দেশেই করোনা শনাক্তকরণ কিট আবিষ্কার, ১৫ মিনিটেই নির্ণয় | Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ০২ Jun ২০২০, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন

দেশেই করোনা শনাক্তকরণ কিট আবিষ্কার, ১৫ মিনিটেই নির্ণয়

দেশেই করোনা শনাক্তকরণ কিট আবিষ্কার, ১৫ মিনিটেই নির্ণয়

Rudra Amin Books

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ উৎপত্তিস্থল চীন থেকে ছড়িয়ে পড়েছে ১২৪টি দেশে। এরইমধ্যে ইউরোপে রূপ নিয়েছে মহামারির। মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখনো এর প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায় আতঙ্কিত গোটা বিশ্ব। তবে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কিট আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশ। যেটি স্বল্প মূল্যে ও অল্প সময়ে শনাক্ত করতে পারবে ভাইরাসটিকে। মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটেই করোনাভাইরাসের প্রাথমিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারবে কিটটি। এতে একটি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ব্যয় হবে দু’শ টাকা। যেখানে বর্তমানে সরকারিভাবে একটি পরীক্ষা করতে ব্যয় হয় প্রায় ৫ হাজার টাকা। কাজটি এরইমধ্যে শুরু করেছে গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেক লিমিটেড।

গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেকের পক্ষে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. মুহিব উল্লাহ খন্দকার বলেন, এর আগে ২০০৩ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সার্স (সিভিয়ার রেসপারেটরি সিনড্রোম) ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করে। তখন বাংলাদেশি একজন চিকিৎসা বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল সার্স ভাইরাস শনাক্তকরণ কিট আবিষ্কার করেন। সেই ড. বিজন বর্তমানে গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজে কর্মরত। যেহেতু সার্স এবং নতুন করোনাভাইরাস একই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। তাই সার্স শনাক্তকরণ কিটের কিছুটা পরিবর্তন এনে স্বল্প সময়ে নতুন করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট তৈরি করা সম্ভব। এরইমধ্যে ড. বিজন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়লজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নিহাদ আদনানসহ কয়েকজন এই কিট তৈরির কাজ শুরু করেছেন। সোমবার ‘ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে’ এই কিট উৎপাদন অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা হবে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।

কিট উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়লজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নিহাদ আদনান বলেন, যে কোনো ধরনের ভাইরাস শনাক্ত করতে হলে অবশ্যই তার জেনেটিক তথ্য জানা থাকতে হবে। পাশাপাশি ভাইরাসটির ইউনিক সিকুয়েন্স, সারফেস প্রোটিন সম্পর্কে সব তথ্যের বিশ্লেষণ থাকা চাই। এরইমধ্যে এই বিষয়গুলো আমাদের আয়ত্তে রয়েছে। যে কিটটি আমরা তৈরি করছি সেটিতে ভাইরাসের বিপরীতে রোগীর শরীরে করোনাভাইরাসের এন্টিবডির প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করা হবে। এজন্য আমাদের সার্ফেস প্রোটিন আমদানি করতে হবে। যেখানে ভাইরাসটির নিউক্লিক এডিস বা সংক্রমণকারী বস্তু থাকবে না।

যে পদ্ধতিতে এই কিট তৈরি করা হবে তাকে বলা হয় ‘ডট ব্লট টেকনোলজি’। এই কিট কিভাবে নতুন করোনাভাইরাস শনাক্ত করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে এই কিটে ভাইরাস শনাক্ত করা যাবে। এর জন্য স্পুটাম নেয়ার প্রয়োজন নেই। প্রথমে সন্দেহজনক ব্যক্তির রক্তের নমুনা নেয়া হবে। সেই রক্ত থেকে ‘সিরাম’ আলাদা করতে হবে। কিটে সেই সিরাম রেখে তার ওপর এন্টিজেনের বিক্রিয়া ঘটানো হবে। যদি বিক্রিয়া হয় তাহলে সন্দেহজনক ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসের প্রাথমিক উপস্থিতি রয়েছে বলে প্রমাণ হবে। বিক্রিয়া না করলে তিনি আক্রান্ত নন বলে বিবেচিত হবে। এরইমধ্যে এই ডট ব্লট পদ্ধতি ব্যবহার করে চায়না ও আমেরিকাতে কিট তৈরি করা হয়েছে। যেগুলো ক্লিনিক্যাল ট্রায়েলে রয়েছে।

ডা. মুহিব উল্লাহ খন্দকার জানান, এ ধরনের কিট উৎপাদন করতে হাইটেক ল্যাব প্রয়োজন। এরইমধ্যে গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেক একটি হাইটেক ল্যাব স্থাপন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন পেলেই আমার প্রয়োজনীয় উপাদান আমদানি করব। সব মিলিয়ে উৎপাদন করতে আমাদের এক মাস সময়ের প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে আমার ১০ হাজার ভাইরাস শনাক্তকরণ কিট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। এই কিট ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই ল্যাবটি ‘তৃতীয় স্তরের’ বায়োসেফটি হতে হবে।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta