একজন মানুষের গল্প | Nobobarta

আজ শনিবার, ০৬ Jun ২০২০, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

একজন মানুষের গল্প

একজন মানুষের গল্প

Rudra Amin Books

ইশরাত জেসি # একজন মানুষের গল্প বলবো আজ । চেনা জগতের অচেনা বিষ্ময়কর সৃজনশীল ক্ষমতা নিয়ে জন্মানো মিষ্টি হৃদয়ের এই মানুষটির নাম বলবার আগে- তার পরিচয় সম্পর্কে একটু বলি- ছড়াকার, গীতিকার, সুরকার, আবৃত্তিশিল্পী, আলোকচিত্রশিল্পী, নির্মাতা, ভিডিও সম্পাদক, এনিমেটর, প্রশিক্ষক, শিল্পী, ব্যবসায়ী  হিসেবে কাজ করেন তিনি । বহূমুখী পরিচয়ের মধ্যে সবচেয়ে ভালো লাগা আর সাধনার বস্তু মনে করেন- বড় মনের মানুষ হতে পারা। তিনি, আবদুল্লাহ-আল-মাসুম। সাহসী এবং ধৈর্য্যশীল। তীক্ষ্ণ আর সহনশীল ।

১৩/১৪ বছর বয়েসে ছড়া লেখা দিয়ে শুরু। শুরুটা শিশুসাহিত্য দিয়ে । প্রচুর লিখেছেন বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়। ছড়ার বই আছে বিন্দুর খোঁজ , খোলাচিঠি সহ  তিনটি ।  ফটোগ্রাফির ওপর একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী করেছেন ৪ টি । শেষ আলোকচিত্রপ্রদর্শনীটি হয় , চারুকলার শিল্পাচার্য্য জয়নুল আবেদীন গ্যালারিতে  সপ্তাহব্যপী ।  সাবেক একজন সেনাপ্রধাণ উদ্বোধন করেন সপ্তাহ ব্যপী এই প্রদর্শনী ।    নীরবে নিভৃতে কাজ করতে পছন্দ করেন বেশী  । প্রচারনায় যান কম ।তিনি       বিশ্বাস করেন – কাজগুলো আমাকে মানুষের হৃদয়ে অমরত্ব দেবে – অতি প্রচার আমাকে মানুষের ভালোবাসার বদলে – ঈর্ষা এনে দিতে পারে । আমি ভালোবাসার প্রচারক, ঈর্ষার লালক হতে চাই না ।

তাঁর লেখা প্রচুর গান জনপ্রিয়তা পেয়েছে । এর মধ্যে – বিল্পবের ইস্কা .টেক্কা ,  ( অ্যালবামের টাইটেল সং ০)  রবি চৌধুরীর এক আগুনে জ¦লছি,  মাইলসের – পথিক, আখি আলমগীর – সীমন্ত’র রংধনু সহ প্রচুর গানের গীতিকার তিনি । তাঁর লেখা, সুর ও নির্দেশনায় ৩০ জন তারকা শিল্পী নিয়ে দেশের গান –বাংলাদেশ গানটি ফিলার হিসেবে প্রচারিত হয়েছে ৭/৮ টি টিভি চ্যানেলে । এই গানটি দিয়ে উদ্বোধন হয়েছে ৪টি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল । এরকম অনেক ফিলার তারকাশিল্পী এবং নতুনদেও নিয়ে তৈরি করেছেন তিনি । শিশু শিক্ষাকে উতসাহিত করে- গান, যুদ্ধবিরোধী গান,  এরকম অনেক থিম নিয়ে কাজ করেছেন ।

বদরুল সাহেব সতলোক , তার লেখা কয়েকটি নাটক, টেলিফিল্মের একটি ।এই গল্পটি গড়ে ওঠছে একজন অসত সরকারী কর্মচারীর সত মানুষের রূপান্তর হবার গল্প নিয়ে।দৈবিক ভাবে তার হাত কথা বলা শুরু করে আর দুহাতে বিবেক গজায় -এরকম একটি গল্প নিয়ে ।ইউটিউবে অনেকেই উপভোগ করছেন – ৫৭ টি চরিত্রের ওপর নির্মিত এই টেলিফল্মিটি । এর নির্দেশক, লেখক, প্রযোজক, সম্পাদক, – আবদুল্লাহ-আল-মাসুম  । নতুুন কয়েকটি স্ক্রিপ্টের ওপর কাজ শুরু করবেন বলে – জানালেন ।

ব্যবসা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত আছেন তিনি । গার্মেন্ট ষ্টক এক্সপোর্ট করেন বিভিন্ন দেশের বায়ারদের সঙ্গে ব্যবসা করেন । একটি গ্রুপ অব কোম্পানি ড্রিম প্যারাডাউস গ্রুপ এর উপদেষ্টা , যে গ্রুপটি ৭০০ বিঘা জমি নিয়ে প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে – কেরানিগঞ্জ এ ।এবং ৫০ একর এর ওপর প্রতিষ্ঠিত অরুনিমা রিসোর্ট এর কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই মূহুর্তে সুন্দর কিছু কবিতার ভিডিও চিত্র নির্মান করছেন। তিনি বলেন-অনেক সময় পড়ে, কোনো কবিতা যদি মন কে দোলায়িত করে, আমি ভিডিও তৈরি করে আরো বেশী দর্শক, পাঠকের কাছে তা পৌঁছে দিতে চাই। বাংলাদেশের  প্রথম, কবিতা আবৃত্তি সম্পূর্ণ ভিডিও চিত্র নিয়ে বৈচিত্রপূর্ণ ভিডিও অ্যালবামের পরিকল্পক এবং নির্দেশক তিনি।

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, লেজার ভিশন থেকে তা বাজারে আসে-২০০২ সালের দিকে । গানর লিখতে, সুর করতে ভালোবাসেন। হৃদয় থেকে উতসারিত শব্দ সমূহ আর  সুর তার অন্তত্য প্রিয় অনুসঙ্গ। বেশ কিছু ছড়া, গল্প, কবিতার বই তৈরি হয়ে আছে -যেগুলো বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে একই বছর বাজারে আনবার পরিকল্পনা করছেন। ইউটিউবে আছে তাঁর গাওয়া, ছোট্ট স্বাধীন দ্বীপ গান টি সহ অনেক আবৃত্তি ও ভিডিও।

ছোট্ট স্বাধীন দ্বীপ গানটি নিয়ে কথা বলতে যেয়ে তিনি বলেন, আমি ১৫ বছর পর আমার গাওয়া দ্বিতীয় সলো গান রেকর্ড করলাম, কয়েকটি দেশে এর শুটিং করেছি। ব্যয়বহূল গানটি কয়েকটি টিভি চ্যানেলসহ অন লাইন প্লাটফর্মে, মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করছে। গানটিতে তিনি- ৭/৮ টি ভুমিকায় কাজ করেছেন একই সাথে। গানটি লিখেছেণ, সুর করেছেন, গেয়েছেন, সম্পাদনা, এনিমেশন, প্রয়োজনা, নির্মাতা হিসেবে কাজ করেছেন। গানটির কথা অত্যন্ত চমকপ্রদ হওয়াতে, এটি জনপ্রিয় হচ্ছে দ্রুত ।গানটি শুর্টি করা হয়েছে কয়েকটি দেশের লোকেশন এ।

মানুষের হৃদয়ে অমরত্বকে একমাত্র সাধনা ও জীবন পরিচালনার উদ্দেশ্য মনে করেন। নিজের সৃষ্টিশীল কাজের ভেতর বেঁচে থাকতে চান। পৃথিবীর সমস্ত কিছুৃর ওপর মূল্যায়ন করেন – হৃদয় থেকে , হৃদয়ের অতলান্ত থেকে আসা ভালোবাসা কে। একে -ঐশ্বরিক উপহার বলেও জ্ঞান করেন তিনি । মানুষের ভালোবাসা- সৃষ্টিকর্তা সবাইকে দেন না ।যারা পান- তারা আবার সম্পূর্ন সঠিক ভাবে এর ব্যবহার করতে ব্যর্থ্ হন। যে কোনো ব্যবসায় – ছয় বছরের ভালো অভিজ্ঞতা আছে – এমন ২০ জন সত ব্যবসায়িকে ২০১৯ সাল থেকে ব্যবসার জন্য ১০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার ইনভষ্টেমেন্ট দেবার পরিকল্পনা করছেন তিনি একটি ফাইন্যান্স কোম্পনির সহযোগীতায় -যার ইন্টেরেষ্ট হবে মাত্র ৪ পারসেন্ট।

 নিজের কবিতা গুলো নিজেই আবৃত্তি করেন। নির্মান করেন । কবিতা আবৃত্তি বিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান চালু করবার ইচ্ছে আছে। এ্যামাজিং নামে একটি অনুষ্ঠান এর উপস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন। নিজের নির্দেশনা আর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান মিডিয়া ষ্টেশন থেকে। স্পন্সর তৈরি , যে কোনো একটি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে। এখনো টিভি চ্যানেল নির্ধারিত হয় নি। ওমরাহ পালন করে এসেছেন কিছুদিন পূর্বে। একুট ট্র্যাভেল এজেন্সির ব্র্যান্ড এম্বাসেডর হিসেবে জড়িত আছেন।একসময় ট্র্যাভেল এজেন্সি চালিয়েছেন , সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছেন। তাঁর অনেক ছাত্র ছাত্রী কাজ করছেন- বিভিন্ন টিভি চ্যাণেলে এডিটর , ক্যামেরামান হিসেবে। নিজে হাতে গড়ে তুলেছেন তাদের। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভুমিকা রেখেছেন ।

বিবিসি’র সংবাদ পাঠক শারমিন আখি , এশিয়ান টিভি এর সংবাদ পাঠক তূর্যা রিযাউল সহ অনেক উপস্থাপক ,সংবাদ উপস্থাপক তার হাতে তৈরি ।
ছোট ভাই তারেক রাজা , বার এট ল’ করে ফিরেছেন . প্র্যাকটিস  করছেন। মজুমদার এসোসিয়েট এর সঙ্গে ।বেশ কিছু ব্যাংক এর লিগাল এডভাইজার হিসেবে মজুমদার এসোসিয়েট কাজ করে আসছে দীর্ঘদিন। একসময় তিনিও ছিলেন- গণমাধ্যমের একজন উজ¦ল তারকা । কাজ করেছেন ৮/৯ টি টিভি বিজ্ঞাপনে, তাঁরই অনুপ্রেরনায় ।

আবদল্লাহ আল-মাসুম একটি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল চালিয়েছেন ৬ মাস আর অন লাইনে তার ভার্শন চলছে ৬ বছর যাবত । সেটিকে – পূণরায় স্যাটেলাইট টিভির পর্দায় নিয়ে আসবার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন দীর্ঘদিন। মাননীয় প্রশানমন্ত্রীর আনুক’ল্য নিয়ে , খুব স্বল্প সময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ স্যাটালাইট টিভি চ্যানেল হিসেবে এটিকে খুবই অল্প সময়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষ দিকে তিনি নিয়ে আসতে পারবেন বলে- বিশ্বাস করেন। সরাকরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রগুলোও পেয়েছেন বিভিন্ন মন্ত্রনালয় থেকে । রামপুরা বনশীতে – ছ’তলা নিজস্ব বিল্ডীং এর কাজ শেষ দিকে। এখানে – টিভি চ্যানেল টির মূল অফিস স্থায়ীভাবে করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জনাব আবদুল্লাহ-আল-মাসুম, টিভি চ্যানেলটির প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক- বলেন- এই ইন্ডাষ্ট্রিতে টিভি চ্যানেলের সিগনাল চালাবার জন্য আমার কিছ’ বিশেষ প্রযুক্তিগত জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা রয়েছে- যা অত্যান্ত সহজে – প্রতিষ্ঠানটিকে আসলে জাদুর মতো দাড়াতে সাহায্য করবে । প্রতিষ্ঠানটিকে আমি অনেক দূর নিয়ে যেতে চাই আর মানুৃষের কল্যানে কাজে লাগাতে চাই ।সকলের উপদেশ, পরামর্শ এবং সহযোগীতা কামনা করি ।

এ পর্যন্ত বেশ কিছু পুরষ্কার তিনি পেয়েছেন। ছড়াকার, গীতিকার , নির্মাতা হিসেবে। আবদুল্লাহ আল মাসুম ইমপোর্ট বিজনেস এর থেকে এক্সপোর্ট বিজনেস পছন্দ করেন বেশী ।কারন- একটার মাধ্যমে টাকা বিদেশে যায় আর অন্যটির মাধ্যমে দেশে টাকা আসে ।  বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন- বাংলাদেশে এখন তিন কোটি বেকার । একটি দেশের সরকার একক ভাবে অর্থনীতিকে দাড় করানো অসম্ভব । বিনিয়োগকারীরা আরো নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান এ বিনিয়োগ করে – দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে সাহায্য করতে পারেন ।ব্যাংক এ হাজার হাজার কোটি টাকা অলস ফেলে রাখার থেকে কিছ’ অংশ , সাময়িকভাবে অলাভজনক হলেও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য বিনিয়োগ করা উচিত এবং এজন্য সকলকে আন্তরিক হতে – অনুরোধ জানান । সকলের প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর, স্বাবলস্বী বাংলাদেশ আমরা গড়বো – এই দৃঢ় প্রত্যয় বুকে নিয়ে আমাদের এগুতে হবে ।

গার্মেন্ট ষ্টক সেক্টরেও কিছু মানুষ কাজ করেন- যারা তার উতসাহে এই সেক্টরে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কিছ’ বিজনেস কনসালটেন্সি আর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করেন ।ভ্রমন প্রিয় শখ । এ পর্যন্ত ৮/৯ টি দেশ ভ্রমন করেছেন । ভ্রমনের ভেতর দিয়ে তৈরি করেছন ট্রাভেল শো’ ওয়ার্ল্ড ট্যুর । অনেকটা রথ দেখা , কলা বেচার মতো ।৭০ এপিসোড অনুষ্ঠান তৈরি রেখেছেন আর্কাইভে – নতুন একটি টিভি চ্যানেলের জন্য  । কিছু ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ডকুমেন্টারি , বিজ্ঞাপন চিত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত তার প্রতিষ্ঠান  মিডিয়া ষ্টেশন ।

ট্র্যাফিক জ্যাম-এ ,  বছরে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার তেল, গ্যাস অপচয় হচ্ছে – প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা একটি সহজতরো আইডিয়াকে কাজে লাগিয়ে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব । টাইম ম্যানেজমেন্ট সেগমেন্ট থিউরির উদ্বাভাবক আবদুল্লাহ – আল-মাসুম বিশ্বাস করেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করলে- তিনি পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে এটি স্বল্প সময়ের জন্য পরীক্ষামূলক ভাবে চালূ করে সুফল  পেলে- মানুষ – একটি বড় সমস্যা থেকে বাঁচবার পথ পেতো ।ট্রাফিক জামে আক্রান্ত দেশগুলোর জন্য , বাংলাদেশ হতে পারতো রোল মডেল ।

<

p dir=”ltr”>আবদুল্লাহ-আল-মাসুম বলেন-“আমি ক্ষুদ্র , সকলের ভালোবাসা আমাকে বানাবে সমুদ্র”। আমাদের সমাজে সাহসী মানুষের অভাব । স্বপ্নবান মানুষের বড় অভাব। অন্যের জন্য ভাববার মতো মানুষের অভাব। একটি মানুষ দিয়ে হয়তো অনেক অভাব পূরন হবে না। তবু, অনেক অন্ধকারে- একটু আলোর মতো এরকম মানুষেরা আমাদের জন্য, সকলের জন্য এগিয়ে যাবেন- এই শুভকামনা থাকবে সকল সময়।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta