শ্রীনগরে বানা তৈরীতে ব্যস্ত মাছ শিকারীরা | Nobobarta

শ্রীনগরে বানা তৈরীতে ব্যস্ত মাছ শিকারীরা

পড়ার সময়:4 মিনিট, 9 সেকেন্ড

মোহন মোড়ল, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: শ্রীনগরে খাল-বিলে বর্ষার পানি নামতে শুরু করছে। এরই মধ্যে গ্রামগঞ্জের খালে বিলে বিভিন্ন পন্থায় শিকারীরা মাছ শিকার করছেন। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাঁসাড়া এলাকায় এমনই একজন মাছ শিকারী বানা তৈরী করে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

নাম তার মো. সোরহাব শেখ (৪০)। এই অঞ্চলের বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও খালে ভরাটের কারণে পানি নিস্কাশনে বাঁধাগ্রস্ত হলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তার পরেও ধীরে ধীরে এখানকার বন্যার পানি নামছে। আর কিছুদিন পরেই বিলের পানি প্রায় হাঁটুতে পরিণত হবে। কম পানিতে বিশাল বিলের অনেক জমি একসঙ্গে বানাবন্দি করা হবে। এখানকার চকগুলোতে অনেকেই বানা দিয়ে মাছ শিকার করে থাকেন। সেই লক্ষ্যে মাছ শিকারী সোহরাব শেখ বাঁশ দিয়ে তৈরী করছেন প্রয়োজনীয় বানা নামক একধরনের বেড়া। উপজেলার হাঁসাড়ার পাল বাড়ি এলাকার আব্দুল রশিদ কিন্ডার গার্টেন সংলগ্ন একটি বাড়িতে তিনি বাঁশের কঞ্চি দিয়ে এসব বানা তৈরী করছেন।

দেখা গেছে, এখানকার কোনও কোনও বিলে/চকে এখনও প্রায় ৪/৫ হাত পানি রয়েছে। বিলে পানি আস্তে আস্তে নেমে যাচ্ছে। এখন বিলে পানিতে দেশী বিভিন্ন জাতের প্রচুর দেশী মাছ রয়েছে। এসব মাছ শিকারের জন্য অনেকেই জাল, ভেসাল, বড়সি, টেঁটাসহ বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে থাকেন। সেখানে ব্যতিক্রমভাবে সোহরাব শেখ বানা ব্যবহার করে মাছ শিকার করবেন। তাই তিনি বেশ কয়েকজন দিনমজুর নিয়ে প্রায় ৪ হাজার ফুট বানা তৈরীর লক্ষ্যে কাজ করছেন। লক্ষ্য করা গেছে, তাঙ্ক জাতের বাঁশগুলো প্রায় তিন ফুট আকারে টুকরো করা হচ্ছে। পরে বাঁশের ফালিগুলো সাজিয়ে গুন/রশি দিয়ে নিখুত হাতের কারসাজিতে বাঁধা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৯০ ফুটের মত বানা তৈরী করছেন তারা। এসময় দিনমজুররা বলেন, দৈনিক ৬শ’ টাকা রোজে তারা বানা তৈরীর কাজ করছেন। বানা তৈরীতে আরো কিছুদিন কাজ করবেন তারা।

মো. সোহরাব শেখ বলেন, তার বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ির চাঁদ সিমড়ায়। দীর্ঘ ২০ বছর যাবত তিন পুত্র সন্তান, স্ত্রীসহ হাঁসাড়ায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন। বছরের এই সময়ে বিলে জমির মালিকদের সাথে চুক্তি করে বানা দেন তিনি। এবছরও তিনি বানার চুক্তি বাবদ প্রায় ৮০/৯০ হাজার টাকা জমি মালিককে দিয়েছেন। তিনি বলেন, কিছুদিন পরেই মাছ শিকারের জন্য হাঁসাড়া-লক্ষীবিলাশ নামক বিলে বানা পাতবেন তিনি। খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, এসব বানায় বিশেষ করে দেশী কই, শিং, পুটি, খলিসা, টাকি, শোলসহ ছোট ছোট বিভিন্ন জাতের মাছ আটকা পরে। মুক্ত পানির দেশী মাছের চাহিদা থাকায় স্থানীয় হাট বাজার/আড়তে এবস মাছ বিক্রি করা হয়।

Rudra Amin Books
ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Shares
Share
Tweet
Share
Pin