করোনা আতঙ্কে স্বেচ্ছায় লকডাউনে পঞ্চগড়বাসী | Nobobarta

আজ সোমবার, ২৫ মে ২০২০, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
নাটোরের লালপুর-বাগাতিপাড়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করোনায় আরও ২১ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৯৭৫ সিলেটে ঈদ নামাজের মুনাজাতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মুসল্লিরা আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের কুমড়া কিনে মানুষের বাড়ি গিয়ে বিতরণ করলেন কাউখালীর ইউএনও “এবারের ঈদের আনন্দ পরবর্তী বছরের জন্য রইল”-মোরাদ কুমিল্লার বাঙ্গরায় স্টার যুবকল্যাণ ট্রাস্টের ঈদ সামগ্রী বিতরণ পঞ্চগড়ে অনুসন্ধিৎসু চক্রের ঈদ উপলক্ষ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ঈদে আসাদুজ্জামান নূরের ‘বাঘবন্দী’ ঘরে বসেই পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করুন : প্রধানমন্ত্রী কমলগঞ্জে কাতার প্রবাসী সফিকুল ইসলামের পক্ষথেকে ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ
করোনা আতঙ্কে স্বেচ্ছায় লকডাউনে পঞ্চগড়বাসী

করোনা আতঙ্কে স্বেচ্ছায় লকডাউনে পঞ্চগড়বাসী

Rudra Amin Books

নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে রোগীর মৃত্যুর পর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে নগরবাসীর মধ্যে। এই আতঙ্কে শহরে বসবাসরত সিংহভাগ মানুষ এখন নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বেচ্ছায় লকডাউনে চলে গেছেন।

মঙ্গলবার জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জে শ্বাসকষ্ট জ্বর কাশি নিয়ে এক মেয়ের (১৩) মৃত্যুর পর আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে এলাকাবাসী। মুহূর্তেই খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিকেলের পর থেকে স্থবিরতা নেমে আসে। যদিও সংগৃহীত নমুনা আজ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

অথচ দুদিন আগেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রচারাভিযান, মাইকিং, গণবিজ্ঞপ্তি করে তাদের ঘরে রাখা সম্ভব হয়নি। এমন আতঙ্ক থেকে বাদ পড়েনি শিশু থেকে বয়স্ক আর বেকার থেকে ব্যবসায়ী পর্যন্ত। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও তা অনেকেই তখন গ্রাহ্য করেননি। সর্বশেষ গতকাল সরকারের পক্ষ থেকে যখন সারা দেশে মসজিদে নামাজ আদায়ে মুসল্লিদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয় তখনই যেন অন্ধকারের মধ্যে ঘন কুয়াশা নেমে আশার মত আতঙ্ক সবার মনে বিরাজ করছিল। তখনই পাড়ামহল্লার সব বয়সিরা নড়েচড়ে বসেন। আর ভাবছেন কি হতে চলছে দেশে। স্থবিরতা নেমে এসেছে নগর থেকে গ্রামে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে তারা পাড়ার ভেতরে বহিরাগতদের প্রবেশ ও ভেতরে অপ্রয়োজনে কারও বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। বন্ধ করে দিয়েছেন পাড়ায় ঢোকার প্রবেশপথ। অনেকেই আবার করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে নিরাপদ থাকতে বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে কেউকেউ বাড়ির রাস্তায় বা পাড়ার প্রবেশমুখে লিখে রেখেছেন বহিরাগত প্রবেশ নিষেধসহ জরুরী সব নির্দেশনা।

বুধবার দেখা যায়, জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পাড়ার সামনের রাস্তার প্রবেশমুখে লেখা রয়েছে, ‘বহিরাগতরা পাড়ায় প্রবেশ নিষেধ, স্টে হোম, স্টে সেইফ, লকডাউন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলুন।’

পৌরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা দুটি প্রবেশ মুখে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে স্বেচ্ছায় লকডাউনে যান। পাড়ার একাধিক বিকল্প রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে জরুরী প্রয়োজনে একক রাস্তা খোলা রাখা হয়েছে। ‘বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধ’ কাগজে লিখে গেটে লাগানো হয়েছে সতর্কবার্তা। সঙ্গে রয়েছে একটি সতর্কীকরণ পোস্টার। সেখানে গেটের পাশে লাল কালিতে লেখা রয়েছে, ‘বহিরাগত প্রবেশ নিষেধ, ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, লকডাউন।’ গেটের অন্য পাশে লেখা, ‘প্রবেশ নিষেধ, লকডাউন।’

একই অবস্থা সদর উপজেলার। শহরের রাজনগর, বানিয়াপট্টি, তুলারডাঙ্গা, কামাতপাড়া, জালাসী, ডোকরোপাড়া, রওশনাবাগ, ইসলামবাগসহ প্রত্যেক এলাকায় প্রবেশ পথে স্থানীয়রা নিজেরাই বাঁশ বেঁধে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বাঁশের পাশাপাশি গাড়ির টায়ার, টিন ও গাছের গুড়িও ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক এলাকার প্রবেশ পথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান ও পানি রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, করোনাভাইরাসের আক্রমন থেকে কোনো দেশ রক্ষা পায়নি । এর হানায় সারা বিশ্ব আজ বিনা যুদ্ধে অবরুদ্ধ। প্রতিদিন শুনতে হচ্ছে স্বজন হারানো মৃত্যুর মিছিল। বিশ্বের ধনী সব রাষ্ট্র যখন তার কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে সেখানে আমদের দেশের জন্য করোনা মোকাবেলা করাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক। আর করোনার রীতি অনুযায়ি সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ন্যয় আমাদের দেশেও করোনাভাইরাস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের একার পক্ষে এই করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; যদি না আমরা নিজ থেকে সচেতন হই। সরকার থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মানুষকে প্রতিদিন সচেতন করার চেষ্টা করছে। তাদের এই সচেতনতা কেউ মানছেন, কেউ আবার মানছেন না। তাই নিজের সুরক্ষায় ও পাড়ার বাসিন্দাদের করোনার হাত থেকে বাঁচাতে আমরা সচেতনতামূলক এ উদ্যোগ নিয়েছি।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের এলাকাগুলোতে প্রতিদিন অনেক মানুষ যাতায়াত করেন। এবং কারণে-অকারণে এলাকায় অনেক বহিরাগত আসেন। তাদের যাতায়াতের কারণে এখানে করোনার সংক্রমণ হতে পারে। বহিরাগতদের কে কেমন তা বুঝা অসম্ভব। আর তাই এই মহামারি থেকে যেন নিরাপদ থাকা যায় সেজন্য ঝুঁকি এড়াতে এলাকাবাসী এ উদ্যোগ নিয়েছেন।

একইভাবে পাড়ার লোকজনের বাইরে বের হওয়ায় ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে নগরের বিভিন্ন এলাকায়। পাড়া কর্তৃপক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাসহ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ পাড়ার বাইরে যেতে বা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বহিরাগতরা পাড়ার ভেতর প্রবেশ করতে পারবেন না।

তবে জেলা প্রশাসন থেকে পুরো জেলা লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া না হলেও দুপুর ১ টার মধ্যে ওষুধের দোকান ব্যতীত বাকী সব দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল অব্যাহত রয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ব্যতীত বাকী যান চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে দেখা গেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে।

প্রসঙ্গত করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে নিরাপদ থাকতে পঞ্চগড়ের অধিকাংশ পাড়া মহল্লা স্বেচ্ছায় লকডাউন করা হয়েছে।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta