শিক্ষক সংকটে তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় | Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ০৪:২৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
শিক্ষক সংকটে তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

শিক্ষক সংকটে তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

Rudra Amin Books

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার একমাত্র তাহিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে রয়েছে শিক্ষক সংকট। প্রতি বছর শিক্ষার্থী বাড়লেও শিক্ষককের সংখ্যার বাড়ছে না বরং কমছে। আবার যে কয়েকজন শিক্ষক রয়েছেন তারা হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর করলেও স্কুল ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করছেন। এদিকে খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে নামমাত্র শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিভাবক মহলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫০ সালে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষাদান কাজ শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে বিদ্যালয়টি ১৯৫৪ সালে নিম্ন মাধ্যমিক ও ১৯৬০ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায়। ১৯৮৭ সালে ২৭ আগস্ট ৯ জন শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত শিক্ষক ছিলেন ১৬ জন। জাতীয়করণের পর থেকে অনুমোদিত শিক্ষকের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ জনে। ১৯৮৭ সালের পর থেকে কোনো সময়েই ১১ জন শিক্ষক পূরণ হয়নি। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ দুটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। চার শিক্ষক বর্তমানে ৬০০ ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করছেন।

সিনিয়র শিক্ষক ইসলাম ধর্ম শিক্ষার নুরুল ইসলাম শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা মহাব্যবস্থাপকের অফিসের আদেশে ২০১৬ থেকে আজ পর্যন্ত সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় প্রেষণে কর্মরত। তিনি প্রতি মাসের ২-৩ তারিখে তাহিরপুর এসে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে নিয়ে যান। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কখনো লিখিতভাবে অবহিত করেননি। বর্তমানে কমর্রত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন- গণিতে এনায়েত হোসেন, ইংরেজিতে জাহিদুল কামাল, সমাজবিজ্ঞানে এএইচএম লিয়াকত ও কৃষিতে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন।

বিদ্যালয়ের শূন্যপদগুলো হলো- প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, বাংলা, শরীর চর্চা, ভৌত বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের শিক্ষক। নেই অফিস সহকারী। এমএলএসএস পদে দুই জনের বিপরীতে আছেন একজন, নৈশপ্রহরীর পদ পাঁচ বছর ধরেই শূন্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছক একাধিক শিক্ষক ও স্থানীয় কয়েকজন জানান, শিক্ষক সংকট, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকার লোভে র্দীঘদিন ধরেই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর, শ্যামল, শরীফ উদ্দিন, চয়নসহ অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে মাত্র চারজন শিক্ষক রয়েছে, বিষয়টি উদ্বেগজনক। শিক্ষক সংকটের কারণে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান সম্ভব হয় না। এর প্রভাব পড়ছে পরীক্ষার ফলাফলে। আর সঠিক নজরদারি না থাকায় স্কুলের সুনামের পরির্বতে এখন দুর্নাম হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পড়ানো হচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান জানান, বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষকের বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta