প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বঞ্চিত- ড. মনিরুজ্জামান | Nobobarta

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বঞ্চিত- ড. মনিরুজ্জামান

কোভিড-১৯ এর কারনে শিক্ষা ব্যবস্থার কিছু খুটি- নাটি নিয়ে আজ আমাদের সঙ্গে উপস্থিত হয়েছেন মুরাদনগর কাজী নোমান আহমেদ ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিষয়ের লেকচারার ও ২০১৮ সালে কুমিল্লা জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক জনাব ড. মনিরুজ্জামান স্যার। স্যারের সাথে কথা বলে জানবো বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থা কোন দিকে যাচ্ছে ও তার থেকে কিভাবে পরিত্রাণ পেতে পারি।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন মোঃ সফিকুল ইসলাম শরীফ   

নববার্তাঃ আসসালামু আলাইকুম স্যার। কেমন আছেন?

জনাব ড. মনিরুজ্জামানঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তাছাড়া এই দূর্যোগের সময়ে দুশ্চিন্তা পিছু লেগেই আছে।

Rudra Amin Books

নববার্তাঃ স্যার আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদেরকে বর্তমান পরিস্থিতিতে একটু সময় দেয়ার জন্য।স্যার বর্তমান কোরোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে বলে আপনে মনে করেন?

জনাব ড. মনিরুজ্জামানঃ আপনাদেরকে ও অসংখ্য ধন্যবাদ। শিক্ষা ব্যবস্হার ক্রান্তিকাল চলছে। সিলেবাস কমিয়ে শিক্ষাবর্ষের সময় বাড়িয়ে দিতে হবে যদি প্রতিষ্ঠান খুলতে পারি। না হলে শিক্ষাবর্ষ স্হগিত করা উচিত বলে আমি মনে করি। যদিও তাতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি।

নববার্তাঃ অনলাইন ভিত্তিক ক্লাস নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী? এটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

জনাব ড. মনিরুজ্জামানঃ যে কোনো দেশের দুর্যোগের সময় এটি একটি আপাতত নিরাময় মূলক ব্যবস্হা।কিন্তু দেশে সকল পর্যায়ে সমানতালে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে। শ্রেণিকক্ষে সরাসরি পাঠদান যে আনন্দ পাওয়া যায়, অনলাইনে তা হয়না। বর্তমান সময় হলো একীভূত শিক্ষা ব্যবস্হার যুগ।সমাজের একটা অংশ (সচেতন অভিভাবক) কিছুটা ফলপ্রসু হচ্ছে কিন্তুু প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বঞ্চিত।

নববার্তাঃ এই অনলাইন ক্লাসগুলো থেকে কী প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে না? এতে করনীয় কী?

জনাব ড. মনিরুজ্জামান : পরীক্ষা নিতে হলে শিক্ষার্থীদেরকে ক্লাশে ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রশাসনের কথা অনুযায়ী যদি সেপ্টেম্বর এ প্রতিষ্ঠান খুলে তাহলে এতো অল্প সময়ে সিলেবাস শেষ করা আদৌ সম্ভব না।সুতরাং পিএসসি ও জে এস সি পরীক্ষা স্হগিত করে অটো প্রমোশন দেয়া যেতে পারে।তাতে করে শিক্ষার্থীরা আর একটি বছর পিছিয়ে পড়বেনা। তবে মেধা বিকাশে বাঁধাপ্রাপ্ত হতে পারে।

নববার্তাঃ দীর্ঘদিনের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ব্যপারটিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

জনাব ড. মনিরুজ্জামানঃ সেফটি ফার্স্ট। এর পরে বাকী সব কিছু।যেহেতু এটি বৈশ্বিক মহামারি, তাকেও সমীহ করে নিয়ম মেনে আমাদের এগুতে হবে।অনেকটা এমন :

“বাঁচলে কৃষক বাঁচবে দেশ। ”
আর আমি বলবো :
“বাঁচলে শিক্ষার্থী বাঁচবে প্রতিষ্ঠান।”
সন্তানদের সুরক্ষিত করেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবো। 

নববার্তাঃ এই মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশকে ধরে রাখতে আপনার দৃষ্টিতে করণীয় কী?

জনাব ড. মনিরুজ্জামানঃ মেধার বিকাশকে ধরে রাখতে পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে।সন্তানদেরকে পরিবারে ঐতিহ্যসহ অবস্হানভেদে সামাজিক,রাষ্টিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটগুলো তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে।শুধু পড়াশোনা নয় এর বাহিরেও ঘরোয়া খেলাধুলা, ছবি আঁকা,টিভিতে ভালো ও সৃজনশীল অনুষ্ঠান দেখা, বই, পত্রিকা ও ম্যাগাজিন পড়তে দেয়া। প্রতি দিন না পারলেও “এসো গল্প শুনি” তে আড্ডা দেয়া।ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকশিত করার এখনই মোক্ষম সময়।সবচেয়ে বড় কথা,প্রত্যেক অভিভাবককে সন্তানদের সময় দিতে হবে।

নববার্তাঃ স্যার,আপনি নিজে আপনার শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় কোন ভূমিকা গ্রহণ করেছেন বা করে থাকলে আমাদের যদি জানাতেন।

জনাব ড. মনিরুজ্জামানঃ আমি আমার শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার্থী/ অভিভাবকদের সাথে দেখা হলে অথবা মোবাইল ফোনে উদ্দীপনা দেয়ার চেষ্টা করছি ।মহামারি থেকে কাটিয়ে উঠার সান্ত্বনা ও টেকনিক্যাল বিষয় গুলোও শেয়ার করছি।আর নিজেকে যুগোপযোগীকরণ করতে হবে।

নববার্তাঃ স্যার আপনিতো ২০১৮ সালের কলেজ পর্যায়ের জেলা শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার উপদেশ কি থাকবে? 

জনাব ড. মনিরুজ্জামানঃ ঘরে থেকেই নিয়মতান্ত্রিকতার সাথে রুটিন ভিত্তিক সময় কাটানো।মা বাবার খেদমতসহ ধর্মীয় ও নৈতিক কাজে আঞ্জাম দেয়া।সংসদ টিভি রুটিন মাফিক দেখা(যাদের সুযোগ আছে)
মোবাইলে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা।

নববার্তাঃ স্যার,আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে আমাদের অনেক কিছু জানার সুযোগ করে দিয়েছেন। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

জনাব ড.মনিরুজ্জামানঃ আমার নিজেরও ভালো লেগেছে। আমি আপনাদের পোর্টালের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।
এবং সকল শিক্ষার্থীদের বলছি ঘরে থাকো সুস্থ থাকো।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

8 Shares
Share8
Tweet
Share
Pin