পলাশ চন্দ্র দাসের ১০ টি কবিতা | Nobobarta

আজ বুধবার, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১:০৯মি:

পলাশ চন্দ্র দাসের ১০ টি কবিতা

পলাশ চন্দ্র দাসের ১০ টি কবিতা

প্রভাত

ডাকছে পাখি কিচিরমিচির
গাইছে ভোরের গান,
প্রভাত হলো আঁখি খোলো
দেখো সোনালি আকাশ।

ভোরের বাতাস যাচ্ছে বয়ে
প্রজাপতি ওই ফুলে ফুলে দোলে,
ঘুমের বিলাস ভেঙে আঁখি খোলো
দেখো সবুজ গাছ।

নতুন সূর্য নতুন আলো
রাঙানো প্রভাত আঁখি খোলো
গাও ভোরের গান
জাগিয়ে নতুন প্রাণের প্রকাশ।

Rudra Amin Books

মানবতার জয়রথে

জগৎ জুড়ে মানুষ বাঁচে নিয়ে মানবতাবাদ,
আবার তারা দ্বন্দ্ব করে নিয়ে জাত পাত বর্ণবাদ।
যেন কালোরা তামাজাত, সাদারা স্বর্ণ,
কত হট্টগোল নিয়ে শ্বেতবর্ণ, কৃষ্ণবর্ণ।
মানুষ মোরা ভাই ভাই,
বর্ণে না জাত বদলায়।

কত সাদা দেখো হয় বদমাশ ডাকাত,
হাত পেতেও হয় না খাওয়া ভাত।
কত কালো গুণে হচ্ছে বৃক্ষ বট,
প্লেন নিয়ে ছুটছে দেশান্তে হয়ে পাইলট।
কৃষ্ণ বর্ণ নয় দাসত্ব,
মূলে গেলে এক বর্ণ, এটাই সত্য।

ভিন্ন কেউ নয়,
সবাই করছে বিশ্ব জয়।
নাই বর্ণের কাল পাত্রের ভেদ,
কালো বলে মনে রেখো না খেদ।
আর অভেদ বর্ণ জাতি
সকল বর্ণ একত্রিত হবে
এই মানুষেরই জ্ঞাতি।

মানব জীবন ত্যাগে শ্রেষ্ঠ
ভালোবাসায় হয় মহীয়ান,
সকলে মিলেই হবো বলীয়ান।
সকল বর্ণ ধুলিস্যাৎ করে
থাকি কাছাকাছি,
একসাথে থাকি একসাথে বাঁচি।
আঁকি মানবতার ছবি।
উঠুক আকাশে সম্মিলিত মানবতার রবি

প্রতিক্ষা

তুমি আসবে বলে
বরণ ডালায় প্রদীপ জ্বালিয়ে
মাধবীলতায় সবুজে সাজিয়ে
একলা বসে রই।

তুমি আসবে বলে
দূর্বা ঘাসের মাথায় শিশির বিন্দু
প্রতীক্ষার প্রান্তরে ভিজিয়ে অশ্রুজলে
ঝরে গেলো মাটিতে মিশে
অভিমানের স্রোতে ভেসে।

আসবেই যদি অবশেষে
কেনো করলে এতো দেরি
অভিমানের পাল্লাটা যে
আজ বড্ড বেশি ভারি।

অপেক্ষায় জোনাকিরা সব
দিচ্ছে না আর আলো,
পূর্ণিমাতেও আমার চোখে
অমাবশ্যার ন্যায় কালো।

প্রতিক্ষারা যে আজ হয়েছে ধৈর্যহারা
মুছে গেছে তোমার আশা,
তোমার প্রতি নেইগো আমার
কোনোই ভালোবাসা।

আমি সেথা যাবো

আমি সেথা যাবো ভাই
যেথা গেলে ফিরে পাবো
মোর মনুষ্য জীবনের স্বাদ
যেথা গেলে বৃক্ষের ডালে মৌন বসে
ক্লান্ত দেহ উজাড় করে
শীতল হবে প্রাণ।

যেথা গেলে রাত্রী নিশীথে
হানা দিবে না ডাকাত, তস্করে
মানুষ যেথা পাহাড় জমাবে না
সোনার গয়নায় ভরে
অার অর্থ বিত্তের উদ্বেগে
কমাবে না তাদের আয়ু
যেথা সবাই তুচ্ছ পেলে
তুষ্ট হবে ভাই
মানুষ যেথা ধন-দৌলতকে
সম্মান দিবে না আরও
যেথা দীনতা নেই, সংশয় নেই
নেই লোকভয়, নেই কোন অবিচার
পাশের ঘর আঁধার হলে
জ্বালিয়ে দিবে আলো।

আমাদের এই দেশ

ধানের এই দেশ
গানের এই দেশ
আমার প্রাণের বাংলাদেশ
ক্ষেতের পরে ক্ষেত চলেছে
রাশি রাশি ধান
কৃষাণ কৃষাণির হাসি মাখা মুখ
চড়ুই শালিকের কিচিরমিচির
অতিথি পাখির ঝাঁক
মাথা দুলায়ে হাসে দেখো
রাশি রাশি ধান
আজই সোনালি আলোয় মুক্ত বাতাসে
ভাসিয়ে এই দেহখান
কাচা ধানের মিষ্টি ঘ্রাণে
জুড়াচ্ছি মন-প্রাণ।

শরৎকাল

নদীর তীরে থোকায় থোকায়
কাঁশফুল হেলে দুলে ওঠে
শরতের নীল আকাশে ভাসে
আল্পনায়িত দুধ সাদা মেঘের ভেলা
শিউলি কেয়া আঙিনা সাজায়
পদ্মা শাপলা সাজায় দীঘি
গুচ্ছ গুচ্ছ কাশফুল আর
গাঁথি শেফালির মালা
নতুন ধানের শীষ মুকুট দিয়ে
সাজিয়ে নেয় ডালা
কি অপরূপ রূপে তুমি
সাজিয়েছো এ বেলা।

একটি চাঁদনী রাত

গা ছমছমে নিস্তব্দ রাতে
খোলা আকাশের নীচে আমি নীরবে
বন্ধু তোমার অপেক্ষায়
আকাশের বুক ফুঁটে

রূপালী চাঁদ দিচ্ছিলো তার
ঝলমল শুভ্র আলো
প্রতিক্ষার প্রহর ফুরিয়ে
আসবে তুমি চাঁদনী রাতে
তোমায় নিয়ে বলবো কথা
মাখবো জোৎস্নার অমিয় সুধা
আকাশ জুড়ে মিটিমিটি জ্বলছে
অগণিত নক্ষত্র তারার মেলা
মনের গহীন জানালা খুলে
তোমায় নিয়ে বলবো কথা
কাটবে আমার নিরবতা।

অভিমান

পূর্ণিমার চাঁদ রেখেছিলে স্বাক্ষী
বলেছিলে থাকবে হাতটা ধরে
ভালোবাসার বিশ্বাসে আবদ্ধ হয়ে
দেখেছি কতো রঙিন স্বপ্ন
হৃদয়ে গেঁথেছিলাম তোমায়।

তারুণ্যের কলি শেষে
তুমি হয়েছে যুবতী
ছড়িয়েছে কতো লাবণ্য
রূপ দেখে তোমার শহর থেকে
আসছে কতো বাবু
রাখবে বড় অট্টালিকায়
সোনার গয়নায় মুড়ে
তাই দেখে তোমার সারা অঙ্গে
কতো রূপ যে সাজছে
স্বপ্নগুলি আজও সতেজ রেখেছি
নেই শুধু তুমি পাশে।

বন্যা

শহর নগর গ্রাম বাংলা
ডুবছে অথৈ জলে,
কতো দুর্যোগ হচ্ছে দেখো
সবার চোখের জলে।

আকাশ ডাকে কালো মেঘ
হচ্ছে অঝোর প্লাবন
কখনো প্রবল ধারায়
কখনো বা মুষলধারে।

অবুঝ শিশু যাচ্ছে পিছু
স্রোতের জলে ভেসে,
অকাল মৃত্যু হচ্ছে কতো
দেখার নেই তো শেষে।

ডুবছে জমি ডুবছে ফসল
পাই না পেটে ভাত,
দুঃখ দুর্দশা কখন যাবে
কাটবে ঝড়ের রাত।

ঈশ্বর তোমার লীলা খেলা
বোঝা অনেক দায়,
তোমার কাছে দু হাত তুলি
দাও না তুমি রায়।

গ্রামের শীত

চিকচিক করে ঘাসে
শিশির বিন্দু জল
হিমেল বাতাস আঘাত হানে
বৃক্ষ লতার পাতা ঝরে
এসেছে শীতের সকাল
হত দরিদ্র্যের বস্ত্রের আকাল
কনকনে ঠাণ্ডায় দম বুঝি যায়।

কাক ডাকা ভোরে উঠে
মাঠে জ্বালিয়ে দিয়ে অাগুন
প্রতিক্ষায় সবে বসে রই,
কুয়াশার ঘুমটা খুলে
পূব আকাশে লাল সূর্য
উঁকি মেরে দেবে সোনালি আলো।

চাদর মুড়ে উনুন ঘেঁষে
শীতের পিঠা পায়েশ মিলেমিশে
গাই সকলে শীতের গান।

ছাত্র, মার্কেটিং বিভাগ
অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ, সরকারি মুড়াপাড়া কলেজ
নারায়ণগঞ্জ।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সংরক্ষণাগার

Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta