আকিব শিকদার এর দু'টি কবিতা | Nobobarta

আজ সোমবার, ০১ Jun ২০২০, ০১:৫৯ অপরাহ্ন

আকিব শিকদার এর দু’টি কবিতা

আকিব শিকদার এর দু’টি কবিতা

সুইসাইড নোট

Rudra Amin Books

মা বাবা রাজি নয়, বলে দিয়েছে- “হয় ছেলেটাকে ভুল,
না হয় এ সংসারের তৃসীমানা ছেড়ে ভাগ।”
মধ্যরাতের বিছানায় মেয়েটা ভাবে, নিম্নশ্রেনীর প্রেমিকার মতো
প্রেমিকের হাত ধরে পালানো তাকে কি মানায়…!

সে চিৎ হয়ে শুয়। বুকের উপর প্রেমিকের দেওয়া মালাটা।
লকেটে চুমুর ভঙ্গিমায় ঠোট লাগাতেই
মনেপরলো, নিশাত তাকে পরিয়ে ছিলো
এক বিকেলে রেললাইনে দাড়িয়ে ।
সে দিয়েছিলো নিশাতের হাতে হাতঘড়ি। আর বলেছিলো-
“আমাকে ভুলে অন্যকারও হাত ধরতে পারবে? অন্যের দেওয়া ঘড়ি
তুমি পরতে পারবে এই হাতে?”
আহা স্মৃতী… তরতাজা স্মৃতী, চোখে ভাসে চোখ বুজলেই।

ভালোবাসার যুদ্ধে পরাজিত সৈনিক, বেচে না থেকে ভালো
মৃত্যুকে বরণ। নৌরিন মালার লকেটে
দুটু চুমু খেলো, আর খেলো গুনে গুনে আঠারোটি
ঘুমের অসুধ। তারপর চিরনিঝুম ঘুম।

পুলিশ তার লাশ নিয়ে গেলো লাশকাটা ঘরে।
গিলটির মালাটা গলা থেকে ছিড়ে
ছুড়ে দিলো ময়লার ঝুড়িতে। দাফন কাফন শেষে নিস্তব্ধ নিরালা।
সপ্তাহখানেক পর মা ঘর ঝারু দিতে গিয়ে দেখে
খাটের নিচে একটা চিরকোট, সুইসাইড নোট, তাতে লেখা-
“আমার মৃত্যুর পর গলা থেকে মালাটি
কেউ খুলবে না প্লিজ, এমনকি শেষ গোসলের বেলাতেও না।
আমি ওর স্মৃতী বুকে নিয়ে কবরে ঘুমাতে চাই।”

এদিকে ছেলেটা কি করে ভুলবে প্রেমিকার মিনতী!
তাই রেলের চাকার নিচে ধরে দিলো দুটো হাত,
কেটে গেলো কনুই অব্দি। এই হাতে সে
কখনো কাওকে জরিয়ে ধরতে চায় না আর।

নাটাই ঘুড়ির গল্প

নাটাইয়ের আধিপত্য ভালো লাগতো না ঘুড়িটার।
সে চাইতো আকাশে আকাশে
মুক্ত জীবন।
নাটাই চাইতো ঘুড়িটা থাক
অনুকুলে; কারনে অকারনে মানুক বশ্যতা।
এই নিয়ে শুরু হলো দ্বন্দ, যেন বন্ধন
ছিন্ন করতে পারলেই বাঁচে।

যেদিন ছিড়লো সুতা, ঘুড়িটা মুখ থুবড়ে
পরলো নর্দমায়। আর নাটাইয়ের স্থান
লাকড়ি রাখার ঘরে।
তালাকনামায় সাইন করে দুতলার সুখি দম্পতিরা
এখন যেন নাটাই ঘুড়ির গল্পটারই প্রতিচ্ছবি।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta