ডাবের ভবিষ্যৎ ।। মেহেদী হাসান তামিম | Nobobarta

আজ শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ০৩:০৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
ডাবের ভবিষ্যৎ ।। মেহেদী হাসান তামিম

ডাবের ভবিষ্যৎ ।। মেহেদী হাসান তামিম

Rudra Amin Books

১. আহা।

কি ভাগ্যবান আমরা। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের জন্য ডাবের মতো একটা ফল পাঠিয়েছেন (ফলই তো!) । সারাবেলা হণ্যে হয়ে খুঁজতে খুঁজতে যুঁতসই দামে পছন্দমাফিক শপিং শেষে বাসায় ফেরার আগে ভ্যানগাড়ি মামার থেকে ৪০ টাকার ডাব ৬০ টাকায় খেয়েও কি যে তৃপ্তি। শরীরকে নিমিষেই চাঙা করে দেয় মিনারেলসে ভরপুর এ পানি। তৃপ্তি আর তৃপ্তি।

২. রোদের মধ্যে ঘুরে ঘুরে শপিং করতে গিয়ে মুখটা যেন কালোকালো লাগছে। নো প্রবলেম।  ডাবের কচি শাঁস আর পানি দিয়ে মুখে ফেসিয়াল করে সকল নির্জীবতা মুহূর্তকালেই সজীব।

৩. অনেক কষ্টে হলেও পাওয়া তো গিয়েছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে একসময় মনে হয়েছিল নিজেই যেন একটা ডাবগাছ, এক পায়ে দাঁড়িয়ে। তালগাছ হলে ঠিক মানায় না – তার জন্য লম্বাটে, ঢ্যাংঢ্যাং, শীর্ণকায় ফিগার দরকার। শেষ পর্যন্ত বাড়ী ফেরার টিকেট যে পাওয়া গিয়েছে, তাতেই শান্তি। ওম শান্তি।

৪. বহুকালব্যাপী ধৈর্য ধারণ করে অবশেষে এলো সেই সে দিন। সকাল ৮ টার বাস। অবশেষে ছাড়ল বটে,সকাল ৮ টার বাস সন্ধ্যা ৭ টায়। তা হোক, তবুও তো ছেঁড়েছে। ইদযাত্রায় পাশের সিটটিতে রুপকথার পরীর মতো একজন সুন্দরী ছিপছিপে তরুণীর সিট পড়বে এ স্বপ্ন থাকলেও, শেষ পর্যন্ত একজন মোটামুটিরকম ভদ্রলোক হলেও চলে- যে কিনা পান চিবুবেন না, মুখের ফাঁকগলে খয়ের খাওয়া পানের পিক একটু পরপর গড়িয়ে পড়বে না, শরীর থেকে বিড়ির গন্ধ ভকভক করে বেরুবে না, ঘুমের মধ্যে বারবার বিরক্তি নিয়ে সরিয়ে দিয়ে বা জোরসে শব্দ করে গলা খাকারি দিয়ে মাথা ঠেলে দেবার পরও নতুন প্রেমিকার মতো কিছুক্ষণ পরপর কাঁধে প্যারাসুট মার্কা নারিকেল তেলে জবজবে মাথা এলিয়ে দিবেন না অথবা একটু পরপর কোন খনি আবিস্কারের জন্য কানে অথবা নাকে অযথাই খোঁচাখুঁচি করবেন না।শেষ পর্যন্ত সে আশাও পূরণ হলো। মোটামুটি থেকে মনে হলো আরেকটু ভালো মানের ভদ্রলোকই হবে।

৫. না ধারণা ভুল প্রমানিত হলো। মোটামুটিরকম নয় বেশ ভালো মানের ভদ্রলোক। ফেরীঘাটে বাস থেকে নেমে ফেরীর দোতলায় কোনমতে একটা সিট পেয়ে চিড়ানারিকেল চিবোনোর সময় তিনি দুই হাতে দুই ডাব নিয়ে হাজির। ভীষণ কিউট, ডাবের মাথায় ছোট ফুটো থেকে টুকটুকে লাল রঙের দুটো স্ট্র’ও সেখান থেকে যে উঁকি দিচ্ছিল। মনে হলো উফ্ কি যে ভাল মানুষ, আজকালকার দিনেও মানুষ এতো ভালো হয়।

৬. এ যেন ডাবের পানি নয়। দেবতাদের সমুদ্র মন্থনে আহরিত অমৃতসুধাসম। প্রতি চুমুকে এ অমৃত যেন নিয়ে চলেছে গভীর থেকে গভীরতর, তা থেকে গভীরতম প্রশান্তির প্রশান্ত মহাসাগরে।

৭. প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ফিরতেই দেখা গেল, কয়েকজন মানুষ মনে হয় ঘিরে রেখেছে। সে ভীড়ের মধ্য থেকে যেন কেউ একজন জিজ্ঞেসিল, ওই মিয়া যাইবেন কৈ। মনে পড়ল যাবে তো বাড়ী। ধড়ফড় করে উঠে দাঁড়াতেই যে ঘাট দেখতে পেল মনে হলো, যেখান থেকে ফেরীতে উঠেছিল এতো সে ঘাট। হাতঘড়িতে অজান্তেই চোখ চলে গেল। সর্বনাশ ১০ঘন্টা সময় কি করে, কখন, কিভাবে কেটে গেল। তার বাস, তার বাড়ীর সবার জন্য কেনা নতুন জামাকাপড়, পকেটে রাখা বেতন থেকে অল্প অল্প করে জমানো ষোল হাজার টাকা, এত সব গেল কোথা?

৮. মনে পড়ল। সম্বিত ফিরে এল। হুট করেই তোলপাড় তুলে, বুকে কাঁপন তুলে, মাতম জাগিয়ে পড়ল যে মনে। মনে পড়ল, তবে ঘন সবুজাভ অরণ্যাভ কি মিষ্টি, আহা মিষ্টি রঙা ডাবটিই; এতোবড় সর্বনেশে সর্বনাশটা করল।

( ‘চলুন, অন্তত একবার মরি’ গল্পগ্রন্থ- থেকে নেয়া )


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta