হামদর্দ এমডির বিরুদ্ধে যুদ্ধোপরাধের অভিযোগ তোলায় বিস্মিত স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা - Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:০৮ অপরাহ্ন

হামদর্দ এমডির বিরুদ্ধে যুদ্ধোপরাধের অভিযোগ তোলায় বিস্মিত স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা

হামদর্দ এমডির বিরুদ্ধে যুদ্ধোপরাধের অভিযোগ তোলায় বিস্মিত স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
হামদর্দ ওয়ার্কফ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চীফ মোতওয়াল্লী ড. হাকীম ইউছুফ হারুন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধোপরাধের অভিযোগ তোলায় বিস্মিত ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। এর আগেও মিথ্যা ও বানোয়াট একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে নানা হয়রানী করা হয় তাকে। ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার চেয়ে শনিবার শহরে লক্ষ্মীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর -৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা একেএম শাহজাহান কামাল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ লক্ষ্মীপুর জেলা কমান্ড কাউন্সিলের সাংগঠনিক কমান্ডার সিরাজ উল্যা মনা বাকশাল,মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লা, আবদুর রেজ্জাক চৌধুরী ও আবুল খায়ের প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক মন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামাল ড. হাকীম ইউছুফ হারুন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করেন। তিনি দেশের অন্যতম ঔষধ প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠান হামদর্দ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চীফ মোতাওয়াল্লী ড. হাকীম ইউছুফ হারুন ভূঁইয়াকে হয়রানির নিন্দা জানান। এই সময় উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারাও তার সাথে একমত পোষণ করে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা হামদর্দ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত ষড়যন্ত্রকে দেশের সর্ববৃহৎ ঔষধ উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বলেও উল্লেখ করেন। লাখ লাখ মানুষের জীবন জীবিকার হাতিয়ার হামদর্দ ও এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. হাকীম ইউছুফ হারুন ভূঁইয়াকে কুচক্রী মহলের হাত থেকে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ূন কবির তোফায়েল এ প্রতিবেদককে বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া কোন বিতর্কিত ভুমিকা পালন করেছেন এমন তথ্য তাদের জানানেই। যুদ্ধকালে বা যুদ্ধ পরবর্তী সমওে এ নামে কোন ব্যক্তিকে তারা ছিনতেন না এবং জানতেন না। লক্ষ্মীপুর জেলায় রায়পুর এলাকায় পাকবাহিনী ও তাদের দোষর রাজাকারদের সাথে যুদ্ধ করেছেন। সে সময় তিনি ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া নামে কোন রাজাকারের নাম শুনেননি। রায়পুর এলাকায় মুক্তিবাহিনীর কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন, সুবেদার আব্দুল মতিন। আর রাজাকারের নেতৃত্বে ছিলেন, নজরুল ও সহিদ। যারা পরবর্তীতে মুক্তি বাহিনীর হাতে নির্মম ভাবে নিহত হন। আজকে সংবাদ মাধ্যমে রায়পুরের রাজাকারের কমান্ডার হিসেবে ইউছুফ হারুন ভূঁইয়ার নাম ও তার বিরুদ্ধে হত্যা সহ নানা অভিযোগের কল্প কথা দেখে তিনি সত্যি বিস্মিত।

সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মাহবুব এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, হামদর্দ এমডি ইউছুফ হারুন ভূঁইয়ার বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদরে। তিনি নিজ এলকা ছেড়ে রায়পুর গিয়ে অকারেন্স করবেন কেন? তিনি তো তার নিজ এলকায় করার কথা ছিল। হামদর্দ এমডি ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া রাজকার কমান্ডার ছিলেন, বা কোন অকারেন্স করেছেন এমন কথা তিনি এর আগে কখনো শুনেন নি। যুদ্ধোপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর তদন্ত কর্মকর্তা তার কাছে জানতে চাইলে তিনি তাকেও একই কথা বলেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংগ্রাহক ও মুক্তিযোদ্ধা সাবেক শিক্ষক সামছুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সকল ইতিহাস সংগ্রহ করেছেন। ইতিমধ্যে তা বই আকারে প্রকাশ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। রায়পুর এলাকায় তিনি একাধিক অভিযানে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন। তিনি সহ লক্ষ্মীপুরের মুক্তিযোদ্ধারা রায়পুর এল এম হাই স্কুলে পাকবাহিনীর ক্যাম্প আক্রমনে অংশ নিয়েছেন সে আক্রমন চলাকালে পাক বাহিনীর গুলিতে তার সাথী সদর উপজেলার বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের বাঙ্গাখাঁ গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার বাসু শহীদ হয়েছেন। রায়পুরে রাজাকার কমান্ডার হিসেবে তিনি নজরুল ও শহীদের নাম শুনেছেন। যুদ্ধোকালীন ও যুদ্ধের পরবর্তীতে তিনি ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া নামে কোন রাজাকার কমান্ডার বা রাজাকারের নাম শুনেননি।

ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া ৬৯ সালে রায়পুর আলীয়াতে কামিল অধ্যয়ন করেন। ৭০ সালে তিনি ফেনীতে টিসার্স ট্রেনিং ইনষ্টিটিউটে অধ্যয়ন করেন। ৭১ সালে তিনি ঢাকার তেওগাঁও থানায় কর্মরত ছিলেন। ৭১ সালের বাতিল হওয়া কামিল পরীক্ষা তিনি ৭২ সালে দিয়ে কামিল পাশ করেন। ৭২ সালে পরীক্ষা হলেও কাগজপত্রে তা ৭১ সাল লেখা থাকায় একটি মহল এটাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। সরেজমিনে মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্নদলের রাজনীতিক নেতা,পেশাজীবি ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply