পিরোজপুরবাসীর স্বপ্নের বেকুটিয়া সেতুসহ পাঁচটি প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী | Nobobarta

আজ বুধবার, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:৩৪মি:

পিরোজপুরবাসীর স্বপ্নের বেকুটিয়া সেতুসহ পাঁচটি প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু

পিরোজপুরবাসীর স্বপ্নের বেকুটিয়া সেতুসহ পাঁচটি প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সৈয়দ বশির আহম্মেদ, পিরোজপুর : অবশেষে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর পিরোজপুরের খর¯্রােতা কচা নদীতে ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আজ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি আরও চারটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। এগুলো হল নতুন জেলা কারাগার নির্মান, সদর উপজেলাকে শত ভাগ বিদ্যুতায়িত করা, ভান্ডারিয়া উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমী ও মুক্তমঞ্চ নির্মান এবং ইউনিয়ন সমূহে উচ্চতর ইন্টারনেট কানেকটিভিটি সৃষ্টি করা। এরফলে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত হল স্বপ্নের কচা সেতু।

জেলা প্রশাসকের হল রুমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আবু আলী মোঃ সাজাদ হোসেন সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন। এসময় সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়াল, পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ সালাম কবিরসহ উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা ও উপকারভোগী সদস্যসহ বিভিন্ন স্তরের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

২০২১ সালের মধ্যে সেতুর নির্মান কাজ শেষ হলে দক্ষিনাঞ্চলের ১৮ জেলার কোটি মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন তথা বানিজ্যিক সুবিধাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। বরিশাল ও খুলনা বিভাগের মধ্যবর্তী প্রায় ১ কি:মি: দীর্ঘ কচা নদীর বেকুটিয়া-কুমিরমারা ফেরির চির অবশান হয়ে এক নব-দিগন্তের দ্বার উম্মোচিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে বয়ে আনবে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। একইভাবে খুলনা বিভাগের সমুদ্র বন্দর মংলা ও পটুয়াখালী জেলার পায়রা বন্দর এবং দক্ষিন উপকূল অঞ্চলের অন্তত ১৮ জেলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সৃষ্টিসহ পাল্টে যাবে অবহেলীত দক্ষিন উপক ূল অঞ্চলের দীর্ঘ দিনের বঞ্চনার অর্থনৈতিক চিত্র।

পিরোজপুরের সদর উপজেলা এবং কাউখালী উপজেলার রাজাপুর-নৈকাঠি-বেকুটিয়া-পিরোজপুর সড়কের ১২তম কি:মি: এ সেতুর দৈর্ঘ্য ৯৯৮.০০ মিটার ও দুই লেনের সেতুর প্রস্থ ১৩.৪০ মিটার ধরা হয়েছে এবং সেতু নির্মানে মোট প্রকল্প ব্যয় হবে ৮২১৮৪.০৯ লক্ষ টাকা। আর এজন্যে বাংলাদেশ সরকার ১৬৭০৪.৪৫ টাকা এবং চীন সরকার ৬৫৪৭৯.৬৪ লক্ষ টাকার অর্থ সহায়তা দিচ্ছে। কচা সেতুর উভয় পার্শ্বের সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ১৪৬৭.০০ মিটার, এরমধ্যে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে ১০২৩.০০ এবং পূর্ব প্রান্তে ৪৪৪.০০ মিটার রাখা হয়েছে। সেতুর পশ্চিম প্রান্তে রাখা হয়েছে একটি টোল প্লাজা। সেতু বাস্তবায়নকারি সংস্থা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জানায়, পিসি বক্স গার্ডার সেতুতে মোট ৯টি স্প্যান ছাড়াও ৮টি পিয়ার, ২টি এ্যাবাটমেন্ট, ২৮.৯৮ মিটার ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স, ১২২.০০মিটার হরিজন্টাল ক্লিয়ারেন্স, ৪৯৫.০০ মিটার ভায়াডাক্ট থাকছে। চায়নার রেইলওয়ে ১৭টিএইচ ব্যুরো গ্রæপ কোম্পানি লিঃ নামের একটি প্রতিষ্ঠান নির্মান কাজের দায়িত্ব পেয়েছে। আগামী ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারীর মধ্যে কচা সেতুর নির্মান কাজ সমাপ্ত হবার কথা রয়েছে। এদিকে সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে ৩০ অক্টোবর মঙ্গলবার চীনা দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত এইচ ই ঝাং জুও প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

Rudra Amin Books
ফেসবুক থেকে মতামত দিন


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সংরক্ষণাগার

Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta