সাওদার বন্ধু মোরগ : আবুল বাশার শেখ – Nobobarta

আজ শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
আজ উদয় সমাজ কল্যান সংস্থা সিলেটের ১২তম ওয়াজ মাহফিল দলীয় কার্যালয় সম্প্রসারণের লক্ষে আগৈলঝাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির প্লট উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের কাছে হস্তান্তর যবিপ্রবিতে ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশের নতুন কমিটি গঠন আটোয়ারীতে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত জবি রোভার দলের হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণের উদ্বোধন মারুফ-তানহার ‘দখল’ লক্ষ্মীপুরে রামগতি পৌরসভায় ৮ কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতি চেষ্টার অভিযোগ নলছিটিতে যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার সভাপতি সরফরাজ, সম্পাদক লিটন রাজাপুরে আ.লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন-২০১৯ অনুষ্ঠিত সহকারী পরিচালক সমিতির নির্বাচন আগামীকাল!!
সাওদার বন্ধু মোরগ : আবুল বাশার শেখ

সাওদার বন্ধু মোরগ : আবুল বাশার শেখ

সাওদার বন্ধু মোরগ। ছবি : সংগৃহীত

একদম ছোটবেলা থেকেই গৃহপালিত পশু পাখির প্রতি খুব বেশি মায়া মমতা সাওদার। সাওদা খুবই ঠান্ডা প্রকৃতির একটা মেয়ে যে কি না ক্লাসের সহপাঠিদের হাতে মার খেয়েও চুপ করে থাকে। খুব বেশি হলে স্যার কিংবা ম্যাডামের কাছে বলেই নীরব। খুব বেশি আবেগী হওয়ায় নিরবে চোখের জল ধরে রাখতে পারেনা। সাওদা বাবা মায়ের একমাত্র আদরের সন্তান। লেখা-পড়ায় বেশ ভালো। আর ক্লাসের মধ্যে সবচেয়ে শান্তভদ্র যদি কেউ থেকে থাকে সে হলো সাওদা।

সাওদার আম্মু বেশ আগে থেকে হাঁস মুরগী পালন করে থাকে। তার হাতে যেন খোদার অশেষ রহমত আছে। তাইতো একটা মুরগী থেকে এখন অনেকগুলো মুরগী হয়েছে। এরমধ্যে তিনটি মোরগ আছে। এই মোরগের বাচ্চাগুলোকে ছোট থেকেই আদর যতœ করে খাবার দেয়া আর দেখভাল করায় মাকে সব সময় সহযোগিতা করেছে সাওদা। মোরগ তিনটি দেখতে খুবই সুন্দর। এদেরকে সাওদা যখন ডাক দেয় তখন তারা ছুটে আসে। সে স্কুল থেকে এসে এদেরকে খাবার দেয়, খেলা করে।

সাওদার বাবা দূরে চাকুরী করে। তাই খুব বেশি সময় এখন তাদের সাথে সময় দিতে পারেনা। তাই তার আম্মু ক্ষেতে ফসল আর এই হাস মুরগী পালন করে সময়টা পার করে। এর ভেতরে একবার তার বাবা বাসায় আসবে তাই সাওদার আম্মু তাকে বলল একটা মোরগ ধরে রাখতে, পরের দিন ওটাকে জবাই করবে। এ কথা শুনে সাওদা বলল না আমি মোরগ জবাই করতে দেবো না। ওরা আমার বন্ধু ওদের জবাই করলে আমি খুব কষ্ট পাবো। এই বলে সে কান্না করতে লাগলো।

সাওদার বাবা রাতে বাসায় এসে দেখে মেয়ের মুখ ভার। জিজ্ঞেস করতেই বলল- বাবা আদরের বন্ধুকে কি জবাই করা যায়? বাবা বলল-না কখনোই এই কাজ করা ঠিক নয়। তখন সে বলল- তবে আম্মু কেন আমার বন্ধুদের জবাই করে তোমাকে খাওয়াতে চায়? তার বাবাতো অবাক এ আবার কেমন কথা! বাবা বলল- কি হয়েছে মামনি খুলে বলোতো। সাওদা বলল- আমাদের তিনটি মোরগ আছে না, ওরা তো আমার বন্ধু। ওরা আমার কথা শুনে আমার সাথে খেলা করে। আমি ওদেরকে আদর করে খেতে দেই এবং খোয়ারে উঠাই। আম্মু নাকি কালকে ওদের মধ্য থেকে একটাকে জবাই করে তোমাকে খাওয়াবে। আমি ওদের কাউকে জবাই করতে দেবোনা।

গৃহপালিত পাখির প্রতি মেয়ের এই ভালবাসা দেখে বাবা মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরলো। কপালে চুমু খেয়ে বলল- মামনি তোমার বন্ধুকে কেউ জবাই করবে না। এ কথা শুনে সাওদার সে কি আনন্দ। বাবাকে বলল- তুমি অনেক ভালো বাবা, তুমিও আমার মোরগগুলোকে আদর করবে ভালোবাসবে। বাবার সাথে গল্প করতে করতে সাওদা তার বাবার গলা জড়িয়ে ধরে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল টেরই পেলনা।


Leave a Reply