বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের হাতে এক নব্য জেএমবি সদস্য গ্রেফতার | Nobobarta

আজ বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০৮:১৯ অপরাহ্ন

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের হাতে এক নব্য জেএমবি সদস্য গ্রেফতার
বরিশালে এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের হাতে জেএমবি সদস্য গ্রেফতার

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের হাতে এক নব্য জেএমবি সদস্য গ্রেফতার

Rudra Amin Books

বরিশাল প্রতিনিধি :

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত নব্য জেএমবি’র এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা। এ ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন তারা। গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্য আবু নাঈম মোল্লার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে কথিত ইসলামের নামে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন জেহাদী বই, জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি করে বিভিন্ন প্রচারপত্র, মোবাইল ফোন, সিমকার্ডসহ বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত। দশ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে রবিবার সকালে জেএসবি’র সদস্য আবু নাঈমকে বরিশাল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালত তার জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, অর্গানাইসড ক্রাইম, ফরেনসিক ও টেরর ফিনান্স উইং, এন্টি টেরোরিজম (এটিইউ) ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিব উজ্জামানের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি দল ঢাকা থেকে শনিবার বিকেলে সরাসরি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে জসীম সেরনিয়াবাতের মালিকানাধীন ‘মেসার্স মা মেডিকেল হল’ নামের ঔষধের দোকানে অভিযান চালিয়ে নব্য জেএমবির সদস্য আবু নাঈমকে (২০) গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত আবু নাঈম গৈলা ইউনিয়নের পশ্চিম সুজনকাঠী গ্রামের নজরুল ইসলাম মোল্লা ও তানিয়া আক্তারের ছেলে এবং সরকারী শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ডিগ্রী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। নাঈম উল্লেখিত ঔষধের দোকানে কর্মচারীর হিসেবে গত তিন মাস যাবৎ কাজ করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত নব্য জেএমবি নাঈম মা মেডিকেল হলে চাকুরীর আগে উপজেলা সদরের নূপুর ফার্মেসীতেও দীর্ঘদিন কর্মরত ছিল। হলি আর্টিজান হামলার সময় সে ঢাকাতে কর্মরত ছিল। তখন থেকেই ফেসবুক ভিত্তিক একটি জেহাদী গ্রুপের সাথে সদস্য হিসেবে জড়িয়ে পরে। তার যখন তখন ঢাকায় যাতায়াত  ছিল বলে জানা গেছে। তার বাবা নজরুল ইসলাম থানার সামনে নগরবাড়ি রোডে একটি চায়ের দোকান চালায়। নাঈমের পরিবার পূর্বে উজিরপুর উপজেলার সাতলা নয়াকান্দি এলাকায় বসবাস করত।

এ ঘটনায় এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের (এটিইউ) এসআই অজিত কুমার দাশ বাদী হয়ে শনিবার রাতে আগৈলঝাড়া থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী ১৩) এর ৮/৯/১০/১৩ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন, নং-৩ (৮.২.২০)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ)-র ইন্সপেক্টর মো. খায়রুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত নাঈমকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে রবিবার সকালে বরিশাল আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এজাহারের বরাত দিয়ে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ৮ জানুয়ারি বিকেলে নিষিদ্ধ ঘোষিত নব্য জেএমবি সদস্যরা ওই ফার্মেসীতে একত্রিত হয়ে মিটিং করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেই খবরে উর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে মা মেডিকেলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নব্য জেএমবির অন্যতম সক্রিয় সদস্য নাঈমকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি অত্যাধুনিক এন্ড্রয়েড মোবাইল উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক তাকে নিয়ে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নাঈমের বাড়ি থেকে ৬২৪ পৃষ্ঠার “নেদায়ে তাওহীদ”, ৩৪ পৃষ্ঠা “জিহাদী প্রশিক্ষণের গুরুত্ব” ফটোকপি, “একাকী জিহাদ” তান্ডত ও তান্ডত বাহিনীর বিরুদ্ধে একাকী জিহাদের দলিল প্রমাণ, আমি মুসলিম জিহাদের জন্য ট্রেনিং বা প্রস্তুতি পর্ব-১ থেকে ১২ পর্ব এবং জিহাদে প্রাথমিক চিকিৎসার ৩১ পাতা ফটোকপি, নাঈমের ব্যবহৃত ছদ্মনামে ফেইসবুক আইডি “আমি মুসলিম (প্রতিবাদী) জিহাদ সংক্রান্ত ২৬ পৃষ্টার কাগজপত্র, ব্যক্তিগত প্রতিবেদন ফরম ও ফটোকপি ৬ পাতাসহ বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত নব্য জেএমবি সদস্য নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মো. খায়রুল ইসলাম আরও জানান, নাঈম নিজের ফেইসবুক আইডি থেকে “আমি মুসলিম” (প্রতিবাদী লেখক) এর মাধ্যমে দেশ থেকে ইসলাম বিরোধী কাজ কাজ দূর করে যেকোন মূল্যে কথিত ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্টা করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। বিভিন্ন অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মতবাদ প্রচারের জন্য বিভিন্ন ধরণের বই ও প্রচারপত্র তৈরি করে অনলাইনে তাদের সহযোগী ইমামা মাহদীর সৈনিকসহ আরও বিভিন্ন ছদ্মনামের আইডির সাথে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে জিহাদ এবং দেশ বিরোধী পরিকল্পনা করত।

নাঈমের আইডি থেকে সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র, হত্যা, জনমনে ত্রাস, ভীতি ও জননিরাপত্তা বিপন্ন করার লক্ষে পরিকল্পনা গ্রহণ, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও বোমা সংগ্রহের চেষ্টা করে আসছিলো। বিভিন্ন অত্যাধুনিক এ্যাপস ব্যবহারের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন “নব্য জেএমবি” কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নাঈম খিলাফত প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি গ্রহণ করছিল। নাঈমের ব্যবহৃত “ইসলামী বই ” নামে একটি এ্যাপসের মধ্যে সন্ত্রাস ও জিহাদসহ বিভিন্ন ধরণের ১৬০টি বইয়ের লিংক পাওয়া গেছে। অন্য একটি এ্যাপসে ৯টি শিরোনামে ৩২টি বইয়ের লিংক পাওয়া গেছে। যার মধ্যে জিহাদ সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। অনলাইন ভিত্তিক প্রচারণা, গণতন্ত্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাদের খিলাফত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সংহতি, জননিরাপত্তা বিপন্ন করা, জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটুক্তি সম্বলিত পোস্ট এবং কপি প্রচার করার তথ্য সংরক্ষণ করে তা প্রচারও করে আসছিলো।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta