ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডারের কারখানা রংপুরের আবাসিক এলাকায় | Nobobarta

আজ শনিবার, ০৬ Jun ২০২০, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন

ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডারের কারখানা রংপুরের আবাসিক এলাকায়

ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডারের কারখানা রংপুরের আবাসিক এলাকায়

Rangpur-02032019

Rudra Amin Books

রংপুর প্রতিনিধি : গত চার বছরে দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবহার বেড়েছে পাঁচগুণ। চাহিদা বাড়ায় বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। ফলে যেখানে সেখানে অবৈধভাবে মজুদ করে এই ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার বেচাকেনা বেড়েছে। বেশিরভাগ দোকানি বিস্ম্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই এ ব্যবসা করছে।

এলপি সিলিন্ডার এখন পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে। এসব দোকানির অনেকেরই ট্রেড লাইসেন্স নেই। গ্যাস সিলিন্ডার বেচাকেনারও অনুমোদন নেই। এসব দোকানে নেই আগুন নির্বাপক যন্ত্র। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রতিকারেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ম্ফোরণের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।রংপুর অঞ্চলে গ্যাস সংযোগ না থাকলেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে সিলিন্ডার গ্যাসের। আর এইখানেই ঘটছে বিপত্তি। সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার। ক্রেতার চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই ব্যবসায়ীরা মজুদ করা শুরু করেছেন অধিক হারে।

গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রির নির্দিষ্ট দোকান ছাড়াও বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দোকানে। স্টুডিও, লন্ড্রি, মুদি দোকান, ওষুধের দোকান সহ বিভিন্ন ধরনের দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে গ্যাসের সিলিন্ডার।পাশাপাশি রয়েছে ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুদ। সবথেকে ভয়ংকর বিষয় অধিকাংশ ব্যবসায়ী এই সকল মজুদ গড়ে তুলেছেন আবাসিক এলাকার মধ্যে। যদিও অধিকাংশ ব্যবসায়ী অনুমোদনের কোন তোয়াক্কা করেন না। যার অনুমোদন রয়েছে সে মজুদ করছে লাইসেন্সে প্রাপ্ত অনুমোদনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি তা তারচেয়েও বেশি।বিস্ফোরকদ্রব্যের নিয়মনীতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ছাড়াই রংপুরের আশরতপুর ঢাকাইয়াপাড়ায় গড়ে উঠেছে ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড নামের একটি গ্যাস সিলিন্ডার কোম্পানির গোডাউন, যা ইতিমধ্যে আতংকিত করে তুলেছে বসবাসকারী বাসিন্দা সহ পথচারীদের।এলাকাবাসীরা জানায়, এলাকার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ইসলাম চাউল কলের মালিক রবিউল ইসলাম হটাৎ করে তার চাউল কল ও চাতালের ব্যবসা বন্ধ করে সেখানে একটি গোডাউন ঘর তৈরি করেন, গত ৭ ফেব্রুয়ারি গোডাউনটি ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড কে ভাড়ায় দেয়ার পর থেকে পুরো এলাকা এখন আতংকে। তবে পাশেই অটো রাইচ মিল থাকায় আতঙ্ক বেশি। কারণ হাজারগুণ শক্তির আগুনের কারাবার হয় পাশের চাতালে।

এজন্য যেকোনও সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।এলাকাবাসী আরও জানায়, ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের এই ডিপোটি তাদের মজুদ করা গ্যাস সিলিন্ডার রংপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে লাইসেন্স বিহীন ছোট-বড় মুদি-দোকান, পানের দোকান সহ ফ্লেক্সিলোডের দোকানগুলোতে বিক্রি করে আসছে, যার ফলে যেকোনো মুহুর্তে ঘটতে পারে বড় দূর্ঘটনা।গোডাউনের মালিক রবিউল ইসলামের ছোট ভাই- হযরত আলি চাউল কলের স্বত্বাধিকারী রেজাউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তারা দুই ভাই দীর্ঘদিন উক্তস্থানে চাতালের ব্যবসা করে আসছিলো, হটাৎ করে তার বড় ভাই রবিউল ইসলাম চাতাল ভেঙ্গে গোডাউন তৈরি করে, বারবার বাধা দেয়ার পড়েও সেটি গ্যাস সিলিন্ডার গোডাউনের জন্য ভাড়া দেয়া হয়।রংপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী, সেবা গ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে এমন কোনো কাজ করলে তিন বছরের কারাদণ্ড, বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে-দ্বণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ জ্বালানি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করে পরিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে যত্রতত্র বিক্রি করছে।

এ কারণে শিগগিরই অমরা অবৈধভাবে এই জ্বালানি বিক্রি বন্ধে অভিযান চালানো হবে।রংপুর সিটিকর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের নাম মাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে রংপুরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় যেসব গ্যাস সিলিন্ডার কোম্পানির গোডাউন ও ক্যামিকেল কারখানা গড়ে উঠেছে, খুব শীঘই অভিযান চালিয়ে বন্ধ করা হবে এবং পরবর্তীতে কোনো অবৈধ কারখানা যাতে সিটিকর্পোরেশন এলাকায় স্থাপন না হয় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta