আজ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী | Nobobarta

আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১লা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৩:৪০মি:

আজ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী

আজ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী

আজ ২৬ জুন। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। জাহানারা ইমামের (ডাক নাম জুড়ু) জন্ম ১৯২৯ সালের ৩ মে। বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুরে ত্রিশ ও চল্লিশ দশকের রক্ষণশীল বাঙালি মুসলমান পরিবার বলতে যা বোঝায়, সে রকম একটি পরিবারেই তিনি জন্মেছিলেন। জাহানারা ইমামের বাবা সৈয়দ আবদুল আলী ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। মা সৈয়দা হামিদা বেগম। জাহানারা ইমাম ছিলেন বাংলাদেশী লেখিকা, তিনি একজন সুসাহিত্যিক ও ছিলেন একজন শহীদ জননী, কথাসাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং একাত্তরের ঘাতক দালাল বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী। তার লেখা ‘একাত্তরের দিনগুলি’ ছাড়াও রয়েছে ‘সাতটি তারার ঝিকিমিকি’, ‘নগরী’, ‘গজ কচ্ছপ’, ‘জীবনমৃত্যু’, ‘বীরশ্রেষ্ঠ’, ‘বুকের ভিতর আগুন’, ‘নিঃসঙ্গ পাইন’, ‘ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস’, ‘বিদায় দে মা ঘুরে আসি’ ইত্যাদি।

জাহানারা ইমাম মাট্রিক পাস করেন ১৯৪২ সালে। ১৯৪৪ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে আইএ পাস করে ১৯৪৫ সালে ভর্তি হন কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ণ কলেজে। লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে বিএ পাস করেন ১৯৪৭ সালে। ১৯৬০ সালে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৬৪ সালে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে ১৯৬৫ সালে বাংলায় এমএ পাস করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

শিক্ষক হিসাবে তার কর্মময় জীবনের প্রথম কাল কাটে ময়মনসিংহ শহরে। সেখানে বিদ্যাময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে ১৯৪৮ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত তিনি কর্মরত ছিলেন। এরপর তিনি ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (১৯৫২‌‌-১৯৬০), বুলবুল একাডেমি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক (১৯৬২-১৯৬৬) এবং ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রভাষক (১৯৬৬‌-১৯৬৮) হিসাবে তার কর্মজীবন অতিবাহিত হয়। তিনি কিছুদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটেও খন্ডকালীন শিক্ষক হিসাবে কাজ করেন।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জাহানারা ইমাম তিনি তার সদ্য প্রকৌশলবিদ্যায় স্নাতক হওয়া ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শফি ইমাম রুমী শহীদ হন। এছাড়া ও যুদ্ধের সময় তাঁর প্রকৌশলী স্বামী শরিফ ইমামকে হারান। স্বামী-সন্তানহারা শহীদ জননী জাহানারা ইমাম স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে হয়ে ওঠেন মুক্তিযোদ্ধাদের মা। একাত্তরে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র শফি ইমাম রুমী দেশের মুক্তিসংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন এবং কয়েকটি সফল গেরিলা অপারেশনের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন এবং পরবর্তীতে নির্মমভাবে শহীদ হন। বিজয় লাভের পর রুমীর বন্ধুরা রুমীর মা জাহানারা ইমামকে সকল মুক্তিযোদ্ধার মা হিসেবে বরণ করে নেন৷ রুমীর শহীদ হওয়ার সূত্রেই তিনি ‘শহীদ জননী’র মযার্দায় ভূষিত হন৷ মুক্তিযুদ্ধে এক সন্তান হারিয়ে সারা দেশে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা সন্তান অর্জন করে তিনি। তিনি তার শহীদ সন্তান মুক্তিযোদ্ধা রুমীর ছায়া দেখতেন সব মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে। তার লেখা ‘একাত্তরের দিনগুলি’ শুধু দিনলিপি বা স্মৃতিচারণ নয়, তার এই রচনা মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসের জীবন্ত ইতিহাস। দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান রোধে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

Rudra Amin Books

১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানি নাগরিক গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামী তাদের দলের আমির ঘোষণা করলে দেশের জনগণ এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। গড়ে ওঠে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আন্দোলন। জামায়াতের এ ধৃষ্টতার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ৭০টি রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে ১৯৯২ সালের ২১ জানুয়ারি গড়ে ওঠে ‘৭১-এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’। পরে আরও বিস্তৃত কলেবরে ১১ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি। সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচিত হন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম।

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বসে ঐতিহাসিক ‘গণআদালত’, শহীদ জননীর সভাপতিত্বে লাখ লাখ বিচারপ্রার্থীর উপস্থিতিতে ঘাতকদের হোতা গোলাম আযমের প্রতীকী বিচার হয়। উত্থাপিত নির্দিষ্ট ১০টি অভিযোগের প্রত্যেকটিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় গোলাম আযমের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে গণআদালত। তৎকালীন সরকার গণরায় বাস্তবায়ন না করে শহীদ জননী জাহানারা ইমামসহ ২৪ জন বিশিষ্ট নাগরিকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে অজামিনযোগ্য মামলা দায়ের করে। অন্যদিকে চিহ্নিত পাকিস্তানি নাগরিক গোলাম আযমকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয় আদালতের মাধ্যমে। ক্যান্সারে আক্রান্ত শহীদ জননী আমৃত্যু এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন।

আশির দশকের শুরুতে, ১৯৮২ সালে তিনি মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। প্রতি বছর একবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হতো তাঁকে। ১৯৯৪ সালের আজকের এই দিনে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ডেট্টয়েট নগরীর সাইনাই হাসপাতালের বেডে ক্যান্সারে আক্রান্ত শহীদ জননী ৬৫ বছর বয়সে জাহানারা ইমাম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তৎকালীন শাসকদের দেওয়া দেশদ্রোহ মামলা মাথায় নিয়ে মৃত্যুবরণ করলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দেশবাসীর কাছে জাহানারা ইমাম দেশপ্রেম, ত্যাগ ও সংগ্রামের এক অনন্য প্রেরণার উৎস হিসেবে আজও পরম শ্রদ্ধায় উচ্চারিত এক নাম।

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আমার পক্ষ থেকে ওনার স্মৃতির প্রতি উদ্দেশ্যে করে আমার অন্তরের গভীর থেকে তীব্র ভালবাসা জ্ঞাপন ও তার স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন ও তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সংরক্ষণাগার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta