কিংবদন্তি রুনা লায়লার ৬৮তম জন্মবার্ষিকী আজ | Nobobarta

আজ শুক্রবার, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:৪৯মি:

কিংবদন্তি রুনা লায়লার ৬৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

কিংবদন্তি রুনা লায়লার ৬৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

কণ্ঠের জাদুতে দীর্ঘদিন ধরে সবাইকে মুগ্ধ করে রেখেছেন সংগীত জগতের কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা। ষাটের দশকে যাত্রা শুরুর পর থেকে আজ অবধি ছড়িয়ে যাচ্ছেন কণ্ঠের মায়াজাল, মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন কোটি শ্রোতাকে।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই কণ্ঠশিল্পীর ৬৮তম জন্মদিন আজ। ১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন প্রখ্যাত এই শিল্পী। মা অনিতা সেন আর মামা বিখ্যাত সংগীত শিল্পী সুবীর সেনের হাত ধরে সঙ্গীতের হাতেখড়ি। সংগীতময় পরিবেশে যার একটু একটু করে বেড়ে ওঠা। তিনি উপমহাদেশের বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা।

ধ্রুব মিউজিক স্টেশন সূত্রে জানা যায়, রুনা লায়লার জন্মদিন উপলক্ষে একে একে প্রকাশিত হবে আঁখি আলমগীরের কণ্ঠে ‘কোথায় রেখেছো আমায়’, তানি লায়লার কণ্ঠে ‘কেন হয়ে গেছি পর’ ও হৈমন্তী রক্ষিতের ‘আকাশে মেঘ জমেছে’ গান তিনটি। তানি লায়লার গানটির গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার। বাকি দুটো গান কবির বকুলের লেখা। গানগুলোর সংগীতায়োজন করেছেন রাজা ক্যাশেফ। রুনা লায়লা জানান, তিনি আরো নতুন কিছু গানের সুর করছেন। করোনার কারণে সেসব সুর করা গানের কাজ আপাতত বন্ধ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই সবাইকে বিস্তারিত জানাবেন।

বাবা সরকারি কর্মকতা হওয়ার সুবাদে আড়াই বছর বয়সে রাজশাহী থেকে চলে যেতে হয় তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের মুলতানে। যার ফলে শৈশব কাটে পাকিস্তানের লাহোরেই। সেসময় মা, মামার পাশাপাশি দীক্ষা নেন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত আর গজলে। ছয় বছর বয়সে দর্শকের সামনে প্রথম গান গেয়ে মাত করেন কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। মাত্র এগারো বছর বয়সে শুরু হয় সিনেমায় প্লেব্যাক। করাচিতে জুগনু চলচ্চিত্রে প্রথম গান করার মধ্য দিয়ে সিনেমার গানে রুনা লায়লার যাত্রা শুরু।

Rudra Amin Books

পাঁচ বছর পর, ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে নজরুল ইসলাম পরিচালিত স্বরলিপি চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে প্রথম সিনেমায় গাওয়া গান। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে চলে আসার পর প্রথম তিনি গেয়েছেন সত্য সাহার সুরে ‘জীবন সাথী’ ছবিতে। এরপর একে একে সঙ্গীত ভুবনেই কেটে যায় পাঁচ দশক। জায়গা করে নেন উপমহাদেশেও।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতীয় ও পাকিস্তানি চলচ্চিত্রের অনেক গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। এছাড়া চলচ্চিত্রের গানে পাঁচ দশক ধরে কণ্ঠ দিয়ে যাচ্ছেন। যার গান রূপ, রস, গন্ধ সব বয়সী শ্রোতাকে মুগ্ধ করে। আর তাঁর গানের তালে তালে নৃত্য, হাতের ভঙ্গিমা ও ফ্যাশনে তিনি তৈরি করেছেন স্বকীয়তা। ছোটবেলায় কত্থক, ভরতনাট্যম ও কথাকলি নাচও শিখেছেন তিনি।

পাঁচ দশকের সংগীতজীবনে লোকজ, পপ, রক, গজল, আধুনিক—সব ধাঁচেই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন রুনা। বাংলা, হিন্দি, উর্দু, ইংরেজিসহ ১৮টি ভাষায় তাঁর কণ্ঠে গান শোনা গেছে। এ পর্যন্ত গানের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। নব্বইয়ের দশকে মুম্বাইয়ে পাকিস্তানি সুরকার নিসার বাজমির সুরে একদিনে ১০টি করে তিন দিনে ৩০টি গানে কণ্ঠ দিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখান রুনা। সিনেমায় প্লেব্যাক করে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ছয়বার।

১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘স্বাধীনতা দিবস’ পুরস্কারে ভূষিত করে। সংগীতের জন্য তিনি নিজের দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন। সায়গল পুরস্কার’ দুবার নিগার পুরস্কার, দুবার গ্র্যাজুয়েট পুরস্কার এবং জাতীয় সংগীত পরিষদ স্বর্ণপদকও পেয়েছেন গুণী এই শিল্পী।

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগস্:

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সংরক্ষণাগার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta