মশিউর রহমান রাঙ্গা হঠাৎ কেন উত্তেজিত! | Nobobarta

মশিউর রহমান রাঙ্গা হঠাৎ কেন উত্তেজিত!

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া : জাতীয় পার্টির মশিউর রহমান রাঙ্গা হঠাৎ করেই উত্তেজিত হয়ে পড়েছে কিন্তু কেন? এতটাই উত্তেজিত হয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রীকে স্বৈরাচার বলতেও দ্বিধা করেনি। এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিশেষ তেমন কারণ খুঁজে পাচ্ছিনা। তবে একেবারে যে কারণ নেই সেটাও নয়।

রাঙ্গা সাহেব স্বৈরাচার নিপাত যাক কথাটা মেনে নিতে পারেনি কারণ একদিন এই স্লোগান তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হয়েছিলো। আর সেই আগুনে ঘী ঢেলেছিলো “নূর হোসেন” নামে একজন শ্রমিক যে তার বুকে পিঠে এই স্লোগান লিখে রাজপথে নেমেছিলো স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে। অবশেষে তাকে গুলি খেয়ে প্রাণ হারাতে হলো। রাঙ্গা সেই হত্যাকে চাপিয়ে দিতে চেয়েছেন সেই সময়ের আন্দোলনরত দলের উপর। প্রশ্ন হলোঃ তার এই চাপিয়ে দেয়া শক্তি পরক্ষণেই তার দিকেই ফিরে আসে তার বক্তব্যের ধরণ দেখে। । তিনি বললেন, “নূর হোসেন ছিলো ইয়াবা খোর, হিরোইন খোর, নেশাগ্রস্ত “।

রাঙ্গা সাহেব বুঝতে পারেনি স্বৈরাচারী কাজ এমনি হয়, ভূলটা করে ফেলে অজান্তে। তিনি ভুলেই গিয়েছিলেন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের প্রায় ১০ বছর পরে বাংলাদেশে ইয়াবা প্রবেশ করেছে। তার পূর্বে যদি করেও থাকে সেই ইয়াবা ক্রয় করে সেটা খাওয়া নূর হোসেনের মতো শ্রমিকদের ক্ষমতার বাইরে ছিলো। রাঙ্গা সাহেব স্বৈরাচার কথাটা বলতে বলতে সেটা শেখ হাসিনার মতো সরকার প্রধানের উপর নিয়ে ফেললেন, যে কিনা আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার হিসাবে পরিগনিত। নিশ্চয়ই রাঙ্গা তার নিজের বর্তমান সামাজিক অবস্থান তুলনা করে প্রমাণ পাবে।

যদি তিনি তার সামাজিক অবস্থানকে নিজের ব্যক্তিগত অর্জন বলে চিৎকার করেন তাহলে তাকে পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি হিসাবে চাঁদা আদায়ে দুষি হিসাবে মেনে নিতে হবে। বর্তমানে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে সড়ক বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকে রাঙ্গা সাহেব মেনে নিতে পারছে না সেটাও সামনে চলে আসে। রাঙ্গা সাহেব নিশ্চই স্বীকার করবে যে, নূর হোসেনের মতো শ্রমিকদের তিনি যদি ইয়াবাখোর, হিরোইন খোর বলে তাহলে তার পরিবহন শ্রমিকদের প্রায় শতভাগ একি নেশায় আসক্ত এবং সেই দলের প্রধান হয়ে রাঙ্গা নিশ্চই একি ভাবে নেশাগ্রস্ত , বলাচলে আরো ভয়াবহ নেশাগ্রস্ত।

Rudra Amin Books

যাইহোক, মতিউর রহমান রাঙ্গা প্রধানমন্ত্রীকে স্বৈরাচার বলে এবং নূর হোসেনকে নেশাগ্রস্ত বলে একজন রাজনৈতিক নেতা হিসাবে নিজের ক্ষুদ্র মনের পরিচয় দিয়েছে এবং অবশ্যই অপরাধ করেছে। তার উচিত প্রকাশ্যে এমন বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়া। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রয়োগ হোক সেটা সকলের চাওয়া।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.