সঞ্জীব চৌধুরীর ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ | Nobobarta

আজ শুক্রবার, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:২৬মি:

সঞ্জীব চৌধুরীর ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সঞ্জীব চৌধুরীর ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

‘আমি তোমাকে বলে দিবো কিজে একা দীর্ঘ রাত, আমি হেঁটে গেছি বিরাম পথে/ আমি তোমাকে বলে দিবো সেই ভুলে ভরা গল্প, কড়া নেড়ে গেছি ভুল দরজায়/ ছুঁয়ে কান্নার রং, ছুয়ে জোসৎনার ছায়া’ এমন কথার গানটি গেয়েছেন খ্যাতনামা সাংবাদিক-সংগীতশিল্পী সঞ্জীব চৌধুরী। ২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর অনেক দূরে চলে গেছেন এই শিল্পী। আজ তার চলে যাওয়ার ১৩ বছর পূর্ণ হলো।

তিনি অতীত। কিন্ত এখনো মুখে মুখে বাজে তার গান। ‘আমি তোমাকেই বলে দেবো’, ‘হৃদয়ের দাবি’, ‘আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিলো চাঁদ’, ‘রিকশা’ ইত্যাদি গানে তার ব্যতিক্রমী অসংখ্য গান দিয়ে মানুষের হৃদয়ে রয়ে গেছেন গীতিকবি, সুরকার, গায়ক সঞ্জীব চৌধুরী।

আশির দশকের শুরুর দিকে তিনি পেশাগতভাবে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন। প্রথমে দৈনিক উত্তরণে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ‘ভোরের কাগজ’, ‘আজকের কাগজ’, ‘যায় যায় দিন’ প্রভৃতি দৈনিক পত্রিকায় কাজ করেন সঞ্জীব চৌধুরী। দৈনিক সংবাদপত্রগুলোতে ফিচার বিভাগ চালু করার ক্ষেত্রে সঞ্জীব চৌধুরী বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৩ সালে একুশে বইমেলায় তিনি ‘মৈনাক’ নামে একটি লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

শিক্ষার পর্ব শেষ করেই দৈনিক উত্তরণ পত্রিকায় যোগ দিয়ে সাংবাদিক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি দৈনিক আজকের কাগজ, দৈনিক ভোরের কাগজ ও যায়যায়দিনসহ বিভিন্ন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায় কাজ করেছেন। ‘শঙ্খচিল’ নামের দলে সংগীতচর্চা শুরু হয় তার। বিশেষ করে ফোক গানের প্রতি ছিলো তার ব্যাপক ভালো লাগা। পাশাপাশি নিজের লেখার বাইরে গিয়েও তিনি বেশ কিছু ফোক গান করে সেগুলোকে নতুনভাবে জনপ্রিয়তা দিয়েছিলেন।

Rudra Amin Books

১৯৯৬ সালে সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘দলছুট’ গঠন করেন। পরবর্তীতে সঞ্জীব চৌধুরীর কথা ও বাপ্পার সংগীতায়োজন দলটিকে ভিন্ন মাত্রা দেয়। তিনি গিটারসহ আরো নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শি ছিলেন।

তার সুর ও গাওয়া জনপ্রিয় অসংখ্য গান রয়েছে। যার মধ্যে ‘সাদা ময়লা রঙ্গিলা পালে আউলা বাতাস’, ‘চোখ’, ‘তখন ছিল ভীষণ অন্ধকার’, ‘আহ ইয়াসমিন’, ‘রিকশা’, ‘কথা বলব না’, ‘কালা পাখি’, ‘কোথাও বাশিঁ’, ‘দিন সারা দিন’, ‘সমুদ্র সন্তান’, ‘সানগ্লাস’ অন্যতম। এছাড়াও তিনি ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইছে’ ও ‘গাড়ি চলে না’ গান গেয়ে মরমী বাউল সাধক শাহ আব্দলু করিমকে সারা দেশের শ্রোতাদের নতুন জনপ্রিয়তায় তুলে ধরেন।

গানের পাশাপাশি কবিতাও লিখতেন সঞ্জীব চৌধুরী। দেশের প্রায় সব পত্রিকায়ই তার কবিতা ছাপা হতো। তার একমাত্র কাব্যগ্রন্থের নাম রাশপ্রিন্ট। শুধু কবিতা নয়, সঞ্জীব চৌধুরী বেশ কিছু ছোট গল্প ও নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। সঞ্জীব চৌধুরী অভিনীত একমাত্র নাটক ‘সুখের লাগিয়া’। সঞ্জীব চৌধুরী ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন খন্দকার আলিমা নাসরিন শিল্পীকে। সেই সংসারে কিংবদন্তি নামে এক কন্যা রয়েছে তার।

সঞ্জীব চৌধুরীর প্রয়াণ দিবসে তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে তার প্রিয় মানুষ ও ভক্তরা। ফেসবুকসহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্ত-অনুরাগীরা প্রয়াণ দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলী জানাতে স্মরণ করছেন তাদের প্রিয় সঞ্জীব চৌধুরীকে। কেউ কেউ লিখছেন সঞ্জীব চৌধুরীকে নিয়ে স্মৃতিকথা। কেউ ফেসবুকে নিজের প্রোফাইল কিংবা কভারে ব্যবহার করছেন তার ছবি। কেউ লিখছেন তার গানের কথা। হারিয়ে গেছেন গান পাগল। তবু তার বায়োস্কোপের নেশা আজো ছাড়েনি শ্রোতাদের।

আপনার মতামত লিখুন :


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সংরক্ষণাগার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta