কিংবদন্তি অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ | Nobobarta

আজ বুধবার, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:১১মি:

কিংবদন্তি অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কিংবদন্তি অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ ১৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দেশীয় চলচ্চিত্রের এক বিশাল হারানোর দিন। ঢাকাই চলচ্চিত্রের নবাবখ্যাত কিংবদন্তি অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি গত ২০১৩ সালের ঠিক আজকের এই দিনে ৮১ বছর বয়সে (ইন্তেকাল করেছিলেন) পৃথিবী ছেড়েছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের ‘মুকুটহীন সম্রাট’, শ্রদ্ধায় অবনত হয়ে ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ও ডাকা হয় যাকে। ‘অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। তিনি আমাদের মাঝে নেই এটা সত্যি। কিন্তু তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন আজীবন।

আনোয়ার হোসেনকেও মনে রেখেছেন এমন মানুসের সংখ্যা হাতেগোনা। জীবনের ৫২টি বছর যে ক্ষেত্রে তিনি কাটিয়ে গেলেন সুখে-দুঃখে-স্বপ্নে-সাফল্যে; তার কতটুকু স্বীকৃতি পেলেন তিনি? অথচ সময় তো খুব বেশি গড়ায়নি সাতটি বছর, মাত্র সাতটা বছরও মনে রাখার মতো অবদান ছিলো না তার? কীভাবে মাত্র সাত বছরের মতো এতো দ্রুত সময়ের মধ্যে তার মতো একজন কিংবদন্তি গুণী অভিনেতা অনেক বড় মাপের একজন মহান অভিনয় শিল্পীর কথা, বাংলা চলচ্চিত্রের মুকুটহীন সম্রাটের কথা এবং বাংলার বাংলা চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা? আমার মতে ভুলে না গেলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি অবশ্যই কোনো না কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতো!! এই সাত বছরে তার অনুপস্থিতিতে আনোয়ার হোসেনের পরিবারের পাশে কেউ কি দাঁড়িয়েছেন? অন্তত মৃত্যুদিনে একটু সান্ত্বনার ছায়াও কি পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না তার পরিবার? প্রশ্ন অনেক।

অভিমানও। যদি বলা হয় ক্ষোভ, খুব বেশি অযৌক্তিক হবে না। এভাবেই বছরের পর বছর চলে যাবে। এভাবেই কেউ কেউ একদিন তাকে ভুলে যাবে হয়তো। তবে আমি এই মহান অভিনেতা শিল্পীর কথা এবং বাংলার বাংলা চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। আমার মতে তিনি কিন্তু রয়ে যাবেন বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মাথা উঁচু করে, ‘মুকুটহীন সম্রাট’ হিসেবেই । আনোয়ার হোসেনের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার দীর্ঘ অভিনয় জীবনের সহকর্মী কিংবা অনুজরা কেউ এগিয়ে না আসুক, কেউ মনে না রাখুক; পরিবারে তো আনোয়ার হোসেন কারো পিতা, স্বামী, হৃদয়ের কাছের জন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া মাহফিল, গরীব এতিম বাচ্চাদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে রাজধানীর ক্রিসেন্ট রোড মসজিদে। আনোয়ার হোসেনের চার ছেলে ও এক মেয়ে। চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে থাকেন সুইডেনে। অন্য তিন ছেলে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে এই দুঃখের দিনে মায়ের (নাসিমা আনোয়ারের …আনোয়ার হোসেনের সহধর্মিনী) পাশে থাকতে পারেন না কেউ। কেউই মায়ের পাশে না থাকতে পারলেও, একমাত্র মেয়ে হানাসান থাকেন মায়ের পাশেই।

আনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৩১-এ, জামালপুর জেলার সরুলিয়া গ্রামে। ১৯৫১ সালে জামালপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন তিনি। ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজে পড়াকালীন অনেক মঞ্চনাটকে অভিনয় করেন আনোয়ার হোসেন। রাজনীতির সঙ্গে কখনোই জড়িত ছিলেন না তিনি। তবে ভাষা আন্দোলনের সময় আবুল মনসুর আহমেদের ছেলে মতলুব আনমের সঙ্গে তার উঠাবসা ছিল বলে সে সময় কিছুটা জড়িত হয়েছিলেন সেই আন্দোলনে। ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। প্রথম অভিনয় স্কুলজীবনে, আসকার ইবনে সাইকের ‘পদক্ষেপ’ নাটকে। এরপর বিভিন্ন মঞ্চনাটকে অভিনয় করেছেন। পরের বছরই চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন আনোয়ার হোসেন। মহিউদ্দিনের ‘তোমার আমার’ ছবিতে খলচরিত্রের মধ্য দিয়ে শুরু হলো তার রূপালী যাত্রা। ১৯৫৭ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। সেই বছরই তিনি ঢাকা বেতারের নাটকে প্রথম অভিনয় করেন।

Rudra Amin Books

নাটকটির নাম ছিল ‘নওফেল হাতেম’। ঢাকায় আসার পরপরই তিনি নাসিমা খানমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সে বছরই পরিচালক মহিউদ্দিনের সহকারী মো. আনিস তার সঙ্গে আনোয়ার হোসেনকে পরিচয় করিয়ে দেন। আর প্রথম পরিচয়েই আনোয়ার হোসেন অভিনয় দক্ষতা প্রমাণ করতে পারেন বলে তার ‘তোমার আমার’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। আর এটাই ছিল এ অভিনেতার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র। যে ছবিতে অভিনয় করে সে সময় পারিশ্রমিক হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন ৩০০ টাকা। এরপর থেকে আনোয়ার হোসেন নিয়মিত ছবিতে অভিনয় করেছেন। ২০০৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত একজন বহুমাত্রিক অভিনেতা হিসেবে তিনি পাঁচ শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। আনোয়ার হোসেন অভিনীত প্রথম ছবি ‘তোমার আমার’ ১৯৬১ সালে মুক্তি পায়। ১৯৬৪ সালের ১লা মে তার অভিনীত ‘দুই দিগন্ত’ ছবিটি দিয়ে ঢাকার বলাকা প্রেক্ষাগৃহের শুভ উদ্বোধন হয়েছিল।

আনোয়ার হোসেনের অভিনয় জীবনের শ্রেষ্ঠ ছবির মধ্যে ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’ র পর জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ উল্লেখযোগ্য। রাজেন তরফদার পরিচালিত ‘পালঙ্ক’ ছবিতে তার নায়িকা ছিলেন সন্ধ্যা রায়। তার অসাধারণ অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। আনোয়ার হোসেন ১৯৭৫ সালে প্রবর্তিত প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘লাঠিয়াল’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার লাভ করেন। এরপর তিনি পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ছবিগুলো হচ্ছে গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮), দায়ী কে (১৯৮৭) এবং লালসালু (২০০১)। এছাড়াও বাংলা ভাষার প্রথম ডিজিটাল স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আই ২০০৯ সালে দ্বিতীয় ‘চ্যানেল আই’ চলচ্চিত্র মেলায় আনোয়ার হোসেনকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করে। সর্বশেষ ২০১০ সালে আনোয়ার হোসেনকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে অনেকবারই পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদকও জিতে নিয়েছেন অভিনয়ের এই মহান পুরুষ।

আমি বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার শেষ নবাব সিরাজুদ্দৌলা খ্যাত দেশীয় চলচ্চিত্রের বিশিষ্ট অভিনেতা জনাব আনোয়ার হোসেনের অকাল মৃত্যুতে মর্মাহত, ব্যাথিত এবং গভীরভাবে শোকাহত। কিংবদন্তি এই গুণী শিল্পীর প্রতি রইলো আমার পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। আল্লাহ তার আত্মাকে শান্তি দিক। তাঁর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালবাসার সাথে আমি এই মহান অভিনেতা শিল্পীর কথা এবং বাংলার বাংলা চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। আমি তাঁর আত্মার চির শান্তি কামনা করছি। আমি তাঁর পরিবার পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি ও সহমর্মিতা জানাচ্ছি এবং দোয়া করছি, তাঁর পরিবার যেন তার এই অকাল প্রয়াণ সইতে পারেন। আমি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করছি মহান রাব্বুল আলআমিন তাঁকে বেহেস্ত নছীব করুক।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সংরক্ষণাগার

Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta