মোহাম্মদ ইউসুফ এর ১০টি কবিতা | Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১০:১১মি:

সংবাদ শিরোনাম:
এবার ধর্ষক ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজ গ্রেফতার এমসি কলেজে গণধর্ষণ : আদালতে নববধূর লোমহর্ষক বর্ণনা ভালুকায় ট্রাক চাপায় শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে কাউখালী প্রেস ক্লাবের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষাবোর্ডের ৩ প্রস্তাব তারুণ্যের অগ্রযাত্রার উদ্যোগে ব্যতিক্রমভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন ঢাকা-৫ উপনির্বাচন প্রতীক পেলেন যারা শ্রীনগরে নানা আয়োজনে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন ঘিওরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে বৃক্ষ রোপন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন অপূর্ণ রাখা হবে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মোহাম্মদ ইউসুফ এর ১০টি কবিতা

মোহাম্মদ ইউসুফ এর ১০টি কবিতা

প্রকৃতির প্রেম

প্রকৃতির প্রেমে পড়েছি
আমি বারে বার,
জীবন থেকে হারিয়ে গেছে
যা ছিল হারাবার।

ভালোবাসবো গাছপালা
ভালোবাসবো পাখি,
নীল আকাশে মন ভরে
আমার দুটি আঁখি।

তুমি ছিলে নীরবতা
প্রকৃতি কোলাহল,
কিচিরমিচির গান শোনায়
চড়ুই পাখির দল।

Rudra Amin Books

কোকিল ডাকে কুহু কুহু
আরো বলে টিয়ে,
তারা নাকি বন্ধু হবে
ময়ূর নায়ে গিয়ে।

বাবুই পাখি বলে ডেকে
দেখো না কি আমায়?
কিসের এত সুখ চায়
চার দেয়ালের থানায়?

আসবে নাকি শুক্রবারে?
টুনটুনির বিয়ে,
গায়ে হলুদ দিবো সবাই
ঢাক ঢোল বাজিয়ে।

গেলাম তবে সন্ধ্যাবেলা
মজা হলো ভারী ,
টুনটুনির দাদি খুললো
বিরাট গল্পের ঝুড়ি।

একটুকরো জমি

আমার মাতা পিতা কে বা কারা
কোথায় তাদের বাস,
তাদের পরিচয় কেউ কি বলতে পারো ?

ইস্টিশনের দোকানিরা বলে –
কেউ একজন আমাকে ডাস্টবিনে ফেলে রেখে যায় !
আমার নাকি নিষিদ্ধ পল্লীতে জন্ম।

যাত্রীদের ফেলে দেওয়া খাবার খেয়েই
আমার বেঁচে থাকা,
এভাবে আর কতকাল বাঁচবো কেউ কি বলতে পারো ?

অনেক সময় স্টেশনে আসা যাত্রী –
আর বড় বড় স্যারদের ট্রলি টানার
কাজ করে দেই,
তারা খুশি হয়ে পাঁচ টাকা দিয়ে বলে
একদিন সুখী হবি বাবা।

আচ্ছা এই সুখটা আবার কি
সুখী হলে কি ঘুমানোর জন্য –
আমার নিজের এক টুকরো জমি হবে
কেউ কি বলতে পারো ?

স্টেশনের প্লাটফর্মে যখন ঘুমিয়ে থাকি
তখন একদল পকেটমার এসে –
আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে যায়,
তারা আমাকে অনেক মারে !
তাদের সাথে পকেট মারতে বলে !
তারা আমাকে চুরি করতে বলে !

স্টেশনে থাকতে হলে নাকি –
তাদের সাথে চুরি করতে হবে !
কেউ কি আমায় বলতে পারো,
আমার ঘুমানোর জন্য এক টুকরো জমি নেই কেন ?

কেউ কি বলতে পারো,
বলতে পারো, আমি কোথায় ঘুমাবো ?

ভাবতে ভাবতে একটা ট্রেন এসে ধাক্কা মেরে
বাচ্চাটাকে দুখণ্ডে খণ্ডিত করে দেয়।
তারপর স্টেশন কর্তৃপক্ষ
বাচ্চাটার দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করে।

ভালোই তো হল
বাচ্চাটা শান্তিতে ঘুমাবে,
তার নিজের জন্য এক টুকরো জমি হলো,
ভালোই তো হলো।

খুকির বন্ধু কাঠবিড়ালি

একদল কাঠবিড়ালি
কাঁঠাল বাগান জুড়ে,
ডালের উপর দৌঁড়ে বেড়ায়,
চুক চুক শব্দ করে।

কাঠি-কুঠির বাসা তাহার
ভেতরে আন্দারমহল,
খুকি যাবে সেই বাসাতে,
চাই না অন্য কোন মহল।

খুকি যাবে সেই বাসাতেই
ধরেছে যে বায়না,
সাজবে খুকি, বেড়াতে যাবে,
কিনে দিতে হবে আয়না !

খুকি নাচে, সঙ্গে দেখো
কাঠবিড়ালি নাচে !
বেড়াতে এসে সেই খুশিতে
খুকি নতুন সাজে।

শ্রমিকের অসুখ

আড়াই মন মাথায় নিয়ে
শ্রমিক ঘাম ঝরায়,
ঘাম শুকানোর দু মাস বাদে
মূল্য তাহার পায় !

অট্টালিকা গড়তে গিয়ে
শ্রম দিচ্ছে যারা –
তাদের ঘরে অনাহারী
দুঃখে জীবন ভরা !

ঘাম ঝরানো কষ্টে যাহার
তোমার মহাসুখ,
তবে কেন লেগে থাকে
শ্রমিকের অসুখ।

কাহার শ্রমে তুমি এতো
কামিয়েছে নাম।
মূল্য কি দিয়েছো ততো
যতো ঝরিয়েছো ঘাম ?

করোনা পরিস্থিতি

মানুষ সকল প্রানের ভয়ে হবে যে উধাও,
কখনো ভেবে দেখছো কি এমন করে –

রইবে কোথায় বাহাদুরি-
চলবে না আর ঘুরা-ঘুরি,
হিংস্র মানব শান্ত হবে!
অত্যাচারি ক্লান্ত হবে।

অনাহারীর মিছিল হবে !
মামলা – হামলা বন্ধ হবে,
ছোট্ট শিশু কাধে নিয়ে –
হাজার কিলো হাঁটতে হবে।

পাশের বাড়ি রোগী হলে
দেখতে যাওয়া দ্বন্দ্ব হবে,
বিশ্ববাসীর অর্থনীতির –
চাকা ঘোরা বন্ধ হবে ।

সমাজের শাসক

সমাজের শাসক আমি
মুখে পরেছি মুখোশ!
শতবার দোষ করেও বলি –
নেই কোনো দোষ, আমার নেই কোন দোষ !

সাধু সন্ন্যাসী আমি,
আমি মহাজ্ঞানী !
সমাজের মুখে কালো মুখ আমার
সোনার চেয়েও অধিক দামি।

নেতা সেজে বসে আছি
কিছু না জেনেও,
আমি সব জানি, আমি সব জানি ।

মিষ্টি কথায় মন ভুলিয়ে
মানুষকে দিয়ে ধোকা,
এই সমাজের শাসক আমি
দেখো মানুষ কত বোকা।

কবি বলে ডেকো

তুমি আমায় প্রথম বার
কবি বলেই ডেকো,
আমায় না হয় একটু খানি
মনের মাঝে রেখো।

তুমি ছাড়া পৃথিবীটা
শূন্য কেন বল ?
আমায় ছারা তুমি
একলা একা, কেমনে অগো চলো !

তুমি যেন শীতলপাটি
মোর কবিতার ছন্দ,
এক পলকেই প্রেম এসেছে
হয়েছি যে অন্ধ।

তোমার আমার হয় না দেখা
হয় না কথা বলা,
অনেক প্রহর এক সাথে
হয় না কেন চলা ?

তুমি ছাড়া জীবন আমার
শূন্য পথের পথিক,
দুজন মিলে হারিয়ে যাব
যে পথটা সঠিক ।

কবি বলে ডাকো যদি
মনটা ভরে যায়,
শত ব্যথা আর অতৃপ্তি
তৃপ্তিতে পূর্ণতা পায়।

তুমি আমায় প্রথমবার
কবি বলেই ডেকো
আমায় না হয় একটু খানি
মনের মাঝে রেখ ।

বিশুদ্ধ অক্সিজেন মা

মা ছাড়া পৃথিবীটা দুঃস্বপ্ন !
মা ছাড়া একাকীত্ব,
মা না থাকলে পৃথিবীটা বিষাদ।
মা ছাড়া অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রভাত।

অমূল্য সম্পদ মা,
রত্নের চেয়েও দামি
বিশুদ্ধ অক্সিজেন মা,
মা যে নয়নের মনি।

প্রেম হতে বন্ধুত্ব

আমার একটা প্রেম হয়েছিলো !
কদিন বাদে খুব সহজে
সে প্রেম এর, বিচ্ছেদও হয়েছিল ।

তারপর বহুদিন
একাকী নিঃসঙ্গ জীবন কাটিয়েছি !
শুধু শুধুই মনের ব্যথায়,
ছলনাময়ীর জন্য কেঁদেছি ।

আমার একটা মেয়ে বন্ধু ছিল,
আমার কষ্ট তার সহ্য হতো না ।
” আমার কষ্ট দূর করার জন্য
সে আমার সাথে কথা বলতে চাইতো “

আমরা ভেবেছি যদি আমাদের কথা হয় ।
কথা আমাদের হয়েছে,
সে ভেবেছে যদি তার দ্বারা
আমার কষ্টগুলো দূর হয়,
তাও কিছুটা দূর হয়েছে।

আমরা শুধু আমাদের বন্ধুত্বটা কেই
বড় করে দেখেছি,
কিন্তু, আমাদের কথা বলা দেখে
সবাই ভেবেছে , আমাদের মধ্যে যদি প্রেম হয় !
আমিও ভেবেছিলাম হয়তো একদিন তাই হবে।

তারপর একযুগ কেটে গেল,
আমাদের বন্ধুত্বটা, সেই বন্ধুত্বই রয়ে গেল।

হারালে তুমি কোথায়

হারিয়ে তুমি যাও নি কোথাও ,
ছিলে আমার মনের ভেতর
হয়তো তুমি ছিলে দূরে
না দেখা যায় এমন কোথাও !

তাই বলে কি মনটা আমার
ভুলেছে তোমায় ,
বুঝতে পারো না আমার বাক্য শুনে ?

মনটা আমার কয় যে কথা,
তোমায় নিয়ে সারা বেলা !
আসবে কি আজ আমার কাছে
নীরবতা কে জাগিয়ে দিতে ।

তুমিহীনা মনটা আমার যাচ্ছে মরে,
তাইতো শুধু চাই তোমায় আপন করে ।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সংরক্ষণাগার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta