ক্যাসিনোর ইতিহাস | Nobobarta

আজ বুধবার, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:২৮মি:

ক্যাসিনোর ইতিহাস

ক্যাসিনোর ইতিহাস

Casino History -Nobobarta

কখন কোথায় প্রথম ক্যাসিনোর প্রচল হয়েছিল এ নিয়ে সঠিক কোনও দিন তারিখ ইতিহাসে নেই। তবে ইতিহাসবেত্তারা মনে করেন, প্রাচীন কাল থেকেই মানুষের মধ্যে জুয়া বা বাজির প্রচলন ছিল। তাদের মতে, প্রায় দুই হাজার বছর আগে পৃথিবীতে জুয়া খেলার উত্থান হয়। শুরুতে জুয়ার আসরগুলো ছিল অনিয়ন্ত্রিত। সেখানে কিছু নিয়ম-কানুন জুড়ে দেয়ার অংশ হিসেবেই ক্যাসিনোর উৎপত্তি হয়। মূলত, জুয়া থেকে লভ্যাংশ ও শুল্ক নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এইসব ক্যাসিনো গড়ে তুলেছিলেন তখনকার শাসকেরা।

বিশ্বজুড়েই এখন ক্যাসিনোর রমরমা ব্যবসা। আমেরিকা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, নেপালসহ বর্তমান বিশ্বের বহু দেশেই টাকা উড়ানোর এই আসর চলছে বেপরোয়া গতিতে। এইসব ক্যাসিনোতে ধনকুবেরা আসেন মনোরঞ্জনের জন্য। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ১৬৩৮ সালে ইতালির বিখ্যাত ভেনিস শহরে সর্বপ্রথম রিডোট্ট নামে একটি ক্যাসিনো তৈরি করা হয়েছিলো। তৎকালীন বিজ্ঞজনদের পরামর্শে তৈরি করা ওই ক্যাসিনোর উদ্দেশ্য ছিলো কার্নিভাল সিজনে সচরাচর হওয়া জুয়া খেলাকে নিয়ন্ত্রণে আনা। এতে একটা সময় সামাজিক অবক্ষয় দেখা দিলে ১৭৭৪ সালে ভেনিসের সেই ক্যাসিনো বন্ধ করে দেয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস গবেষকদের দাবি, আমেরিকার নেভাদা রাজ্যে সর্বপ্রথম ক্যাসিনো গড়ে উঠেছিল। ক্যাসিনোটির নাম ছিল স্যালুন্স। পর্যকটদের বিনোদনের জন্য ১৯৩১ সালে সরকার অনুমোদিত ক্যাসিনো গড়ে উঠে দেশটিতে। বর্তমানে আমেরিকা তথা বিশ্বের সবচেয়ে বড় জুয়ার আসরটি বসে নেভাদার লাসভেগাসে। এই লাসভেগাসকে অনেকে ‘পাপের কিংবা বিয়ের শহর’ বলেও জানেন। যেখানে অবাধে চলে বহু অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

লাসভেগাসে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের বিশাল এলাকাজুড়ে নির্মিত এই ক্যাসিনোর গেমিং জোন। এটিই সিন সিটির সবচেয়ে বড় ক্যাসিনো ফ্লোর। এখানে প্রতিদিন ১৩৯টি টেবিলে পোকারসহ বিভিন্ন রকমের জুয়ার আসর বসে। আরও রয়েছে ভিডিও জুজু, প্রোগ্রেসিভ স্লট ও মাল্টি গেম মেমিনসহ জুয়া খেলার নানা উপকরণ। সারা পৃথিবী থেকে ধনকুবেররা আসেন এই ক্যাসিনোতে। এখানে ১ ডলার থেকে ১০০০ ডলার পর্যন্ত বাজি ধরা যায়। আবার কেউ কেউ ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত প্লে আউট করে থাকে। শুরুর দিকেই নেভাদার ক্যাসিনোতে জুয়ার পাশাপাশি আড্ডা ও মদ্যপানেরও ব্যবস্থা রাখা হয়। এছাড়াও স্যান ফ্রান্সিকো, নিউ অরলিন্স, সেন্ট লুইস ও শিকাগোর মতো শহরগুলোতে এখন ক্যাসিনোর রমরমা ব্যবসা।

Rudra Amin Books

ইউরোপ আমেরিকা হয়ে একটা সময় এশিয়ার দেশগুলোতেও ক্যাসিনোর প্রচলন শুরু হয়। নেপাল, ভারত, চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এমনকি বাংলাদেশেও এখন ক্যাসিনো-বাণিজ্য বেশ রমরমা। এরমধ্যে নেপালের কাঠমান্ডুতে যেসব ক্যাসিনো আছে সেগুলোর খ্যাতি ও পরিচিতি বিশ্বজোড়া। সেখানে বিদেশিরাও আসে কোটি কোটি টাকার এই খেলায় অংশ নিতে। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ধরেই চলে ক্যাসিনোগুলো। অনেকেই ক্যাসিনোগুলোতে আসেন বন্ধুবান্ধব ও পরিবার নিয়েও। রাতভর সেগুলোতে মদের নেশার পাশাপাশি চলে অবাধ রমণী সম্ভোগ।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীনের দ্যা ভ্যালেন্তিয়ান বিশ্বের বৃহৎ ক্যাসিনোগুলোর একটি। এছাড়াও এশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলগুলোতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্যাসিনো ব্যবসা এখন জমজমাট হয়ে উঠেছে। উপমহাদেশের ইতিহাসবিদদের মতে, ভারত উপমহাদেশেই পৃথিবীর প্রথম ক্যাসিনো স্থাপিত হয়েছিল। তখন উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত জুয়া খেলা হতো। এটিকে একটি নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসতে তখনকার সম্রাটদের ব্যবস্থাপনায় গড়ে উঠেছিল ক্যাসিনো।

এ বিষয়ে কিছু তথ্য-উপাত্ত উঠে এসেছে প্রাচীন ভারতীয় অর্থশাস্ত্রবিদ কাউতিলিয়ার লেখায়। তিনি ক্যাসিনোগুলো স্থাপনের কিছু কারণও তুলে ধরেছেন তার অর্থশাস্ত্র গ্রন্থে। তিনি তার লেখায় দেখিয়েছেন, ওই সময়কার সম্রাট বা শাসকেরা ক্যাসিনোগুলো থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ শুল্ক হিসেবে নিতো। অনেকেই এই ক্যাসিনোতে মজে নিঃস্ব বা সর্বস্বান্ত হয়ে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরতেন। তবে জুয়া খেলে কেউ যেন নিঃস্ব না হয় সেদিকটির প্রতিও নজর দিতেন সম্রাটেরা।

সম্প্রতি বাংলাদেশে ক্যাসিনো-বাণিজ্যের বিষয়টি সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। প্রথমত বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ। দ্বিতীয়ত ইসলামে জুয়া খেলা সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্যাসিনো-বিরোধী কঠোর নিদের্শে রাজধানীর বেশ কিছু ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব) ও পুলিশ। অভিযানে এরইমধ্যে সরকার দলীয় একাধিক নেতাকে আটক করা হয়েছে। পাওয়া গেছে কোটি কোটি টাকার ক্যাসিনো ব্যবসার খোঁজ। র‌্যাবের তথ্য মতে, বর্তমানে শুধু ঢাকা শহরেই ৫০টিও বেশি ক্যাসিনো আছে। যেগুলোর বেশিরভাগই নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এইসব জুয়ার ক্যাসিনোগুলোর কোথাও কোথাও জুয়ার পাশাপাশি মদ্যপান ও সুন্দরী নারীদের আনাগোনাও নজরে এসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সংরক্ষণাগার

Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta