ভাইরাসের চেয়ে দ্রুত ছড়ায় গুজব : অপপ্রচারকারীদের শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর | Nobobarta

আজ শনিবার, ০৬ Jun ২০২০, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন

ভাইরাসের চেয়ে দ্রুত ছড়ায় গুজব : অপপ্রচারকারীদের শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর

ভাইরাসের চেয়ে দ্রুত ছড়ায় গুজব : অপপ্রচারকারীদের শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর

Rudra Amin Books

করোনা ভাইরাস এক বৈশ্বিক মহামারী। সমগ্র পৃথিবী জুড়েই তা-ব চালাচ্ছে এই ভাইরাস। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ৩০ হাজার ২০৫ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৪৩২ জনের। আর সুস্থ হয়েছেন ৬১৯০ জন। আজ শুক্রবার পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় বাংলাদেশে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬৯৪ জন আর মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের।

এ মহামারী ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকার ঘোষনা করেছে সাধারণ ছুটি। ফলে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রাস্তা ঘাট পুরো ফাঁকা। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী ১৬ কোটি মানুষ এখন গৃহবন্দী। এই বন্দীদশায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন। স্বল্প আয়ের মানুষদের চিন্তা খাবার নিয়ে। দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

এমন অবস্থা থেকে সাধারণ মানুষদেরকে রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে সরকার। পাশাপাশি এগিয়ে আসছেন সমাজের বিত্তবানরা। দাঁড়িয়েছেন অসহায় এসব মানুষদের পাশে। সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে চলছে ত্রাণ বিতরণ। ঘরে ঘরে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন তারা।

তবে ভাইরাসের চেয়ে ক্ষতিকারক হয়ে উঠেছে গুজব। করোনা ভাইরাস নিয়ে নানা গুজব ছড়ায়। লকডাউনে বাসায় বসে থাকায় মানুষের হাতে এখন অফুরন্ত সময়। তাই গুজব ছড়িয়ে কাটছে তাদের দিন।

সুযোগসন্ধানী স্বার্থান্বেষী মহল ফায়দা লুটার চেষ্টায় গুজব ছড়াচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে। সঠিকভাবে ত্রাণ বিতরণ করেও অনেক জনপ্রতিনিধির ভাগ্যে জুটছে স্বজনপ্রীতির তকমা। নির্বাচনে পরাজিত প্রতিপক্ষ আর স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীরা একাট্টা হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মেতে উঠেছেন নানা অপপ্রচারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে গুজব রটাচ্ছেন তাদের নামে। রাত জেগে অসহায় মানুষদের দোয়ারে দোয়ারে গিয়ে খাদ্য পৌছে দিয়েও তারা অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই চক্র তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। অসহায় মানুষদের ভুল বুঝিয়ে ক্ষেপিয়ে তুলছেন।

এমন অবস্থা বিরাজ করছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৫নং ওয়ার্ডে। দিনরাত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌছে দিলেও অপপ্রচারকারীরা কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদের বিরুদ্ধে নানা গুজব রটাচ্ছেন। ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলছেন তারা। মূলত অনিয়মের ধোঁয়া তুলে স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যস্ত এই চক্র। এমনকি এরা ত্রাণ বিতরণেও বাধা দিচ্ছে। উসকে দিচ্ছে সাধারণ মানুষদের। তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে চক্রটি। তারা ‘প্রতিবাদ’ এর নামে জটলাও পাকাচ্ছে। অথচ জনসমাগম থেকে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঘটতে পারে দ্রুত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত কয়েকদিন ধরে কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদের বিরুদ্ধে নানা গুজব রটে। এসব গুজবের ব্যাপারে খোঁজ নিতে মাঠে নামে নববার্তার টিম। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদের ‘দরিদ্রপ্রীতি’কে ‘স্বজনপ্রীতি’ বানানোর চেষ্টায় চক্রটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২ মাসে ওয়ার্ডের বড়বাজার, গোয়াইপাড়া, রায়হোসেন, খাসদবীর, হাজারীবাগ, হোসনাবাদ, কলবাখানী ও টিবি কোয়ার্টার এলাকার ৪ হাজার ২শ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী পৌছে দেয়া হয়। কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ ঘরে ঘরে গিয়ে খাদ্য পৌছে দেন। রাতভর প্রতিটি হত দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের হাতে ত্রাণ দিয়ে আসেন তিনি। সরকারের উদ্যোগে সিসিকের পক্ষ থেকে এই ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হয়।

এছাড়া ৫নং ওয়ার্ডের জন্য সরকারি বরাদ্দ আসে আরো ১৩ টন চাল। দরিদ্র মানুষের তুলনায় তা সত্যিই অপ্রতুল। তবুও কাউন্সিলর রেজওয়ান এই সীমিত চাল কিভাবে প্রতিটি দরিদ্র পরিবারের কাছে পৌঁছানো যায় তা নিয়ে নিরলস কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই চাল থেকে ইতোমধ্যে হাজারীবাগ এলাকার ৪৭০, হোসনাবাদ এলাকার ৩০০, খাসদবীর এলাকায় ১১০০, রায় হোসেন এলাকায় ৩০০ ও কলবাখানী এলাকায় ৩০০টি পরিবারকে দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি পরিবারে চাল পৌছে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কাউন্সিলর। তিনি জানান দরিদ্র পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে তাদেরকে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি গত দুই মাসের মধ্যে ওয়ার্ডের ১৬০ জন প্রতিবন্ধীকে চার বার খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে গত ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ রিজেনারেশন ট্রাস্ট ইউকে’র উদ্যোগে তাদেরকে এ খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়। জানা যায়, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ। রমজান, ঈদ ছাড়াও বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে এই অসহায় মানুষগুলোর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। করোনাভাইরাসের প্রকোপ কালেও প্রতিবন্ধীদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়। এবং আজ শুক্রবার ইস্ট হ্যান্ডস নামক সংগঠনের উদ্যোগে তাদেরকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।

তাছাড়া অনেক মধ্যবিত্ত মানুষ যারা লোক লজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারছেন না তারা কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদকে ফোন দিচ্ছেন। ফোন পেয়েই তিনি তাদের নাম ঠিকানা লিখে রাখছেন। খোঁজ নিয়ে গোপনে তাদের বাড়িতে ত্রাণ পৌছে দিচ্ছেন।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আব্দুল মোমেনের ‘মোমেন ফাউন্ডেশন’ থেকে এই ওয়ার্ডে আরো ১ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, সিলেট চেম্বার অব কমার্স, সিটি ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ ও লন্ডনের চ্যানেল এস সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ত্রান বিতরণ করা হয়েছে।

সাথে স্থানীয় বিত্তবান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কাছ থেকেও ত্রান সহায়তা নিয়ে তা অসহায়দের কাছে পৌছে দিয়েছেন কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ।

পাশাপাশি তিনি নিজ উদ্যোগে দুই দফায় ২ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি এলাকায় একাধিকবার খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। এমনকি কোন কোন এলাকায় ৩ থেকে ৪ বারও দেয়া হয়েছে।

এতকিছুর পরেও গুজব ছড়াচ্ছে একটি মহল। তারা নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

জানা যায়, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত ৫নং ওয়ার্ড। তারপরও কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ ‘সাধ্যের মধ্যে সবটুকু সুখ’বাক্যে বিশ্বাসী হয়ে এগিয়ে চলেছেন এই মহামারী মোকাবেলায়। দুই ধাপে ৮৫০ পরিবারকে রেশন কার্ড দেয়া হয়। এই কার্ড প্রদানের বিষয়ে গুজব রটে স্বজনপ্রীতির। তবে সরেজমিন এই অনুসন্ধানে উঠে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। সেখানে স্বজনপ্রীতি নয় বরং দরিদ্রপ্রীতিরই সত্যতা মিলে। উপকারভোগীদের সাথে সরাসরি কথা বলে দেখা গেছে যারা কার্ড পেয়েছেন সবাই কার্ডের যথার্থ দাবিদার। পরিবারিক অস্বচ্ছলতার সাথে এই মহামারীর প্রকোপ তাদের জীবনকে অসহনীয় করে তোলেছিল।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে অস্বচ্ছল মানুষদের তালিকা তৈরী করা হয়েছে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে। এক্ষেত্রে কেউ কেউ প্রকৃত তথ্য বিশেষ করে পেশা গোপন করেছেন। কিন্তু তা তথ্য সরবরাহকারীদের জানার বাইরে। বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে একদল অপপ্রচারকারী তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছেন। বাস্তব চিত্র তুলে না ধরে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষের মাঝে তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

প্রতিপক্ষ বা জনপ্রিয় কারো বিরুদ্ধে গুজবকে এখন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ঠিক সেটি ঘটেছে। নির্বাচন থেকে শুরু করে যেকোন সময় টানা তিন বারের বিজয়ী জনপ্রিয় এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওয়ার্ডবাসীর ভালোবাসা আর বিশ্বাসের স্থান কাউন্সিলর রেজওয়ান প্রতিবারই এই গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে জয়ী হোন। দেশের এমন ক্রান্তি লগ্নেও থেমে এই অপপ্রচারকারীরা। তারা গুজব রটান কাউন্সিলর রেজওয়ান কারো আইডি কার্ড গ্রহণ করছেন না। যদিও আইডি কার্ড গ্রহণের সরকারি কোন নির্দেশনা পাননি কাউন্সিলররা তারপরও কাউন্সিলরের অফিসে গিয়ে দেখা গেছে আইডি কার্ডের স্তুপ। তিনি যদি কার্ড জমা নাই নিবেন তাহলে এত কার্ডের ফটোকপি আসলো কোথা থেকে? এমন প্রশ্ন থেকেই যায়। অফিসে গিয়ে দেখা গেছে রেজওয়ান আহমদ আইডি কার্ডগুলো কেবল জমাই রাখেননি, কম্পিউটারে সব আইডি কার্ডের তালিকাও প্রস্তুত করেছেন। উপকারভোগীচ্ছু এসব মানুষের নাম, ঠিকানা, আইডি ও ফোন নাম্বার দিয়ে এলাকাভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করেছেন তিনি। সেই তালিকা ধরেও ত্রাণ দেয়া হচ্ছে।

ঘুম হারাম কর্মচারীদের : করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় যারা করছেন তাদের মধ্যে সরকারি কর্মচারীরাও অন্যতম এক অংশ। ৫নং ওয়ার্ডের করোনাযুদ্ধাদের ঘুম হারাম অবস্থা। অন্যান্য ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে সেখানকার চিত্রের সাথে ৫নং ওয়ার্ডের কর্মচারীদের পরিশ্রমের চিত্রের কোন মিল পাওয়া যায়নি। এই ওয়ার্ডের কর্মচারীরা দিনরাত খেটে চলেছেন। বাড়ি বাড়ি ঘুরে ত্রাণ পৌছে দেয়া, তালিকা তৈরি, স্বাক্ষর গ্রহণের কাজ কেবল দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। গভীর রাত পর্যন্ত এমনকি সেহরী পর্যন্তও প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে গিয়ে খাবার পৌছে দিচ্ছেন তারা। অফিস সহকারী মোহাম্মদ ছাবু বলেন, আমি গত কয়েক দিন হাতেগুনো কয়েক ঘন্টা ঘুমিয়েছি। দিনভর খাদ্যের প্যাকেট তৈরিসহ অন্যান্য কাজ করে বাসায় যাই। আবার ইফতারের পরপরই ছুটে আসি অফিসে। তারপর রাতভর চলে ত্রাণ বিতরণ। সেহরী পর্যন্ত অসহায় মানুষদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে খাদ্য পৌছে দিয়ে আসি।

হামলা ও লুট : দেশের এমন মহামারী লগ্নেও চলছে কিছু অসৎ মানুষের বিভৎস কার্যক্রম। ওয়ার্ডের হুসনাবাদ এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যায় এমন একটি ঘটনা। কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় ত্রাণ নিয়ে গেলে স্থানীয় কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি তাদের উপর হামলা চালায়। রণি গাজীর নেতৃত্বে এই হামলায় লুটপাটও করা হয়। ত্রাণের ১৮টি প্যাকেট লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ ঘটনার পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

এসকল গুজবের ব্যাপারে কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদের সাথে আলাপকালে বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে গুজব রটাচ্ছে। রাত জেগে প্রতিটি ঘরে গিয়ে আমি নিজের হাতে মানুষদের ত্রাণ দিয়ে এসেছি। স্বজনপ্রীতি তো দূরে থাক তারা আমার ভোটার কি না তাও আমি জানতে চাই নি। আমি শুধু চাই এই মহামারীর সময়ে যেনো কেউ অনাহারে না থাকে। আমি যথাসাধ্য সবাইকে ত্রাণ দিয়ে যাচ্ছি। আমি ঘরে ঘরে গিয়ে এভাবে ত্রাণ পৌছে দেয়ায় প্রতিপক্ষরা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। তারা চান না আমি সবার কাছে ত্রাণ পৌছে দেই।

তথ্য গোপনের বিষয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। সেখানে স্বজনপ্রীতির কোন সুযোগ নেই। তারপরও প্রতিপক্ষরা আমার ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে বাধা প্রদান করছে। বিক্ষোভ প্রদর্শনের নামে ওয়ার্ডের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতিই এদের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, কেউ যদি নিজের তথ্য গোপন করে সেক্ষেত্রে তালিকা প্রস্তুতকারীদের কিছু করার থাকে না। মূলত আমার প্রতিপক্ষরা এটাকে ইস্যু বানানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। আমি আমার ওয়ার্ডবাসীকে অনুরোধ জনাবো তাদের অপপ্রচারে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। তিনি বলেন, এরা মূলত একটা সিন্ডিকেট। তারা কেন মিথ্যা অপবাদ রটাচ্ছে? কি তাদের উদ্দেশ্য? তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কি? তা খতিয়ে দেখা উচিত। কারন তারা সরকারের ত্রান তৎপরতাকে বিতর্কিত করতেই এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বড় বাজার সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি গোলাম ইজদানী খান বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ টানা তিন বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর। নির্বাচনের সময়েও তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার অফিস ভেঙ্গে দেয় সন্ত্রাসী চক্র। বর্তমানে তাদের সাথে যোগ দিয়েছে এলাকার কিছু অসৎ ব্যাক্তিবর্গ, যারা রেশন কার্ড নিয়ে সম্প্রতি এলাকায় এক ধরনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে রেজওয়ানের অফিসে মিছিল করে আসে লক ডাউন উপেক্ষা করে। আমি প্রশাসনিক ভাবে এর বিহিত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লীষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। তিনি আরো জানান, কাউন্সিলরের সচিব বাদী হয়ে ঈদগাহ এলাকার ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় মামলা করেছেন। সেই সাথে দুদকসহ সকল গোয়েন্দা সংস্থাকে সন্ত্রাসী দুষ্ট চক্রসহ চিহ্নিত ও আইনের আওতায় নেয়ার সমাজ কল্যাণের পক্ষ হতে আলোচনা স্বাপেক্ষে পদক্ষেপ গ্রহন করব।

এ বিষয়ে বড় বাজার সমাজকল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর এলাহি কাওসার (স্বপন) বলেন, এ ধরণের কাজের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই”। তিনি আরো বলেন, এ ধরণের অসত কাজে লিপ্ত লোকের জন্য সৎ ব্যক্তিদের কাজে বাঁধা ও ভবিষ্যতে ভালো কাজে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান।

তথ্য অনুযায়ী ৫নং ওয়ার্ডে দরিদ্র পরিবারের সংখ্যা অন্যান্য ওয়ার্ডের তুলনায় বেশি। যার তুলনায় সরকারি ত্রাণ খুবই অপ্রতুল। তারপরও সরকার, সিলেট-১ আসনের এমপি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় বিত্তবান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় চলছে এলাকায় ত্রাণ বিতরণ। তবুও কিছুতেই ত্রাণ সংকুলান হচ্ছে না। তারপরও কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ চেষ্টা করছেন যেনো ওয়ার্ডের একটি দরিদ্র পরিবারও অনাহারে না থাকে। তিনি তার ব্যক্তিগত উদ্যোগেও ত্রাণ বিতরণ করছেন। দেশের এমন সময়ে যেখানে লুটপাট একটি প্রবল সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে সেখানে ৫নং ওয়ার্ডে ভিন্ন চিত্র বিরাজ করছে।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta