নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে - "জাগো মানবতা, জাগ্রত বিবেক চাই" | Nobobarta

নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে – “জাগো মানবতা, জাগ্রত বিবেক চাই”

পড়ার সময়:7 মিনিট, 26 সেকেন্ড

সফিউল্লাহ আনসারী : নারীর প্রতি সহিংসতা বেশ পুরনো সামাজিক অনাচার, সামাজিক ব্যাধি। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা নারীকে প্রত্যেকটা কাজে দাবিয়ে রেখেছে, করেছে অপমানিত। নারীর প্রতি এই অন্যায়-অসম্মান তা এই সভ্য জগতে বেমানান, অকল্পনীয়। অথচ আধুনিক সভ্য শতাব্দিতেই নারীকে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন হয়রানী ও সহিংসতার শিকার হতে হচ্ছে।

করোনাকালীন মহামারিতেও থেমে নেই নারী নির্যাতন-ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা। বাংলাদেশে এ যেনো আরেক মহামারী হয়ে দেখা দিয়েছে। এমন কোনো দিন নেই যে ধর্ষণ বা নারীর প্রতি অন্যায়ের ঘটনার খবর প্রকাশ হচ্ছে না। নারী নির্যাতন আর ধর্ষণের ঘটনার সব খবর সংবাদপত্রের পাতায় উঠেনা। সামাজিক মর্যাদাহানির ভয় এবং সামাজিক মাতব্বরদের দামাচাপা দেয়াসহ বিভিন্ন কারণে। যেমনটি ঘটেছে নোয়াখালির ঘটনায়। ওই নারীর প্রতি ঘটে যাওয়া মধ্যযুগীয় বর্বরতার বিষয়টি প্রায় মাসখানেক পরে জনসমুখে এসেছে। এই অপ্রকাশের পেছনেও হয়তো রয়েছে অক্রান্ত পরিবারের সম্মানহানির ভয় অথবা ক্ষমতাসীনদের দাপটের ভয়। হয়তো আমরা জানতে পারিনি।

নোয়াখালীর বর্বোরোচিত ঘটনা মধ্যযুগীয় অমানবিকতাকে হার মানিয়েছে। মানুষ কতোটা পশুত্বে পৌঁছুলে এমনটি হতে পারে। সভ্যতার দাবিদার এই মানুষরুপি কুলাংগাররা একজন আধুনিক যুগের নারীকে বিবস্্র করে উল্লাস করেতে পারে? ভাবলেই গা শিউরে উঠে। নানান প্রশ্ন বিবেককে ক্ষতবিক্ষত করে। এই দেশ স্বাধীন হয়েছে কি ওদের এমন সহিংসতা আর অসভ্যতার জন্য? আমরা কবে মানুষ হবো? কবে জাগবে মানবিকতা? আর কতো মা-বোনের ইজ্জত ভুলুন্ঠিত হলে পরে আমাদের বর্বরতা থামবে?

হাজারো প্রশ্নবানে জর্জরিত আজ মানবতা। ইচ্ছে হলেই ঠুকরাতে হবে নারীকে, নারী কি শুধুই ভোগ্য পণ্য? কেনো? এখনই সময় এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজে বর্বরতা থেকে উত্তরনের। নইলে নারী আর মা-বোন বসে থাকবেনা, পুরুষ নামের কলংকিত কিছু অমানুষদের শিষœ কেটে উল্লাস করবে। সেইদিন দেখার আগেই সমাজপতি আর দেশের মানুষের জেগে উঠা দরকার। আমরা এমন অমানবিকতা চাইনা। নারীকে তার সম্মান বুঝিয়ে দাও হে পুরুষতন্ত্র।

Rudra Amin Books

গত ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের বিষয়টি সুরাহা হওয়ার আগেই নোয়াখালির এই ঘটনা দেশের জন্য, সমাজের জন্য অশনি সংকেত। সিলেটের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তারা সবাই ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক ছাত্রসংগঠনে রাজনীতির সঙ্গে স¤পৃক্ত। বারবার ধর্ষণ আর নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় কোন না কোন ভাবে ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় পার পেয় যায় বলে অভিযোগ উঠে। শুধুই কি বর্তমান সময়ে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তা নয়, বিগত সরকারগুলোর আমলেও ভুরি ভুরি ঘটনা ঘটেছে নারীর প্রতি সহিংসতা, শ্লীলতাহানি, ধর্ষণের মতো জঘন্যতা। নারীর প্রতি এমন জঘগন্যতম ঘটনা বারবার ঘটতে থাকলে সামাজিক নিরাপত্তা ভেঙ্গে পরতে পারে। আর নিরাপত্তাহীনতা সমাজ ও রাষ্ট্রে অবিচারকে উসকে দেয়। তখন দুর্বল শ্রেনীর জীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের।

বাংলাদেশে কোন একটা ঘটনা ঘটার পর ব্যাপক হৈচৈ পড়ে যায়। ক‘দিন গত হলে আর সেদিকে কারো নজর থাকেনা । আর নারীর প্রতি সহিংসতার মতো ঘটনাও দামাচাপা পড়ে যায়। আবারও সেই সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। সরকার, আইন প্রয়োগকারি সংস্থাগুলোর তৎপরতা চলমান এবং দৃষ্টান্তমুলক শাস্থির ব্যাবস্থা সামাজিক প্রেক্ষাপটে কঠোর হওয়া দরকার।

সামাজিক অবক্ষয়, নারীর প্রতি অসম্মান, ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলো রুখতে মানুষের বিবেকবোধ জাগ্রত করা, পারিবারিক বন্ধন, পারস্পরিক সহনশীল আচরন, আইনের সঠিক প্রয়োগ, শিক্ষাক্ষেত্রে আদর্শ, মূল্যবোধের চর্চা সর্বোপরি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দূর্বৃত্তায়নমুক্ত পরিবেশ দরকার। পরিতাপের বিষয় হলো- আমাদের রাজনীতি মানুষকে আদর্শ, স্বপ্ন সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বদলে,ক্ষমতালিপ্সু মনোভাবে কেউ কেউ দুর্বৃত্তায়নে হয়ে উঠছে খুন-ধর্ষণ-চাঁদাবাজের মতো অপরাধী। সমাজের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অধীকারপ্রাপ্ত হয়ে অপরাধমুক্ত পরিবেশ তৈরীতে রাজনৈতিক দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হওয়া প্রয়োজন।

সামাজিক অবক্ষয়ের এই সময়ে দেশের মানুষের চাওয়া বন্ধ হোক নারীর প্রতি সহিংসতা, অসম্মানজনক আচরন, অবিলম্বে ধর্ষণের মতো নেক্কারজনক অপরাধ প্রবনতা বন্ধ হোক, এসব বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত ব্যাবস্থা নিক। সরকারের এজেন্ডায় নারী নির্যাতন বন্ধে, ধর্ষণ বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যাবস্থা বাস্তবায়ন জরুরী। স্বামীর কাছ থেকে ¯্রীকে, ভাই এর কাছ থেকে বোনকে, বাবার কাছ থেকে মেয়েকে ছিনিয়ে নেওয়ার মতো জঘন্য কাজ আর দেশবাসী দেখতে চায়না।

মানবতা জাগো, জাগো নারী, জাগ্রত বিবেক চাই। সরকারের কাছে আবারও বলি সিলেট, নোয়াখালীসহ দেশে নারীর প্রতি অবিচার, সহিংসতা, ধর্ষণে দৃষ্টান্তমুলক বিচার করুন। নারীর প্রতি অসহিষœু আচরনের অবসান চাই, চাই ধর্ষকমুক্ত সমাজ।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

12 Shares
Share12
Tweet
Share
Pin