'সৈয়দ মুজতবা আলী পদক’ পেলেন জেসমিন মুন্নী - Nobobarta

আজ শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৫:০৮ অপরাহ্ন

‘সৈয়দ মুজতবা আলী পদক’ পেলেন জেসমিন মুন্নী

‘সৈয়দ মুজতবা আলী পদক’ পেলেন জেসমিন মুন্নী

সৈয়দ মুজতবা আলী পদক ২০১৭ পেলেন জেসমিন মুন্নী। লেখার জগতে তার প্রবেশ কিছুটা দেরীতে হলেও নিজের প্রতিভার গুণে আজ আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছেছেন। জীবনের নানাবিধ প্রকিকূলতা তাকে স্তব্ধ করে রাখতে পারেনি। তিনি একাধারে গল্পকার, শিক্ষক ও সমাজসেবক। যদিও তিনি তার ভ্রমণ কাহিনীর জন্য অধিক জনপ্রিয় হলেও গল্প, উপন্যাস ও কবিতায়ও তার প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন। বহু প্রতিভার অধিকারী জেসমিন মুননীর রচনা একই সঙ্গে পান্ডিত্য ও নান্দনিকতায় পরিপুষ্ট।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার সৈয়দ মুজতবা আলীর ১১৩ তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে তাকে এই পদক দেয়া হয় । গুলশানের লেকশোর হোটেলে ইকেবানা হলে “সৈয়দ মুজতবা আলীর ভ্রমণ সাহিত্য” সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল । সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. অপরূপ চৌধুরী। এসময় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক কাজী নুসরাত সুলতানা । মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সৈয়দ মুজতবা আলী জন্মদিন উদ্যাপন পরিষদের সদস্য সচিব কবি সৌমিত্র দেব ।আলোচনায় অংশ নেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আনোয়ার চৌধুরী, কথাশিল্পী আহমেদ বশীর, লেখক ফারুক ফয়সাল, ডিপ্লোমেট খোদেজা করিম রুনু প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের অনারারি কনসুল জেনারেল কাজী শামসুল হক।

জেসমিন মুননী জন্মগ্রহণ করেন চট্টগ্রামে। তার বাবা সরকারী অফিসার রফিকুল ইসলাম পৈত্রিক বাড়ি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের উত্তরবানিয়ারি গ্রামে। বাবার চাকরীর সুবাদে চট্টগ্রামে বসবাস। জেসমিন মুননীর শুরুটা হয়েছিল তার উপন্যাসের মাধ্যমে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নের সময় লিখে ফেললেন ‘মৌ” নামের উপন্যাস। তারপর ছোটগল্পের বই “শামুক রাজা ঝিনুক রাণী”। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর শেষে ঢাকায় চলে আসেন। বাংলা একাডেমীতে ‘তরুণ লেখক প্রকল্পে’ ৬ মাসের বৃত্তি পান গল্পের উপরে। তারপর সে গল্প লিখছেন আপন মনে।

  • ‘মানুষ ও মানুষের গল্প’( শ্রাবণ প্রকাশনী), ২০০৬
  • ‘কুয়াশা ও দীর্ঘশ্বাসের দিন’ (শুদ্ধস্বর প্রকাশনী) ২০১৩
  • ‘লেখক ও নায়িকার দ্বিতীয় পর্ব’ (জয়তী প্রকাশনী) ২০১৪
  • ভ্রমণ বিষয়ক উপন্যাস ‘ইস্তাম্বুল উপাখ্যান’,( শ্রেষ্ঠ প্রকাশনী),২০১৫
  • ‘জীবনানন্দ দাশের লক্ষ্মীপেঁচা’( মেঘ প্রকাশনী)২০১৬
  • ও মুক্তিযুদ্ধের উপর লিখিত বই
  • ‘মায়ের নোটবুক’( ৭১ প্রকাশনী থেকে)২০১৭

শ্রেষ্ঠ প্রকাশনী থেকে ‘ইস্তাম্বুল উপাখ্যান’ ভ্রমণ উপন্যাসটি প্রকাশিত হবার পর তিনি পাঠক চিত্ত জয় করতে সক্ষম হন। তার্কিতে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গর ফসল এই বইটি। তিনি নৈপুন্যের সঙ্গে বিদেশি চরিত্র ও আবহ বাংলা সাহিত্যে এনেছেন সেটা অতুলনীয়। হালকা মেজাজে আড্ডার ঢঙ্গে বর্ণনা করলেও ইতিহাস সম্পর্কে তার জ্ঞান সত্যি প্রশংসনীয়। উপন্যাসে তিনি তার্কির (তুরস্ক) মানুষের দর্শনীয়স্থানগুলো যেমন বর্ণনা পাই তেমনি তাদের খাবার , জীবনযাত্রা, আতীথেয়তা, অসাপ্রদায়িক মানসিকতা স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে।

জেসমিন মুননী অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন। ইন্টারন্যাশনাল তার্কিশ হোপ স্কুলে শিক্ষকতা করার সুবাদে তাদের সান্নিধ্যে আসতে পেরেছেন। তাই তার লেখায় অনুরূপ বহুদর্শিতা ও নিবিড় অনুধ্যানের প্রতিফলন ঘটেছে। জেসমিন মুননী শুধু একজন কথাসাহিত্যিক নয় তিনি একজন সম্পাদকও। ছোট গল্পের কাগজ ‘দ্রাঘিমা’র সম্পাদক। পেশায় একজন সিনিয়র বাংলা শিক্ষক (ইন্টারন্যাশনাল টার্কিশ হোপ স্কুল, বাংলাদেশ)। সামাজিক কর্মকান্ডের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি ‘এম এম নুরুল হক ফাইন্ডেশনের’ একজন সদস্য।


Leave a Reply