রক্ষা করি পরিবেশ, গড়ি সোনার বাংলাদেশ | Nobobarta

আজ বুধবার, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১:০৬মি:

রক্ষা করি পরিবেশ, গড়ি সোনার বাংলাদেশ

রক্ষা করি পরিবেশ, গড়ি সোনার বাংলাদেশ

মোঃ এনায়েত হোসেন লীন: ‘৭০০ কোটি মানুষের অপার স্বপ্ন, একটি বিশ্ব, করি না নিঃস্ব’স্লোগান সামনে রেখে প্রতি বছরের পরিবেশ দিবস পালিত হয়। সম্পদের ভোগ ও উপভোগ যাতে পৃথিবীর প্রাণশক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে এবং প্রকৃতিকে বিরূপ করে না তোলে, সে জন্য পৃথিবীবাসীকে সচেতন করতেই জাতিসংঘ এবং সারা বিশ্ব একই সাথে পরিবেশ দিবস পালন করে আসছে।

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশ ও বনমন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল থানার পুলিশ লাইনের বিশাল দিঘীটির একাংশ ভরাট করে ‘পুলিশ মেমোরিয়াল’ নামে বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা কতটা যুক্তিযুক্ত কারন রয়েছে তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

চতুরপাশে সারিবদ্ধ নারিকেল গাছে ঘেরা এই দিঘীর রুপালী ঢেউর সাথে জোৎস্না রাতের চাঁদের আলোয় মিতালী উপভোগ করেছি দীর্ঘ ১৫ বছর। কিন্তু আজ পুলিশ লাইনের পাশ দিয়ে হেটে যাওয়া পথচারী সহ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শতশত নারী পুরুষ যাঁরা ভোরের আলোয় ভ্রমন এবং সান্ধ্যাকালীন ভ্রমনে আসেন তারা কেউ সেই আনন্দ উপভোগ করতে পারছেন না। এখন আর দীঘির জলে জোৎস্না রাতের চাঁদের আলোয় ঢেউ খেলা ঝিলি মিলি জলতরঙ্গ চোখে পড়ে না। আমার চোখে পড়ে শুধু দীঘির অর্ধেকাংশ জুড়ে রড, ইট ও সিমেন্টে গড়ে ওঠা একটি বহুতল ভবনের বিশাল কর্মযজ্ঞ।

আমি এতক্ষন শুধু কাফরুল থানার সেই বিশাল দিঘীটির অর্ধেক ভরাট হয়ে যাওয়ার কথা বলছি কিন্তু মিরপুর-১৩ অবস্থিত হাজী আলী হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠটি যে কিছুদিন আগে ও সবুজে বিস্তৃত ছিল এবং সকাল বিকাল মাঠভরা ছেলেমেয়েরা খেলার হৈ চৈ শব্দে মেতে উঠত। সেই শব্দ আজ আর শুনতে পাই না।এখন খেলার মাঠ হারিয়ে গেছে মধ্য মাঠ জুড়ে গড়ে উঠছে বহুতল বিশিষ্ট শিক্ষা ভবন।

Rudra Amin Books

বিশ্বের একটি জনবহুল রাজধানীর নাম ঢাকা। ঢাকায় আয়তন অনুসারে জনবসতি প্রায় ১০ গুন বেশী। এই বিপুল পরিমান জনগোষ্টির স্বাস্থ্য,শিক্ষা ও ক্রিড়া সংস্কৃতির রক্ষার জন্য যে পরিমান বনভূমি ও জলাশয় রয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্ন। ইউএনইপি এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়রে দেয়া তথ্যমতে বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির বর্তমান ধারা বজায় থাকলে ২০৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা হবে ৯৬০ কোটি। তখন মানুষের চাহিদা মেটানোর জন্য তিনটি পৃথিবীর সমান সম্পদের দরকার হবে।

একদিকে বাংলাদেশে জনসংখ্যার চাপ অন্যদিকে বনভূমি উজাড় করা ও জলাশয় ভরাট করে বসতি নির্মান আর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রতিদিন সুস্থ্য সুন্দর পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণ যেখানে জরুরি প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। সেখানে আমরা বুঝে বা না বুঝেই প্রতিনিয়ত প্রকৃতির ক্ষতি করছি। বন কেটে আবাস গড়ছি। জলাভূমি ভরাট, জ্বালানি শক্তির অপচয়, নদী ও বায়ু দূষণ করছি। এভাবে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করে নিজেদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করে তুলছি। এসব ক্ষেত্রে আমাদের খুব সতর্ক হতে হবে এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় রোধে মনোযোগী হতে হবে। প্রকৃতির ক্ষতি না করলে সুন্দর ও বসবাসযোগ্য আগামীর বাংলাদেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সংরক্ষণাগার

Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta