প্রধান কারারক্ষী বহাল : বাগেরহাট কারাগারে টাকা ছাড়া দেখা মেলে না! | Nobobarta

আজ সোমবার, ০১ Jun ২০২০, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন

প্রধান কারারক্ষী বহাল : বাগেরহাট কারাগারে টাকা ছাড়া দেখা মেলে না!

প্রধান কারারক্ষী বহাল : বাগেরহাট কারাগারে টাকা ছাড়া দেখা মেলে না!

Bagerhat Central Jail

Rudra Amin Books

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট : বাগেরহাট জেলা কারাগারে টাকা ছাড়া বন্দীদের স্বাক্ষাত মেলে না। টাকা দিলেই স্বজনরা দেখা করতে পারেন বন্দীদের সাথে। প্রতিনিয়িত সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রধান কারারক্ষী দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে চলে এই অর্থবানিজ্যে।

জানা গেছে, কারাগারে অভ্যান্তরে কেন্টিনের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মুল্যে বন্দীদের কাছ থেকে কয়েকগুন হাতিয়ে নেয়।নিত্যদিনের চিত্র এই কারাগারের। জামিনে মুক্তি পাওয়া একজন ব্যক্তি জানান, রান্না ছাড়া একটি ডিমের মুল্যে ২০ টাকা, একশ গ্রাম কাচাজাল ২০ টাকা, এককেজি গরুর মাংস ১২ শ টাকা, ২৫০ গ্রাম পিয়াজ ৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন কারারক্ষীরা। এভাবেই প্রতিটি জিনিসের দাম নেন তারা। কারাগারে বন্দীদের সাথে সাক্ষাতে আসা কয়েকজন নারী ও পুরুষ বলেন, ‘৩’শ থেকে ৫’শ টাকা পর্যন্ত দেখা করতে নেন। ষ্পেশাল দেখা করতে আরও বেশি টাকা নেন। আমাদের নাম জানলে আর দেখা করতে দেনে বলে না প্রকাশ করতে চাননি তারা’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারারক্ষীরা জানান, প্রধান কারারক্ষী দেলোয়ার হোসেন অসাধু উপায়ে হাজতীদের স্বাক্ষাতের নামে প্রতিদিন ৬-৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। বাগেরহাট কারাগারের অভ্যান্তরিন তদন্তের পর গত চার মাস ধরে দেলোয়ার কারাগারের বাহিওে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানেও তিনি অনিয়ম করে আসছেন। সকলেই যেন মুখ বুজে থাকছে। এখানে তার কর্মকালিন ৩ বছর পার হলেও বিশেষ ক্ষমতায় থেকে যাচ্ছেন বহাল তবিয়াতে। তারা আরও বলেন, উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে বিশেষ সুবিধার বিনিময় তিনি দেলোয়ার অনিয়ম করে আসছেন।

গত বছর প্রথম দিকে বাগেরহাট কারাগারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে চার কর্মকর্তার বিরুদ্বে অভিযোগ ওঠে। এরপর জেলা প্রশাসক নির্বাহী বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে জেলা কারাগারের সুপার গোলাম দস্তগীর, ডেপুটি জেলার মো. শেখ রাসেল, প্রধান কারারক্ষী মো. দেলোয়ার হোসেন ও শরিফুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে কারাগারের নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি প্রমানের তথ্য ও উপাত্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত করে ওই বছরের ৫ জুলাই বাগেরহাট নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিন ৪২ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এর মধ্যে ডেপুটি জেলার মোঃ শেখ রাসেল ও কারারক্ষী দেলোয়ার বদলী হলে বহাল তবিয়াতে রয়েছে সুপার ও প্রধান কারারক্ষী দেলোয়ার। দেলোয়ার এখনও অনিয়ম কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বহাল তবিয়াতে। প্রতিবেদনে তৎকালিন বাগেরহাট সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পিযুষ চন্দ্র দে’এর স্বাক্ষর জাল করে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির আশ্রয় নেয় তারা বলে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া ওই তদন্ত প্রতিবেদনে কারাগারের মসজিদের অনুদানের ৫ মাসের টাকা জমা-খরচের খাতায় জমা না দিয়ে উত্তোলন করে নেয়। এছাড়া খোদ ষ্টাফদের কাছ থেকে মসজিদের নামে নেয়া অর্থও আত্মসাত করেন তারা। কারাগার অভ্যন্তরের ক্যান্টিনের জন্য প্রতিমাসে ৪০ হাজার টাকা এবং বাহিরের ক্যান্টিন নেয়ার সময় ২০ হাজার টাকা করে সুপারকে দিতে হয়েছে। কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. রাসেল তার অফিস কক্ষে টাকার বিনিময় হাজতিদের আত্মীয়স্বজনের সাথে সরাসরি স্বাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন। এছাড়া তিনি বাড়তি টাকা গ্রহন করে কারা অভ্যান্তরে নগদ টাকা ঢোকার ব্যবস্থা করেন। কারাগারের প্রধান কারারক্ষী দেলোয়ার হোসেন ও শরিফুল ইসলাম ৯ মাসের বাসা ভাড়া কর্তন না করে অর্থ আত্মসাতের আশ্রায় নেয় এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পিযুষ চন্দ্র দে’এর স্বাক্ষর জাল করে দূর্নীতির আশ্রায় নেয়। বাগেরহাট কারাগারের নবাগত জেলার মো. মহিউদ্দিন এপ্রতিবেদককে বলেন, অনিয়মের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি সম্প্রতি যোগদান করছি। তবে এখানে কোন দূর্নীতির প্রশ্রয় দেয়া হবে না।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta