ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যাশা-অপ্রাপ্তির ৪২ বছর | Nobobarta

আজ শুক্রবার, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:০৯মি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যাশা-অপ্রাপ্তির ৪২ বছর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যাশা-অপ্রাপ্তির ৪২ বছর

আদিল সরকার, ইবি : ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর। স্বাধীন দেশের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জন্ম নেয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। আগামীকাল রবিবার ৪২ বছরে পা ফেলতে যাচ্ছে দক্ষিণ-পশচিমাঞ্চলের এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠটি। প্রতিবছরই জমকালো আয়েজনে উদযাপিত হয় দিনটি। করোনার প্রভাবে এবার দিনটি স্বল্প পরিসরে উদযাপন করবে কতৃপক্ষ। দীর্ঘ ৪১ বছর শেষে সবার চোখ যেন প্রাপ্তির হিসেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির শৈশবটা সুখকর নয়। আশির দশকে যাত্রা শুরু করলেও একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮৫ সালে। এ সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি কুষ্টিয়া থেকে গাজীপুর বোর্ড বাজারে স্থানান্তর করা হয়। এসময় ২টি অনুষদের অধীনে ৪টি বিভাগে ৮ জন শিক্ষক ও ৩০০ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ১৯৯০ সালে ফের কুষ্টিয়া শহরে স্থানান্তরিত করা হয়। সর্বশেষ ১৯৯২ সালের ১ নভেম্বর কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ এই দুই জেলার শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুর এলাকায় স্থায়ী ঠিকানা হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির। মাটির সড়ক আর সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির বুকেই গড়ে তুলা হয় দুটি ভবন। বর্তমানে সেই মাটির সড়ক গুলো রুপ নিয়েছে পিচ ঢালা রাস্তায়। চলছে আগামীর দক্ষ জনবল গড়ে তুলার কার্যক্রম।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে আটটি অনুষদের অধীনে ৩৪টি বিভাগে অধ্যায়ন করছে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী। শিক্ষক অধ্যাপনা করছেন চারশতাধিকেরও বেশি। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে আবাসিক ক্যাম্পাস গড়ার প্রত্যয় থাকলেও চার দশকে সিকি ভাগ শিক্ষার্থীরও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত হয় নি। ছেলে ও মেয়েদের ৮টি আবাসিক হলে থাকতে পারছে মোট শিক্ষার্থীর এক-পঞ্চমাংশ। একইসাথে শিক্ষকদের জন্যও বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই পর্যাপ্ত আবাসিক ব্যবস্থা। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বৃহদাংশ ক্যাম্পাস থেকে যথাক্রমে ২২ ও ২৪ কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহরে থাকছে। যারফলে তৈরি হয়েছে পরিবহন নির্ভরতা। সেটাও এখন ব্যায় ও সংকটের রুপ নিয়েছে। কেননা বিশ^বিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে পর্যাপ্ত গাড়ি না থাকায় ভাড়াচালিত বাসে নির্ভর হতে হচ্ছে। ফলে কুষ্টিায়া ও ঝিনাইদহ জেলার বাস মালিকদের কাছ থেকে ৩২টি বাস ভাড়া করেছে কতৃপক্ষ। প্রতিদিনে এই ভাড়া চালিত বাসের জন্য গুণতে হচ্ছে ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৪৪০ টাকা। বিশ^বিদ্যালয়ের বাজেটের প্রায় ৮ শতাংশ পরিবনে ব্যায় করলেও কমছেনা ভোগান্তি। ৪১ বছর পূর্ণ করলেও আবাসন, পরিবহন সমস্যার দায় এড়িয়ে যেতে পারছে না কতৃপক্ষ।

এদিকে বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় উচ্চশিক্ষায় এখনো পিছিয়ে বিশ^বিদ্যালয়টি। বিদেশি স্কলার, জার্নাল, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমও নেই চোখে পড়ার মতো। তাছাড়া বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাণ হলো গবেষণা। বর্তমানে সেই গবেষণায় আলো জ¦লছে মিটমিট করে। যেন নিভে যাওয়ার উপক্রম। গবেষণা খাতে দেওয়াও হচ্ছে না পর্যাপ্ত বাজেটও। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৫৭ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। কিন্তু বাজেটে গবেষণা খাতে মাত্র ৮০ লক্ষ অর্থাৎ মোট বাজেটের ০.৫১ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছে কতৃপক্ষ। যা গবেষণার্থে প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত ও নগন্য বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষক-শিক্ষর্থীরা।

Rudra Amin Books

এদিকে অভিযোগ আছে অধিকাংশ শিক্ষকরা ক্লাসের চেয়ে মাঠে সময় বেশি দিয়ে হয়ে উঠছেন রাজনীতিবিদ। এ রাজনীতি গিয়ে ঠেকছে বিশ^বিদ্যালয়ের বড় বড় পদসমূহে। রাজনীতির মাঠে চক্ষুশূল হয়ে উঠছেন একে অপরের প্রতি। ফলে একই আদর্শের সংগঠনেও ভাগ হয়ে পড়ছেন তারা। যা দেখে হতবাক হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। আর তাদের মনে জন্মাচ্ছে জাতির কারিগরদের প্রতি এক অদৃশ্য ঘৃণা।

তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতেও চলছে অস্থিতিশীলতা। শাখ ছাত্রলীগের অন্ত:কোন্দলে ক্যাম্পাসে সংগঠনটির সংগঠিত কোন কার্যক্রম নেই বললেই চলে। এদিকে ১০ বছরের বেশি বুড়ো কমিটি দিয়ে চলছে শাখা ছাত্রদল। তবে ক্যাম্পাসে ঢুকে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে পারছেন না তারা। অন্যদিকে কর্মী সংকটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল বাম সংগঠনগুলোও চলছে খুড়ে খুড়ে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার চার দশক পার হলেও চালু হয়নি ইকসু (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ)। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনেও উল্লেখ নেই বিষয়টি। শিক্ষার্থীদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই যেকোন অধিকার আদায়ে হিমশিম খেতে হয় তাদের। তাই দ্রুত ইকসু গঠন করে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এদিকে চার দশকের বেশি সময় পার হলেও সমাবর্তন হয়েছে মাত্র ৪ বার। সর্বশেষ দীর্ঘ ১৬ বছর পর গত ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন সময়ে দেশের সর্ববৃহৎ সমাবর্তন হয়েছিল এটি। প্রাপ্তির চোখে আন্তর্জাতিকীকরণের পথে এই বিশ^বিদ্যালয়ে বর্তমানে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, সোমালিয়া, নাইজেরিয়াসহ ছয়টি দেশের প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আছেন। এদিকে এবছর মার্চের ২ তারিখ তুরস্কের ইগদির, কাফকাস ও চানকিরি কারাকিতিন বিশ্ববিদ্য্যালয়ের সাথে ইসলামী বিশবিদ্যালয়ের এক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী বিশবিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১১৪ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী গবেষনা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে আর্ন্তজাতিকীকরণে একধাপ এগিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের জুড়িতে যোগ হয়েছে অন্য মাত্রা। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে ৫৩৭ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্পের কাজ।

এ কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করলে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আবাসনে রুপদানসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ করা যাবে। তবে কবে নাগাদ এ মেগা প্রকল্প বাস্বতবায়ন হবে তাই দেখার বিষয়। তার পরেই মিলবে প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ।

আপনার মতামত লিখুন :


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সংরক্ষণাগার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta