বগুড়ায় স্ত্রীর পরিকল্পনায় স্বামী খুন, নেপথ্যে পরকীয়া | Nobobarta

বগুড়ায় স্ত্রীর পরিকল্পনায় স্বামী খুন, নেপথ্যে পরকীয়া

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে অটোরিকশা চালক মো. আশিক হত্যা রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। স্ত্রীর প্ররোচনায় পরকীয়া প্রেমিক ও তার সঙ্গীরা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই করে। মুখ দাহ্য পদার্থ দিয়ে ঝলসে দিয়ে মরদেহ বাঙালি নদীতে ফেলে দেয়া হয়। গ্রেফতার স্ত্রী মিনা বেগম ও প্রেমিক মামাতো ভাই শিবলু ফকির সোমবার সন্ধ্যায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুকের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুর রহমান এর সত্যতা নিশ্চিত করেন। এজাহার সূত্র জানায়, আশিক সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ি মধ্যপাড়ার সালাউদ্দিনের ছেলে। তিনি ২ অক্টোবর বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর নিখোঁজ ছিলেন। ৪ অক্টোবর সকালে উপজেলার ছাগলধরা গ্রামে বাঙালি নদীতে তার মুখ ঝলসানো মরদেহ পাওয়া যায়।

নিহতের ভাই আনিস উদ্দিন রাতেই সারিয়াকান্দি থানায় ভাবী মিনা বেগমসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো অজ্ঞাত ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে। মিনা বেগম উপজেলার কুঠিবাড়ি গ্রামের কামালের মেয়ে, তার মামাতো ভাই পরকীয়া প্রেমিক একই গ্রামের ছফু খাঁর ছেলে শিবলু ফকির, রামনগর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম তরফদারের ছেলে শান্ত মিয়া ওরফে সিয়াম ও আমতলী গ্রামের তরিকুল মণ্ডলের ছেলে নাইম মণ্ডল।

জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত অটো রিকশা ভাড়া নিয়ে ঘুরাঘুরি করেন খুনি শিবলু ফকির, সিয়াম ও নাইম। শিবলু ফকির আশিকের স্ত্রী মিনার মামাতো ভাই। শিবলুর সঙ্গেই আশিকের স্ত্রী মিনার পরকীয়া ছিল। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ফুলবাড়ি বন্দর থেকে আশিকের অটো ভাড়া নেন শিবলুসহ তার দুই সহযোগি সিয়াম ও নাইম। পরিকল্পনামত রাত ১১ টা পর্যন্ত তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। পরে তারা সারিয়াকান্দির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। রাত ১২ টার দিকে তারা সারিয়াকান্দি উপজেলার রামচন্দ্রপরের চৈতের ব্রিজের ওপর নামে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অনলাইন নববার্তা-কে জানাতে ই-মেইল করুন- nobobarta@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Rudra Amin Books

এক পর্যায়ে আশিকের সঙ্গে বাগ-বিতণ্ডায় জড়ায় খুনিরা। এ সময় শিবলু হঠাৎ করেই আশিকের গলায় রশি পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। পরে দাহ্য পদার্থ দিয়ে আশিকের মুখ ঝলছে দেয়া হয়। শিবলুসহ তার দুই সহযোগি সিয়াম ও নাইম অটোচালক আশিকের মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে শিবলু তার প্রেমিকা আশিকের স্ত্রী মিনাকে আশিকের নিহতের খবরটি নিশ্চিত করে। এরপর রাত ১ টার দিকে অটোরিকশাতে করে আশিকের মরদের ওই ব্রিজের ওপর থেকে বাঙ্গালী নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

আশিকের স্বজনেরা জানান, আশিকের সঙ্গে চার বছর আগে মিনার বিয়ে হয়। তাদের তিন বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মিনা গাবতলি উপজেলার পৌর এলাকার কুঠিবাড়ি গ্রামের কামালের মেয়ে। সারিয়াকান্দি থানার ওসি আল আমিন বলেন, পরকীয়া প্রেমের জেরেই অটোচালক আশিককে খুন করা হয়েছে। এই খুনের মূল পরিকল্পনা করে আশিকের স্ত্রী মিনা।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.