শিরিন ওসমান এর ছোট গল্প বিহ্বল | Nobobarta

আজ বৃহস্পতিবার, ০৪ Jun ২০২০, ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
২০০০ শয্যার বসুন্ধারা করোনা হাসপাতালে সেবা প্রদান শুরু করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে ফের সাধারণ ছুটি আলোকদিয়ায় ৫শত অসহায় পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিলেন এমপি দুর্জয় দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন : একইসঙ্গে আম্পান-করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ নওগাঁয় করোনা পরিক্ষার যন্ত্র স্থাপনের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান কমলগঞ্জে খাসিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে ফলজ ও সবজি বীজ বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মুরাদনগরে ১১’শ ৪৮টি মসজিদে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের নগদ অর্থ বিতরণ আটপাড়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক বাজার মনিটরিং অব্যাহত নড়াইলে ভূমিহীনদের উচ্ছেদের প্রতিবাদে মানববন্ধন লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যার ‘মূল ঘাতক’ নিহত
শিরিন ওসমান এর ছোট গল্প বিহ্বল

শিরিন ওসমান এর ছোট গল্প বিহ্বল

Rudra Amin Books

এ বাডির তুলতুলে আদরের কন্যা। খুব আস্তে করে বাবা রোজ ভোরে ওর ঘুম ভাঙান……… গুডি আমার গুডগুডি ওঠো, স্কুলে যেতে হবে। গুডির মা সবার নাস্তা টেবিলে রাখেন। গুডির টিফিনবক্স ব্যাগে ভরেন।গুডি ততোক্ষনে তৈরী। বাবা কাজে চলে যান গুডির কপালে আদরের প্রলেপ দিয়ে। মায়ের সাথে স্কুলে রওনা দিলো।বাড়ীর বেডালটা মিঁউ করে গুডিকে বাই করলো। জোরে ডাকলো ‘ভাইয়া গেলাম বলে স্কুলে।ওর ভাইয়া রবিন ওকে বাই বলে নিজেও কলেজে যাবার জন্যে গোছগাছ করতে লাগলো।

গুডির বাবা ডাক্তার।ছেলে ইন্টারমিডিয়েট পড়ে । গুডি ফাইভে। অনেক দিন পর ঘর আলো করে কন্যা সন্তান হওয়ায় গুডির বাবা মায়ের খুশীর সীমা নাই। গুডির মায়ের নাম ফরিদা। ভীষন সুন্দরী আর সৌখিন। ওদের ঘরে যে কেউ আসলে গৃহ সজ্জা এবং ঘরের পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হন। ফরিদা কিছুদিন একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে চাকরী করতেন। পরে ছেড়ে দেন। ঘরকন্যার স্নিগ্ধতা ফরিদার পছন্দ। জীবনের এত দ্রুত গতি ফরিদা নিতে পারেন না। নিজ হাতে লাগানো ফুল গাছের মলিনতা দেখলে ফরিদার মন খারাপ হয়ে যায়। মায়ের জন্য কিছু রেঁধে ফরিদা প্রায় ভাইয়ের বাসায় যান মাকে দেখতে।

গুডিদের বাড়ীটি এক বিঘা জমির ওপর। সামনে পেছনে লন। বড় বড় দুটি আম গাছ বাডীটাকে ছায়া দিয়ে রাখে। অনেক রকমের ফুল ও ফলের গাছ। মালি নিয়মিত আসে। ফরিদা নিজেও শিখে গেছেন কী করে গাছের যত্ন নিতে হয়।বাড়ীতে রাঁধুনির ছাড়া দুজন কাজের লোক।

গুডির যে ক’জন বন্ধু আছে তাদের প্রায় বাড়ীতে ডেকে পার্টি করে। পার্টি শেষে ক্লান্ত গুডি ঘুমিয়ে পড়ে । বাবা ঘুমন্ত গুডীকে চুমু খান। এমনি করে কখন যে আদরের গুডগুডি বড় হয়ে গেলো ! গুডির ডাক্তারি পড়ায় মন নাই। সে ইংলিশ লিটারেচারে ব্রাক ইউনিভার্সিটি ভর্তি হয়।গুডি এখন একাই গাডীতে করে ভার্সিটি যায়।
অনিক নামে একটি সুদর্শন ছেলে গুডিকে পড়ায় অনেক হেল্প করে। ছেলেটি ভাল ছবি তোলে, পিয়ানো বাজায়। গান করে, বাংলা ইংলিশ দুটোই। খুব আস্তে কথা বলে। ওর একটি গানের ব্যান্ড আছে। মাঝে মাঝে কনসার্ট হলে গুডিকে আসতে বলে। গুডি যায়। ওদের মূল ভোকালিস্ট ঝুটি বাধা খোঁচা খোঁচা দাড়ির লম্বা ফর্সা দেখতে। ভাল গায়। সব ইংরেজী গান। সব চেনা গান। গুডি নিয়মিত শোনে। ওর নাম শিহাব। অনিক আর শিহাব দুজন বিশেষ বন্ধু। গুডির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। গুডি বলে অনিক যাই তবে। অনিক গাড়ী পর্যন্ত গুডিকে পৌছে দিলো। অনিক বললো প্যাকআপ করতে হবে তো তাই তোমার সাথে যাওয়া হলো না। অনিক গুডির চোখ দেখে বুঝে গেছে ওর অভিমানি চোখের ভাষা।

অনিক আর গুডির বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে বাড়তে লাগলো। গুডি অনিক ছাড়া আর কিছু বোঝে না। গুডির বাবা মা বিষয়টি বুঝতে পারেন। অনিকের সাথে আলাপ হয়। অনিকের বাবা মা দুজনই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে প্রফেসর। পাশ করার পর বিদেশে ক’বছর ইউনিভার্সিটি ছিলেন। ওরা এরপর দেশে চলে আসেন। অনিকের দাদা সরকারী বড় চাকুরে ছিলেন। বিষয় সম্পত্তি ভালই করেছেন অনিকের বাবা দাদার একমাত্র পুত্র। দেশে ফিরে আসতে হলো।
একদিন গুডি অনিক কে বললো, চলো আমরা বিয়ে করি।
এত তাড়া কিসের গুডি? It’s too early for our marriage.
No Anik , I am Sirius it’s the right time. বলে হু হু করে কান্না জুডে দিলো।
অনিক বললো ঠিক আছে গুডি, এখন আইসক্রিম খাই চলো।মোবাইল বেজে উঠলো। অনিক কিছু দূরে গিয়ে বেশ খানিকক্ষন কথা বলে এলো।
গুডি জানতে চায় কে করেছে?
না বাসার ফোন, মাম্মির।
এরকম ফোন প্রায় আসে। সরে গিয়ে কথা বলে। অনিকের ফোন গুডি কখনো চেক করে না। ওদের বাড়ীর কারো ফোন কেউ চেক করে না।

গুডির মাকে জানায় অনিক নামের ছেলেটিকে ওর পছন্দ। গ্র্যাজুয়েশন শেষ। এখন তারা বিয়ে করতে পারে।ফরিদার মন মুচড উল্টো। অনিক কে অনেক বার দেখেছে। সুদর্শন ছেলে, একবার দেখলেই নজর কাড়ে। অনিকের সাথে ফরিদার আলাপ হলো।
আন্টি আর কিছুদিন পরে হলে ভাল হয়।আমার নতুন চাকরী ।
ফরিদা কিছু বললেন না।
মেয়ের দিকে তাকালে ফরিদার মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। ফরিদা তার ছেলের সাথে আলাপ করে। ছেলে এফসিপিএস করছে সার্জারিতে। ওর বিয়ে নিয়ে চিন্তা ভাবনা চলছিল জাহিদ ও ফরিদা ছেলের বিয়ে নিয়ে বেশ ভাবনা করেন। মেয়ের বিয়ে এম এস করার পর, সেরকমই প্ল্যান।

ড. জাহিদ ও ফরিদা অনিকের বাবা মায়ের সাথে যোগাযোগ করেন। তাদের একদিন আসতে বললেন। তারা বেশ উৎসাহের সাথে গুডির বাসায় এলো।গুডিকে তাদের খুব পছন্দ। গুডিকে কাছে নিয়ে অনিকের মা আদর করলেন।

শুভ লগ্নে অনিক আর গুডির বিয়ে হয়ে গেলো দুজন হানিমুন করতে সুইজারল্যান্ড বেছে নিলো। অনিকের ঘন ঘন ফোন আসে। গুডি বিরক্ত হয়। অনিক এটা ওটা বলে বুঝ দেয়। গুডির কেমন জানি লাগে। ও হানিমুন ঠিক ভাবে এনজয় করতে পারেনি। ওরা দেশে ফিরে আসে। ঘরে ফিরেই অনিক জরুরী কাজ আছে বলে বেরিয়ে যায়।
গুডি অনিক অফিসে গেলে মার বাসায় চলে যায়। মা মাস্টার্সে ভর্তি হতে পরামর্শ দেন।
গুডি বলে আর কয়টা দিন যাক মা। অনিক এসে যাবে, চলি মা।
বাসায় এসে দেখে অনিক চলে এসেছে। শোয়ে শোয়ে খুশী মনে ফোনে কথা বলছে। গুডিকে দেখে ফোন বন্ধ করে দিলো।
কার ফোন ?
এক কলিগের। গুডি, তুমি এম এস এ ভর্তি হও। এভাবে থাকলে তুমি বোর হবে। মেজাজ ভাল থাকবে না।
গুডি বললো, অনিক,তোমাকে একটা কথা বলা হয়নি। I am pregnant.
How months ?
Three months.
এত তাড়াতাড়ি কী প্রয়োজন ছিলো গুডি? আমাদের সামনে অনেক সময় পড়ে আছে, it’s too early. অনিকের গলা রুঢ় শোনালো।

গুডি কল্পনা করে রেখেছিলো অনিক শুনে খুশী হয়ে তাকে কোলে নিয়ে দোল খাবে।অনিকের এমন রিএকশন গুডি নিতেই পারছিলো না।এক সময় অনিক ঘুমিয়ে পড়ে । গুডির ঘুম আসছিল না। অনিকের মোবাইল সাইড টেবিলে ছিলো।গুডি সেটা হাতে নিয়ে নাডাচাডা করছিল।অনেক মেসেজ গিজগিজ করছে। শিহাবের সাথে চেটিং। এ কেমন ভাষা! গুডি আর নিতে পারছিল না ।বাথরুমে গিয়ে হরহর করে বমি করে দিলো।শব্দে অনিকের ঘুম ভেঙে গেল।
অনিক জিজ্ঞাসা করলো কী হলো গুডি শরীর খারাপ লাগছে?
গুডি চিৎকার করে উঠলো, আমাকে ছোবে না বলে দিচ্ছি। ইউ চিট। শিহাবের সাথে তোমার কিসের সম্পর্ক বলে অনিকের মোবাইলটি হাতে ধরে উঁচু করে দেখালো। গুডির দুচোখে আগুন ঠিকডে পড়ছে।
অনিক সে চাহনি নিতে পারছিলো না।বললো, ইয়েস শিহাব ইজ মাই লাভার। আই অ্যাম গে গুডি।
গুডি মাটিতে বসে ওর পেট দু’হাতে চেপে ধরলো। বললো আমার শরীরের যে আছে সে কে?
দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ।অনিকের মায়ের গলা।
গুডির কানে শুধু বেজে চলেছে, অনিক বলে চলছে,আই অ্যাম গে গে গে………


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta