হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের অপার বিস্ময় : মোস্তফা - Nobobarta

আজ শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন

হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের অপার বিস্ময় : মোস্তফা

হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের অপার বিস্ময় : মোস্তফা

হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের এক অপার বিস্ময় বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে অলাভজনক একটি পেশাকে অবলম্বন করে বিস্ময়কর সফলতা অর্জন করেছেন।

তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদ শুধু সাহিত্যচর্চা করে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন তা নয়; অপরকেও স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এমনকি তার লেখনির মাধ্যমে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। ফলে আধুনিক বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদ এমন একটি নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে আছে। তবে তা কেবল কথাসাহিত্যিক হিসেবে নয়; নাটক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও এর পেছনে ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। বুধবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কিংবদন্তী সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, হয়তো এতো জনপ্রিয় একজন লেখক আমাদের অনেকের কাছে জনপ্রিয় হতে পারেননি। এমনটি হতেও পারে- কারণ, একজনকে সবার কাছে সমান জনপ্রিয় লেখক হতে হবে এমনটিও হয়তো কোথাও লেখা নেই। তিনি ‘নন্দিত কথাসাহিত্যিক’ উপাধির সঙ্গেসঙ্গে ‘বাজারি লেখক’র তকমাও পেয়েছেন কারো কারো কাছে। সত্যি বলতে তিনিই তো সাহিত্যের বাজারটা ধরতে পেরেছিলেন। সেই অর্থে কথাটি অপ্রাসঙ্গিক নয়। তবে তিনি বাজারের সস্তা লেখক ছিলেন না। ছিলেন জুয়েলারি দোকানের সবচেয়ে দামি অলংকার।

সভাপতির বক্তব্যে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, হুমায়ূন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক ‘বড় ক্যানভাসে’র উপন্যাস লিখবেন বলে প্রথম জীবনে ভেবেছিলেন। কিন্তু সে ভাবনা পূরণ হয়নি। গত শতকের আশির দশকে স্বৈরাচার জেনারেল এরশাদ যখন রাষ্ট্রক্ষমতায়, মাওলানা মান্নানসহ স্বাধীনতাবিরোধীরা যখন সেই ক্ষমতার অংশীদার—এসবের প্রতিবাদে দেশজুড়ে যখন প্রতিদিন আন্দোলন চলছে, তখন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ‘বিটিভি’তে প্রচার করা হয় তাঁরই নাটক ‘বহুব্রীহি’। এই নাটকে একটি টিয়ে পাখির মুখ দিয়ে ‘তুই রাজাকার’ ধ্বনির উচ্চারণ ছিল সেনাশাসনকবলিত তৎকালীন বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের আন্তরিক উচ্চারণের প্রতিধ্বনি। রাজনৈতিক দলগুলো যা করতে পারেনি, একজন লেখক হুমায়ূন আহমেদ প্রতীকের মাধ্যমে একটি টিয়ে পাখির মুখ দিয়ে তা করে দেখিয়ে দেন। এমন প্রতীকের ব্যবহার করতে দেখা গেছে আইয়ুব খানের শাসনামলে শওকত ওসমানকে, তাঁরই উপন্যাস ‘ক্রীতদাসের হাসি’তে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ‘বহুব্রীহি’র এই অংশটুকুই যেন হয়ে উঠল ‘ক্রীতদাসের হাসি’র প্রতীকী প্রতিবাদের শব্দরূপ। আসলে হুমায়ূন আহমেদ এক আধারে বন্দি হয়ে থাকেননি। তিনি সাহিত্য থেকে চিত্র ও চলচ্চিত্র জগতেও ব্যাপক অবদান রেখেছেন। সেখানেও মিশেছেন বহু মানুষের সঙ্গে, সৃষ্টি করেছেন নবশিল্পের দ্যোতনা।

সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা’র সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন ন্যাপ ঢাকা মহানগর সভাপতি মো. শহীদুননবী ডাবলু, শেরে বাংলা গবেষনা পরিষদের মহাসচিব আর কে রিপন, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক এড. সাইফুল ইসলাম সেকুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেন রাজু, নারায়নগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মো. মনজুরুল ইসলাম কাজল, কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি পারভেজ হোসেন বাবু, ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি আয়শা সিদ্দিকা, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি নিলুফার খাতুন, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান যিশু প্রমুখ।


Leave a Reply



Nobobarta © 2020। about Contact PolicyAdvertisingOur Family DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com