সৌমেন দেবনাথ এর একগুচ্ছ বসন্তের ছড়া

বসন্তের ফুল

ফাগুন এলে বকুল শিমুল
সাজে হলুদ রঙে,
করবী আর কনকচাঁপা
সেজে ঘোরে ঢঙে।

শিমুল ডালে শালিক ডাকে
পলাশ ডালে কোকিল,
কৃষ্ণচূড়ায় আকাশ লালচে
ঢেকে গেছে সুনীল।

জুঁই বকুলে দৃষ্টি পোড়ে
জাগছে নতুন কলি,
ফুলে পাগল নারী পুরুষ
ফুলে ফুলে অলি।

Rudra Amin Books

খোপায় গোজে ফুলের থোকা
মিতু, নিতু, জিতু,
বসন্ত এলে ফুল আর ফুল
মন সাজানোর ঋতু।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অনলাইন নববার্তা-কে জানাতে ই-মেইল করুন- nobobarta@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

টগরমালায় কেশজাল রাঙে
নয়নজোড়া অবাক,
পুষ্পের হাতে পুষ্প নাচে
পড়ে যুবা বিপাক।

পথের ধারে ফোঁটে ভাঁটফুল
দেয় না নজর সবাই,
আকন্দ ফুল যায় দেখা গ্রামে
দেখার কারো নেই দায়।

মাধবীলতায় মন হরে
থোকা ধরে ফোঁটে,
সুঘ্রাণে তার মোহিত হই
আশ মেটে না মোটে।

ফুলে ভোলে শিশু যুবা
বসন্তে যায় বোঝা,
ফুলে ভুলে পথ না ভুল হয়
চলবে পথে সোজা।

মধুমনোরম বসন্ত

এলো যে ফুলেল বসন্ত
আনন্দ প্রাণান্ত,
উদ্বেলতা অফুরন্ত
চাঞ্চল্য দুর্দান্ত।

সুন্দরী তন্বী ষোড়শী
নয় কভু আনাড়ি,
পরেছে বাসন্তী শাড়ি
নেয় যে নজর কাড়ি।

প্রকৃতি সেজেছে রঙ্গে
মন সেজে ঢঙ্গে,
বসন্ত আসে এই বঙ্গে
সোনালি রোদ সঙ্গে।

কচি পাতায় আলোর নাচন
মানব মনে গুঞ্জণ,
বায়ু ধায় তা যায় না বর্ণন
আবেগ মন হয় হরণ।

বসন্তের আখ্যান

শীত শেষে বসন্ত আসে
দখিন দুয়ার খোলা,
মিষ্টি মধুর বাতাস বহে
মনে লাগে দোলা।

ফুলে ফলে মাঠ-ঘাট প্রান্তর
রঙে উঠে সেজে,
মৌমাছি ঘোরে ফুল বনে
গুঞ্জণ উঠে বেজে।

নেই রুক্ষতা নেই শুষ্কতা
আলো ঝলমল বেলা,
বট-ছায়ায় বাসন্তী পুজা
আর বসন্ত মেলা।

আমের গাছে মুকুল শোভা
যত্ন করে চাষী,
শিমুল গাছের ডালে ডালে
শিমুল ফুলের হাসি।

কৃষ্ণচূড়ায় আগুন লাগা
জাগালো খুশীর বাণ,
পলাশ ডালে কালো কোকিল
ডেকে ডেকে হয়রান।

হলুদ শাড়ি লালচে যার পাড়
পরে মেয়ে-নারী,
মেলায় মেলায় বেড়ায় ঘুরে
দেখতে লাগে ভারী।

ছেলেরা হলুদ পাঞ্জাবী পরে
খুঁজে বেড়ায় পরী,
পরীর কেশে রাধাচূড়া
আহা মরি মরি।

ঘরের মাঝে কেউ থাকে না
চৌদিক ঝিলমিল ঝিকঝিক,
প্রিয়ের হাতে হাতটা রেখে
ঘোরে এদিক সেদিক।

বসন্ত ব্যাকুলতা

শীতের রিক্ততা হলো নাশ
এলো বসন্ত কাল,
মানব মনে লেগেছে দোল
ফুঁটেছে ফুল ঐ লাল।

বইছে দখিণা সমীরণ
হৃদয়ে আন্দোলন,
মাতাল সব তরুণী তরুণ
বসন্তকে বরণ।

নদীতে পাগলা হাওয়ার ঢেউ
দশদিক রবরব সাজ সাজ,
সর্বাঙ্গ বাঙ্ময় বর্ণচ্ছায়
আবেগ কাতর মন দ্বেরাজ।

কে যে সহসায় মন নাচায়
মন ঠিকানা হারায়,
কাঁপন জাগে মনের পর্দায়
ভাসি ব্যাকুলতায়।

বসন্তের বর্ণনা

দখিনা বায় বইতে থাকে
মন উদাস দুরন্ত,
পলাশ শিমুল ফুলের মেলা
এসেছে বসন্ত।

বসন্তের শোভা মন হরণ
প্রকৃতিতে সাজ রব,
আমের গাছে মুকুল ফোঁটে
পাগল মৌমাছি সব।

ডানা মেলে প্রজাপতি
ঘোরে ফুলে ফুলে,
কুহুডাকে কোকিল মাতে
উঠে মনটা দুলে।

দোলযাত্রা হয় এই ফাগুনে
হয় বাসন্তী পুজা,
ভক্তের আনন্দ দিতে তাই
আসে দশভুজা।

না শীত না উষ্ণ পরিবেশ
রুক্ষ্ম শুষ্ক বিনাশ,
কৃষ্ণচূড়ায় আকাশ সাজে
এলোমেলো বাতাস।

নতুন পোশাক পরে সবাই
হলুদ রঙে মাখা,
নব কিশলয়ে সাজে
মরা বৃক্ষের শাখা।

বসন্ত আসে স্নিগ্ধ দোলায়
অশোকের হিল্লোলে,
মনে প্রাণে উচ্ছ্বাস জাগে
গাব-শালের হিন্দোলে।

ফুলে ফুলে সেজে উঠে
বাংলা মায়ের ছবি,
ঋতুরাজ বসন্ত নিয়ে
লিখতে ব্যস্ত কবি।

বসন্তের হাপিত্তেস

মনের কোকিল কেঁদে মরে
এই যে ফাগুন কালে,
ময়ূর হাটে পালে পালে
আমার দু হাত গালে।

বসন্ত বায় বহে বহে যায়
হৃদয় দহে জ্বলে,
কেউ যে ফিরে চায় না দিকে
পুড়ি পলে পলে।

নব জোয়ার বনে বনে
অশান্তি বয় মনে,
বসন্ত আমার যায় চলে
শূন্য সমীরণে।

মনের ঘরে টোকর মেরে
রাঙায় না কেউ বসন্ত,
একা একা নির্জন ঘরে
নখ যে কাটে দন্ত।

বসন্তে কোকিল

হঠাৎ ব্যস্ততায় ছেদ পড়লো
ডাকছে ডালে কোকিল,
কুহু কুহু মিষ্টি সুরে
ভরিয়ে দিলো দিল।

কোকিল ডাকলে খুশী লাগে
বসন্ত দেয় উঁকি,
কোকিল ডাকলে কুহু কুহু
ভ্যাঙায় খোকা খুকি।

মগডালে যে বসে বসে
ডাকে কোকিল জোরে,
সঙ্গী খোঁজে ডেকে ডেকে
সন্ধ্যা দুপুর ভোরে।

কোকিল ডাকলে শিমুল ফোঁটে
গজায় পাতা কচি,
মিষ্টি মধুর বাতাস ধায়ে
প্রকৃতি হয় শুচি।

নাচে না কার মন বলো হে
শুনে কোকিলের ডাক,
হলুদ শাড়ি পরে ঘোরে
নারীরা ঝাঁকে ঝাঁক।

একটা কোকিল মনের মাঝে
ডাকে সদা সবার,
মনের কোকিল বনের কোকিল
খোঁচায় যে বারাংবার

বনের কোকিল সঙ্গী পেলে
বসন্ত তার ধন্য,
মনের কোকিল দেয় না ধরা
শোনে তার গান অন্য।

একটা একটা বসন্ত যায়
হয় না রঙে রাঙা,
গাছের ডালে কোকিল ডাকে
কণ্ঠ ভাঙা ভাঙা।

বারো মাসে বসন্ত

তীব্র খরায় বসন্তের গান শুনি
কারণ মনে বসন্ত,
বর্ষার বারীতে বসন্তের চিহ্ন
মনটা বড় দুরন্ত।

শরতের নীল আকাশে বসন্ত ধায়
বসন্ত শরৎ কাশে,
হেমন্তের নবান্নে বসন্ত ঘ্রাণ পাই
ঐ বসন্ত ঘ্রাণ ঘাসে।

বসন্ত দেখি শীতের শিশির কণায়
বসন্ত হিম আকাশে,
বনের ও মনের বসন্ত একাকার
বসন্ত বারো মাসে।

মনের ঘরে মনের মানুষ
বিভোর ভালোবাসায়,
তার কণ্ঠে বাজে কোকিল স্বর
কেমনে বসন্ত যায়?

বসন্ত বন্দনা

শীত শেষে বসন্ত আসে
বর্ণিল রঙে সেজে,
হলুদ লাল নীল ফুলতো ফোঁটে
উঠে খুশি বেজে।

গাছে গাছে পাখি ডাকে
মন যে আকুল হারা,
ডালপালা সব নাচতে থাকে
আনন্দেরই ধারা।

হলুদ শাড়ি পরে মেয়েরা
মন পায় তো ব্যঞ্জনা,
মুখে অনুরাগ জাগে যে
প্রাণে রক্তিম তাড়না।

বুকের ভেতর কোকিল ডাকে
সবাই রব রব সাজ সাজ,
জাগায় মনে রোম্যাঞ্চতা
তাই বসন্ত ঋতুরাজ।

বয়স

জীর্ণ দেয়ালে রং লেপে
চলবে ক দিন মাস ক্ষণ?
কাশফুল কেশে কলপ করে
যায় না রাখা যৌবন।

শিং ভেঙে বাছুরের দলে
যায় না দেয়া হল্লা,
নষ্ট ইঞ্জিন বডি সুন্দর
ব্যর্থ দিতে পাল্লা।

যায় না ঢাকা পৌঢ় রেখা
বয়স বয়ে যাবে,
মন বসন্ত রাখলে ধরে
ফুটবে যৌবন ভাবে।

ভীরু মরে মরার আগে
বাঘ মরলেও দেয় হুংকার,
ছাগলের ম্যা ম্যা বয়স বাড়লেও
বয়স তাই নয় ব্যাপার।

সৌমেন দেবনাথ
প্রভাষক, মার্কেটিং বিভাগ
সরকারি মুড়াপাড়া কলেজ
মুড়াপাড়া, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ

আপনার মতামত লিখুন :