ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কে. এম. টি হুসেইন এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ | Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ০২ Jun ২০২০, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন

ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কে. এম. টি হুসেইন এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কে. এম. টি হুসেইন এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

K M T Hussain
ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কে. এম. টি হুসেইন

Rudra Amin Books

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফরিদপুর জেলাস্থ নগরকান্দা উপজেলার গজারিয়া গ্রামের মরহুম কে. এম. টি হুসেইন (১৯৩৬-২০১৩) একজন রাষ্ট্রীয় সম্মানপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার এবং ভাষাসৈনিক ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে তিনি পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখসমরে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালে তিনি ফরিদপুরের ঈশান স্কুলে অধ্যায়নরত অবস্থায় রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে সহপাঠীদের সাথে মিছিল মিটিংএ অংশগ্রহণ করেন এবং তদানীন্তন প্রশাসনের রোষানলে পড়েন।

তিনি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ সরকারী মুদ্রণালয় (BG Press) এর Pakistan Civil Service পরবর্তীতে Bangladesh Civil Service এর Non BCS Cadre ভুক্ত ‘শ্রম-কল্যান অফিসার’ (১ম শ্রেণির গেজেটেড অফিসার) সহ বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারী মুদ্রণালয় এর CBA এর নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য পেয়েছিলেন। চাকুরীর পাশাপাশি তিনি লেখালেখি করতেন। দৈনিক বাংলা এবং ইত্তেফাকে তার লেখা কলাম এবং চিঠিপত্র বিভাগে তার লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হতো।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চন্ডিবরদী গ্রামে রাজাকার এবং পাক হানাদারগণ আগুন জ্বালাতে এলে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে আক্রমণ করার প্রস্তুতি নিলে আমার বাবা তখন তার সরকারী পরিচয়পত্র দেখিয়ে জীবনের মায়া ছেড়ে দিয়ে উর্দু ভাষায় পাকবাহিনীদের সাথে তুমুল বাক-বিতণ্ডা করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের উপরে আক্রমণ করতে নিষেধ করেন অন্যথায় রাজাকার ও পাকবাহিনীর হানাদারদের হত্যাকরা হবে বলে হুমকি দেন। তার কথায় রাজাকার ও পাকবাহিনী ভড়কে যায় এবং উক্ত গ্রাম থেকে দ্রুত চলে যায়। একারণে উক্ত গ্রামেরে নিরীহ জনগণ পাকহানাদারদের হাত থেকে রক্ষা পান। (তথ্যসূত্রঃ সোলায়মান আলী মোল্লার লিখিত ‘ফরিদপুরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ গ্রন্থ এবং ড. তপন বাগচীর লিখিত ‘মুক্তিযুদ্ধে গোপালগঞ্জ’ গ্রন্থ)।

তিনি মেজর আজিজ মোল্লার নেতৃত্বে পাক হানাদারদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং একপর্যায়ে আহত হন। দেশ স্বাধীন হবার পরে তিনি সরকারী চাকুরী থেকে অবসর গ্রহন করে BEXIMCO Group এ Manager Administration পদে দীর্ঘ বছর কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি SILVA Group এর ম্যানেজার (প্রসাশন), Top Taste Food Processing Ltd এর জেনারেল ম্যানেজার, Kawlam Sweater Ltd এর জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) এবং Industrial Consumers Supply Ltd এর জেনারেল ম্যানেজার এর পদে চাকুরী করেন। ২০০১ সালে তিনি চাকুরী জীবন সমাপ্ত করে নিজ জন্মস্থান ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার গজারিয়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন। এলাকায় বসবাস কালীন সময়ে তিনি পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল এবং উপজেলা আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধালীগ এর সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকালে উপজেলা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত ‘বিজয় দিবসের সরকারী অনুষ্ঠানে’ তার সভাপতিত্ব করার কথা থাকলেও উক্ত দিন সকাল ৫ ঘটিকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আজ ১৬ ডিসেম্বর মরহুম কে. এম. টি হুসেইন এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও শোকবার্তা পাঠিয়েছেন মাননীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি, তাঁর পুত্র জননেতা শাহদাব আকবর চৌধুরী লাবু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta