ঘূর্ণিঝড় সিডর : ভয়াল সেই দুঃস্বপ্নের ১৩ বছর | Nobobarta

আজ শুক্রবার, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:০৫মি:

ঘূর্ণিঝড় সিডর : ভয়াল সেই দুঃস্বপ্নের ১৩ বছর

ঘূর্ণিঝড় সিডর : ভয়াল সেই দুঃস্বপ্নের ১৩ বছর

আজ ১৫ নভেম্বর। ২০০৭ সালের এই দিনটি উপকূলবাসীর ইতিহাসে একটি বিভীষিকাময় দিন। প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় উপকূলীয় এলাকা বরগুনা। এই দিনটি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে এখনও এক দুঃস্বপ্ন। ভয়াল ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে সেদিন উপকূলীয় এলাকা দেখেছিলো ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ।

শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারিয়েছিল হাজারো মানুষ। নিখোঁজ হয়েছিল আরও সহস্রাধিক। ঘরবাড়ি আর সহায় সম্বল হারিয়ে মানুষ হয়ে পড়ে অসহায়। সিডরের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত ধকল কাটেনি উপকূলবাসীর। ক্ষত চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন নিহতের স্বজনরা। সেই রাতে ঘণ্টায় ২১৫ কিলোমিটার গতির প্রলয়ঙ্কারী ঘুর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল দক্ষিণের জনপদ। উপকূলীয় জেলা বরগুনার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অগনিত মানুষ ও গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে। বাড়িঘর, ফসলী জমি, রাস্তাঘাট, ভেরিবাঁধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সুন্দরবনের গাছপালা ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের এদিনে ঘূর্ণিঝড় সিডরে বরগুনা জেলায় সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১ হাজার ৩৪৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ ছিলেন আরো ১৫৬ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। আর আহতের সংখ্যা ২৮ হাজার ৫০ জন। এ জেলার ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৬১ পরিবারের মধ্যে বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮৫ টি, ফসলের ক্ষতি হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৩ একর, গবাদি পশু মারা গেছে ৩০ হাজার ৪৯৯টি, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১ হাজার ২৩৫, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ৪২০ কিলোমিটার। তবে বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্য আরো বেশি।

কিন্তু আজও উপকূলবাসীর মাঝে ফিরে আসেনি সচেতনতা। ওই সময় অসচেতনতার কারণে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানী ঘটে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী এলাকায়। যারা সাইক্লোন সেল্টারে আশ্রয় নিয়েছিল, তাদের প্রাণহানী ঘটেনি। বেশি প্রাণহানী ঘটেছে সাগরে অবস্থানরত জেলেদের। উপকূলীয় এলাকায় গত ১৩ বছরে যে আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে তা অপ্রতুল। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাজ এখনো অসমাপ্ত। ফলে বড় ধরনের দুর্যোগ দেখা দিলে মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। সিডরের পরে সরকার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। গৃহীত উদ্দ্যোগ আজও ৫০ শতাংশ সফল হয়নি। এদিকে ৪৫ পোল্ডারে ৩ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সিডরে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে হুমকির মধ্যে রয়েছে বাঁধ ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষ।

Rudra Amin Books

উপকূলের লক্ষাধিক মানুষ সাগর সংলগ্ন নিদ্রা সখিনা, আশারচর, জয়ালভাঙ্গা, ফকির হাট, পাথরঘাটার পদ্মার চর, হরিণঘাটা, বরগুনার মাঝের চরসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। এখনও সামান্য বন্যায় নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। গত ১৩ বছর ধরে হুমকির মুখে এ এলাকার মানুষ বসবাস করছে। এ ব্যাপারে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘তেতুলবাড়িয়া ও জয়ালভাঙ্গা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এ বছর নির্মাণ করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সংরক্ষণাগার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta