রাজনীতিতে ধর্ম : মাহমুদুল হক আনসারী | Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:৪৯মি:

রাজনীতিতে ধর্ম : মাহমুদুল হক আনসারী

রাজনীতিতে ধর্ম : মাহমুদুল হক আনসারী

Mahmudul Hoque Ansari

ধর্ম আর রাজনীতি একসাথে হয় না।দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে নানা জাত ও গোত্রের ধর্ম পালন হয়। এসব অঞ্চলে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী পাওয়া যায়।ধর্ম পালন অনুসরণ অনুকরণ দোষের কথা নয়। সে যে ধর্মেই হোক না কেন মানুষের জন্য ধর্ম। ধর্ম মানুষকে ন্যায়পরায়নতা শেখায়। কখনো কোনো ধর্ম তার গোত্রকে অপর ধর্মের অনুসারীদের বিরোদ্ধাচারণ করতে শেখায় না।

ধর্ম সৃষ্টিকর্তা ধর্ম পালনের জন্য একজন পথনির্দেশক বা গাইডার দিয়ে ধর্ম মানুষের মাঝে প্রেরণ করেছেন। ধর্মের কোনো প্রবক্তায় মানবতার বিরোদ্ধে কথা বলেননি। প্রায় সব গুলো ধর্মের বাণীর কম বেশী অভিন্ন মিল খুজেঁ পাওয়া যায়। ধর্ম হচ্ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন সুশৃঙ্খলভাবে চলার একটি গাইড মাত্র। এ গাইড অনুসরণ অনুকরণ থাকলে ব্যাক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্র সুশৃঙ্খল থাকে, এবং সৃষ্টিকর্তা তার উপর সন্তুষ্ট থাকে।ফলে ইহ ও পরকালে যারা বিশ্বাস করে তাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। তারা সেখানে মুক্তি পায় এবং বিজয়ী হয়।

পক্ষান্তরে যারা বা যেসকল গোত্র নিজ নিজ ধর্মের নিয়ম নীতি শৃঙ্খলা অনুসরণ করে না তাদের জন্য রয়েছে কঠোর ও কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা। ধর্ম সর্বদা মানব ও সমাজ কল্যাণের পথে থাকে।সব ধরনের অনৈতিক অন্যায় জুলুম ব্যাভিচারের বিরোদ্ধে কথা বলে।ধর্ম পালন ও চর্চা থাকলে ব্যাক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্র শৃঙ্খল থাকে। ধর্মের বাণীর বিরোদ্ধে কথা বলার কোনো যৌক্তিকতা আমার নেই। যারা ধর্মের বিরোদ্ধে অবস্থান নেয় বরং আমি তাদের বিরোদ্ধে। যে যার ধর্ম অনুসরণ অনুকরণ পালন করবে, সেটায় সমাজে প্রতিষ্টিত হওয়া চাই। কথা হচ্ছে একটি জায়গায় সেটা হচ্ছে ধর্মকে রাজনীতিতে টেনে এনে ধর্মের মূল উদ্দেশ্য থেকে মানুষ ও সমাজকে কলুষিত করার পাঁয়তারা প্রসঙ্গ নিয়ে। উপমহাদেশের কিছু কিছু অঞ্চলে ধর্মের ব্যবহারে রাজনীতি করা একটি চলমান ফ্যাসাদ। এ ফ্যাসাদ উন্নত দেশের আবিষ্কৃত একটি ষড়যন্ত্র। এ ষড়যন্ত্রের ভেড়াজালে উপমহাদেশের এসব অঞ্চলের ধর্মের অনুসারী মানুষ ও সমাজের মধ্যে দ্বিধা বিভক্ত সৃষ্টি করে ফেলছে। এসব অঞ্চলে ধর্মের বিভিন্ন নামের দল উপদল গোত্র তৈরী করে দেয়া হয়। নিজ ধর্মের মানুষের মধ্যে নানা গ্রুফ সুষ্টি করা হয়। এক গ্রুফ অপর গ্রুফকে নানাভাবে ফতওয়া দিয়ে ঘায়েল করার চেষ্টা করে থাকে। তারা নিজেরা নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ মনে করে। নিজেদের মধ্যে তারা ধারাবহিক গাইডার তৈরী করে নেয়। তাদের রাহাবার যেভাবে দিকনির্দেশনা দেবে সেভাবে তারা তাদের ধর্মীয় রীতি নীতি অনুষ্টান পালন করে থাকে।

মূলত তাদের ধর্মীয় অনুষ্টান পালন ও অনুসরণ ধর্মের গাইডের সাথে বা কিতাবের সাথে কী পরিমাণ মিল আছে সেটা অনুসারীদের বিবেচ্য বিষয় নয়। মূল কথা হচ্ছে এখানে যিনি বা যারা এ তরিকা বা পথ তৈরী করেছেন তারা যেভাবে বলবেন সেভাবেই অনুষ্টানাদি পালন হয়ে থাকে। এ জাতীয় তরিকা বা গ্রুফের এসব অঞ্চলে নিত্য সময় আবির্ভাব হচ্ছে। এসব গ্রুফে পা দিয়ে বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম অনভিজ্ঞ অশিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত ধর্মহীন মানুষগুলো বেশীরভাগ প্রকৃত ধর্মের আদর্শ হতে বিচ্যুত হচ্ছে। ধর্মের নামে এ ধরনের কৌশল নিজ ধর্মের মধ্যেই অনুসারীদের বিভক্ত করছে। ফলে এক গ্রুফ অপর গ্রুফকে ঘায়েল করার চেষ্টা চলছে। এ চেষ্টা সব গ্রুফের মধ্যে অব্যাহত আছে। এসব গ্রুফের মধ্যে কিছু কিছু গ্রুফ উগ্র জঙ্গি কট্টরপন্থি রয়েছে। যাদের বিশ্বাস ধর্মের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করা যেতে পারে। ধর্মের জন্য জোর জবর দস্তি প্রেসার ক্রিয়েট করা বৈধ। এসব মতাদর্শ ছড়িয়ে ছিটিয়ে প্রচার হওয়ার কারণে এসব অঞ্চলে জঙ্গিপনা সন্ত্রাস ধর্মের নামে শুরু হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গি কর্মকান্ডকে ধর্মের সাথে মিলানো হচ্ছে। তাদেরন ধর্মের ভুল তথ্য ও তথ্যের কারণে এক শ্রেণীর যুবসমাজ বিপদগামী হচ্ছে।

Rudra Amin Books

এ প্রক্রিয়া সবগুলো ধর্ম ও গোত্রের ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে কম বেশী দেখা যায়। ধর্মের কোনো কিতাবে জঙ্গিপনা সন্ত্রাস নৈরাজ্য সৃষ্টির কথা না থাকলেও এসব সংগঠনের বক্তারা ঠিকই ধর্মের অপব্যাখ্যা করে সমাজ ও যুবসমাজকে বিপদগামী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটাকে আমি মনে করব সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে এসব করা হচ্ছে। কারণ রাজণীতিকে কখনো ধর্মের সাথে তুলনা করা যায় না। ধর্ম পবিত্র একটি বিষয়। আর রাজনীতি সেটি অন্য আরেকটি বিষয়। রাজনীতি কী ধরনের হবে, পলিসি, কর্মপন্থা, কর্মসূচী, উদ্দেশ্য কী হবে সেটা রাজনীতির প্রবক্তায় ঠিক করে দেবেন বা ঠিক করে থাকেন। এখানে ধর্মের কোনো বিষয় জড়ানো কোনো অবস্থায় যুক্তিযুক্ত বলে আমি বিশ্বাস করি না। রাজনতির উদ্দেশ্য হলো তাদের ভাষায় জনগণের মধ্যে শাসন প্রতিষ্টা করা। ক্ষমতায় বসা, ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা।নিজ ভূমি দেশ মাটি রক্ষা করা, এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্টায় বা পূরণে কাজ করা। সেটায় রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য বলে আমার মতো অনেকেই বুঝে থাকেন। এসব কথা রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে জনগণের নিকট আসলেও বাস্তবেই কী পরিমাণ জনগণকে এসব রাজনীতি বা তাদের কর্মসূচী পরিকল্পনা মুক্তি দিতে পেরেছে সেটা জনগণই সঠিক মূল্যায়ন করবেন।

এখানে কথা হচ্ছে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিয়ে। ধর্মীয় রাজনীতি তারা তো সারাক্ষণই ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনতি করছে। সেজন্যেই তাদের দলের সৃষ্টি। তারা কিছু করতে পারুক না পারুক ধর্মের দোহাই দিয়ে তাদের গোত্রের জনগণকে বোঝাবার চেষ্টা চালিযে আসছে। যদিও বা ধর্মীয় রাজনীতিতে ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থা পৃথিবীর কোথাও প্রতিষ্টা করতে কেউ সক্ষম হয়নি। আবার যারা ধর্মীয় রাজনীতির বাইরে ও ধর্মীয় রাজনীতির বিরোদ্ধে অবস্থান নেয় তারাও কিন্তু নির্বাচন আসলে ধর্মের ব্যবহারে মাঠে নেমে পড়ে। ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্মীয় প্রতিষ্টানে দান অনুদান প্রদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অর্জনের চেষ্টা করে। নির্বাচনে জয় বিজয় হওয়ার জন্য ধর্মীয় রীতি রেওয়াজ বিরোধী কর্মকান্ড করে রাজনীতিতে কৌশল হিসেবে আমাদের দেশে চলে আসছে স্বাধীনতার আগে ও পর থেকে। রাজনীতি এবং ধর্ম দুটি আলাদা বিষয় হলেও এ অঞ্চলে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সুবিধার্থে নির্বাচন এবং তাদের প্রয়োজনে ধর্মকে ব্যবহার করে থাকে। এভাবে ধর্মীয় এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল সমূহ সুবিধামতো উপায়ে ধর্মকে ব্যবহার করে আসছে। এটা মূলত জনগণ ও ধর্মের সাথে প্রতারণা ছাড়া কিছুই না। কারণ তারা যখন জয়ী হয়ে রাজনৈতিক ভাবে ক্ষমতার চেয়ারে বসে তখন ধর্মের বাণী নীতি আদর্শ বেমালুম ভুলে যান এবং ধর্ম থেকে দূরে থাকেন। সুতারাং রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার একটি প্রতারণা ছাড়া কিছুই না। এসব জাল ভেজাল বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি থেকে জনগণকে সচেতন হওয়া চায়।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সংরক্ষণাগার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta