ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে শোক-শ্রদ্ধায় বিদায় | Nobobarta

আজ শনিবার, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:০১মি:

সংবাদ শিরোনাম:
যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর নির্মান কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী দেবীগঞ্জে ৩ টি ইউনিটে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেশে করোনায় আরও ৩৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৮ মানিকগঞ্জে কলেজ ছাত্র জিসান খুন, গ্রেফতার ৫ টাঙ্গাইলে মানবাধিকার কর্মী ও এনজিও প্রতিনিধিদের ভুমিকা বিষয়ক মতবিনিময় সভা উদয় সমাজ কল্যান সংস্থা সিলেটর ১৩ তম ওয়াজ মাহফিল ১১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জের জয় ঘোষ আনন্দ টেলিভিশনের সেরা প্রতিবেদক নির্বাচিত ঘিওরে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে হেলথ এ্যাসিস্ট্যান্টদের কর্মবিরতি নওগাঁ মান্দার অধ্যক্ষ আলমগীর আর নেই ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ তৈরি করবে সরকার : নৌপ্রতিমন্ত্রী
ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে শোক-শ্রদ্ধায় বিদায়

ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে শোক-শ্রদ্ধায় বিদায়

প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের প্রিয় কর্মস্থল সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে শোক আর শ্রদ্ধায় শেষ বিদায় জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা। আজ শনিবার দুপুর ২টার পর এখানে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার পর তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ। এ সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও ব্যারিস্টার রফিকের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সুপ্রিম কোর্ট মসজিদের ইমাম আবু জাফরের ইমামতিতে জানাজায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আপিল বিভাগের বিচারপতি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ আইনজীবীরা অংশ নেন।

তার পরই ব্যারিস্টার রফিকের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে বনানী কবরস্থানের উদ্দেশে নেওয়া হয়। সেখানেই স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেলের বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন শোক প্রকাশ করেছেন। ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের প্রথম জানাজা সকাল সাড়ে ১০টায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর শেষবারের মতো নিজের প্রিয় আবাস রাজধানীর পুরানা পল্টনের ৪৭/১ নম্বরের ‘সুবর্ণ’তে নেওয়া হয় তাঁকে। বেলা সাড়ে ১১টায় লাশ বাসায় নেওয়া হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর নিকটজনেরা।

Rudra Amin Books

এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বায়তুল মোকাররমে। বাদ জোহর সেখানে ব্যারিস্টার রফিকের দ্বিতীয় জানাজা পড়ান বায়তুল মোকাররমের খতিব হাফেজ মুহিবুল্লাহ। সেখানে আত্মীয়স্বজন ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কয়েক দিন ধরে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক এই হাসপাতালে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। তার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আজ সকালে না ফেরার দেশে চলে যান এই প্রাজ্ঞ আইনজ্ঞ।

রফিক-উল হকের মৃত্যুতে আইন অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার মৃততে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। এ ছাড়া সিনিয়র আইনজীবীরাও গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা বলেন, আইন ও বিচারাঙ্গনে তার শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর দক্ষিণ কলকাতার চেতলা গ্রামে। গ্রামের হাই স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে চলে যান কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে। থাকতেন বেকার হোস্টেলে। ১৯৫৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, ১৯৫৭ সালে দর্শন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৫৮ সালে এলএলবি পাস করেন। ১৯৬২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে বার অ্যাট ল সম্পন্ন করেন। ১৯৬৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে এবং ১৯৭৩ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন। বর্ণাঢ্য জীবনে আইন পেশায় দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছর পার করেছেন।

বিগত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে আইনি লড়াই করেন তিনি। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় বরাবরই সোচ্চার ছিলেন রফিক-উল হক। দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি বিষয় নিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করেছেন বর্ষীয়ান এই আইনজীবী।

১৯৯০ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রফিক-উল হক। কিন্তু কোনো সম্মানী নেননি। পেশাগত জীবনে তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দল করেননি। তবে নানা সময়ে রাজনীতিবিদরা সব সময় তাকে পাশে পেয়েছেন। রাজনীতিবিদদের সম্মান সব সময়ই অর্জন করেছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সংরক্ষণাগার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta