবার হিমাগারগুলো কমে দিতে পারছে, তার কারণ বেশির ভাগই তো চুরি করা মাংস। দুম্বার মাংস কিনেছে হয়তো অল্প দামের কোনো কর্মকর্তার কাছে। আবার মহিষের মাংস বিচ্ছিন্নভাবে কম দামে সংগ্রহ করেছে। এমনও হতে পারে তারা মরা গরু মহিষের মাংস সংগ্রহ করেছে। যদিও বিষয়টি তদন্ত চলছে।

৫০০ মণ দুম্বার মাংস কোথা থেকে এসেছে জানতে চাইলে র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম এর উৎস জানাতে পারেননি। তবে র‌্যাবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দুম্বার মাংসগুলো কোরবানির ঈদের পর সৌদি থেকে আসা। সেগুলো গরীব মানুষের জন্য বিলি করা মাংস ছিল। কিন্তু সেখানে (হিমাগারে) কিভাবে এলো এসব মাংস তা ভাবিয়ে তুলছে র‌্যাবের গোয়েন্দাদের। কোথা থেকে কিভাবে হিমাগারে গরীব মানুষের জন্য বিলি করা দুম্বার মাংস হিমাগারে গেছে, তা বের করার জন্য র‌্যাব কাজ করছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। সেভ অ্যান্ড ফ্রেস হিমাগারের কর্মচারী নয়ন জানান, হিমাগার কর্তৃপক্ষের কোনো নিজস্ব মালামাল এখানে নেই। ফুড কোম্পানি ও মাছ ব্যবসায়ীরা ভাড়া নিয়ে এখানে মালামাল রাখেন, আবার নিয়ে যান। বিক্রি না হলে আবার এখানে রেখে যান।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন




Leave a Reply

জনসম্মুখে পুরুষ নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

Nobobarta on Twitter

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com