আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন

১৫ আগস্ট এর ঘটনা জাতীয় কলঙ্কের সূচনা

১৫ আগস্ট এর ঘটনা জাতীয় কলঙ্কের সূচনা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

কে ঠিক কে বেঠিক জানি না। কিন্তু এটা জানি সে দিন সবার সাথে একই ঘটনা ঘটা ঠিক হয় নি। এক মুহূর্তের জন্য ধরে নিলাম বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীনের পর ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চেয়েছিলেন,বাকশাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল,একনায়কতন্ত্রের দাড়প্রান্তে ছিল দেশ,জাসদের নেতা কর্মীদের হত্যা করা হয়েছিল সবই মেনে নিলাম।

কিন্তুএর সাথে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কি সম্পর্ক ছিল আমার জানা নেই।হয়তো বঙ্গবন্ধুর ছত্রছায়ায় পরিবারের কতিপয় সদস্যরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠত বা উঠেছিল। যদি এর সবগুলো ঠিক হয়ে থাকত তাহলে একদিন নিশ্চয় দেশের আমজনতা এর বিপক্ষে কঠিন ভাবে রুখে দাঁড়াত।

কারণ ইতিহাসে কোন একনায়ক কখনই শেষ পর্যন্ত টিকতে পারে নি সেই সাথে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পরিণতিটা হয়েছে খুব করুণ আর ভয়াবহ। দেশের জনগণ একবার যুদ্ধ করে দিয়েছিল যদি আওয়ামী স্বৈরতন্ত্র স্থায়ীভাবে শিকড় গেড়ে বসত তাহলে জনগণই তা উচ্ছেদ করত আর জাতি হিসেবে আমাদেরও এর দায়ভার নিতে হত না।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুর পরিবার সহ আরও কিছু ব্যক্তিদের সমূলে শেষ করার এ প্রক্রিয়ার সাথে আমি একমত নই। কিন্তু নিয়তি বলতে একটা কথা থেকেই যায়। যা না চাইলেও আমাদের খুব সন্নিকটে। হয়তো আমরা নিয়তির পরিহাসের শিকার। তবে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পেছনে মেজর জিয়ার কোন যোগসাজশ ছিল কি না আমার জানা নেই। কারণ সে সময়ের রাজনীতিবিদ,লেখকদের লেখনীতেই রয়েছে মতভেদ। তাই এসময়ে এসে আমার পক্ষে একটা পক্ষ অবলম্বন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ খুব একটা সহজ নয়। তবে কেউ দুধে ধোয়া তুলসী পাতা নয় বা যে সরষেতে ভূত তাড়াবো সে সরষেতে ভূত’ কথাগুলো হয়তো এই ঘটনার সাথে খুব একটা অমূলক নয়।

তবে এটা ঠিক ‘৭১ এ হারিয়েছিলাম দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের আর ‘৭১ এর পর হারিয়েছি বঙ্গবন্ধু আর মেজর জিয়ার মত দেশমাতার সেরা দুই সন্তানকে। দেশের প্রয়োজনে যাদের উভয়ের থাকাটা ছিল সময়ের দাবি।

আরএকটা কথা বিডিনিউজ২৪ এ প্রকাশিত একটা প্রতিবেদনে ১৫ আগস্টে কি ঘটেছিল তা পড়লাম। সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকা অনেকেরই নাম উল্লেখ আছে কিন্তু মেজর জিয়ার নাম কোথাও খুঁজে পেলাম না। হয়তো সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকার সূত্রেই তাঁকে দোষারোপ করা হয়। এই দিনে মুজিব পরিবার সহ যারা সেদিন একই ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন তাদের সবার প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা আর আল্লাহর কাছে তাদের প্রতি রূহ এর মাগফেরাত ।

লেখক: মুহাইমীন হক কিনান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

বি. দ্র: প্রকাশিত লেখা টি লেখক এর একান্তই নিজস্ব মত।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply