করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন হোন, সাবধান থাকুন | Nobobarta

আজ রবিবার, ৩১ মে ২০২০, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন হোন, সাবধান থাকুন

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন হোন, সাবধান থাকুন

Rudra Amin Books

সফিউল্লাহ আনসারী : মানবতার চরম আতংক আর দুর্দিন চলছে বিশ্বজুড়ে একটি অচেনা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায়। এই ভাইরাসের কার্যকরি কোন প্রতিষেধক বা ঔষধ না থাকায় বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, বাড়ছে জনমনে উৎকন্ঠা-ভয়-ভীতি। ভীতির কারন একটাই আক্রান্ত হলে হয়তো রক্ষে নেই। তবে এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর চেয়ে অনেক অনেক গুন বেশী মানুষ সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন বলে সংবাদ মাধ্যম খবর প্রকাশ করছে।

প্রতিষেধক বা ঔষধে সরাসরি চিকিৎসা না থাকলেও সংবাদমাধ্যমে বিশ্ববাসী জানতে পারছে সচেতনতা ও কিছু নিয়ম মেনে চলাতে চিনসহ প্রায় দেশেই আক্রান্ত হওয়া থেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব হচ্ছে। জনসচেতনতায় অনেক এলাকা ভাইরাসমুক্ত রাখা যাচ্ছে, নয়তো আরও ব্যাপকতা দেখা দিত। তাই সকল দেশ তাদের নাগরিকদের করোনার হাত থেকে বাঁচাতে আপাতত কিছু নিয়ম ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলছে এবং জনগনকে মানতে বলছে। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা দিনরাত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন করোনা প্রতিরোধ ও প্রতিকারের প্রতিষেধক-ঔষধ আবিষ্কার করতে।

প্রতিষেধক-ঔষধ আবিষ্কারে সফলতার খবর মিডিয়াতে শোনাও যায় (এসব খবর কতোটা নির্ভরযোগ্য জানিনা) ‘সচেতন হোন, সাবধান থাকুন’- এটি শুধু একটি শ্লোগান নয় নিজে বাঁচতে অন্যদের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। কভিড১৯ বা করোনা ভাইরাস বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে এক আতংক, মহামারি তথা মানবজাতির জন্য চরম দুর্যোগময় ক্ষণ। গত বছরের ডিসেম্বরে চিনের উহান প্রদেশ থেকে এর বিস্তার হয়ে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর আক্রমন মানবজাতীর জন্য চরম আতংক আর মৃত্যুর ঝুঁকির অন্যতম কারন।

বেঁচে থাকার লড়াইয়ে মানুষ অনেক এগিয়েছে, কিন্তু অচেনা এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে মানুষ এই সময়ে অসহায়। ইতমধ্যে আমাদের অঞ্চল বাংলাদেশেও আতংকের বিষয় করোনা ভাইরাস নামক ব্যাধি ইতালি ফেরতদের মাধ্যমে প্রবেশ করেছে, যার কার্যকরি চিকিৎসা বা প্রতিষেধক এখনও পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা যায়নি। তাই ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই শ্রেয়’ যে বিষয়টি আমরা বই পুস্তকে পড়ে এসেছি তা কঠিনভাবে মানার সময় এসেছে। আতংকিত না হয়ে গুজবে কান না দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের দিক নির্দেশনা মোতাবেক সচতেন হয়ে সাবধানতা অবলম্ভন করা ফরজ।

‘ফরজ’ বলার কারন হিসেবে বলতে চাই, এই রোগ মহামারি আকার ধারন করলে উত্তরন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। আর আমরা বাঙালী জাতি অনেক সময় গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে গাফিলতি করে সময় ক্ষেপন করে বিপদে পরি আর গুজবে কান দিয়ে অযথা বিষয়ে ‘চিলে কান না নিলেও’ কানে হাত দেয়ার আগেই দৌড়াতে থাকি। আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ, সরকারি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিওগুলো করোনা প্রতিরোধ সচেতনতায় সার্বক্ষনিক কাজ করার পাশাপাশি মসজিদ-মাদরাসাগুলোতে সচেতনতার বিষয়গুলো ক্রমিক সংখ্যাতে জনগনের সামনে তুলে ধরে মানা ‘ফরজ’ শব্দটি ব্যবহার করলে বেশী কাজে দেবে। কারন দেশের মানুষ ধার্মিক। মসজিদ-মাদরাসার পাশাপাশি মন্দির-গীর্জা তথা উপসনালয়গুলোতে জোর দিয়ে মানুষকে সচেতন করা জরুরী। ইতমধ্যেই সরকারি ঘোষনা এসেছে- গণজমায়েত না করা, জনবহুল স্থানে না যাওয়া, তার সাথেসাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখাও জরুরী হয়ে পড়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে সচল রাখতে অনলাইন বা মোবাইলে প্রতিদিনকার রুটিনমাফিক ক্লাসের পড়া বাসায় বসে শিক্ষার ব্যাবস্থাও করা যেতে পারে। আর বিদেশ ফেরতদের ইতমধ্যেই কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এটি আরও আগে শুরু করলে হয়তে দেশে এই ভাইরাস প্রবেশ করতে পারতোনা বলা যায়। এখন থেকে অন্যান্য দেশের মতো সময়োপযোগী ব্যবস্থা নেয়া হোক, করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে লোক আসায় অনুৎসাহিত করা, এলেও স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি থাকার বিষয়ে উৎসাহি করা। মানুষের সাময়িক সমস্যা হলেও, কারন করোনা এখন বৈশ্বিক সমস্যা নিদিষ্ট কোন দেশ বা অঞ্চলের নয়।

স্বাস্থ্যবিধি মানতে প্রয়োজনে বাধ্য করতে হবে। এটি এমন এক রোগ যা একজন আক্রান্ত হলো আর সবাই বেঁচে যাবে তা নয়, তাই নিজে আক্রান্ত হয়ে নিজেকেই লুকিয়ে ফেলে চিকিৎসা নিতে হবে যাতে পরিবার তথা সমাজের কেউ আক্রান্ত না হয়। স্বাস্থ্যসেবা এ দেশে সব সময় সুবিধাভোগী ধান্ধাবাজদের দখলে ছিলো, এরা মানবসেবাকে ব্যবসা মনে করে, এরা মানুষকে টার্গেট করে অবৈধ মুনাফাখোর। করোনা দেশে আসার আগেই মাস্কের দাম কয়েকগুন, স্যানিটাইজেশন গুদামজাত করে খুচরো বাজার শূণ্য করে রেখেছে । অভিযান করার পর আরও বেশী ক্রাইসিস দেখা দিয়েছে (বিষয়টি নিয়মিত গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার)। সরকার একা পারবে না। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্টান ও ঔষধ ব্যবসায়ীদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে মানবিকতার প্রয়োজনে বিবেকের তাড়নায়। নইলে প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রীর অপ্রতুলতা ও বেশী মূল্যের কারনে করোনা প্রতিরোধ অসম্ভব হয়ে পরবে। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্টার ঔষধ ব্যবসায়ীদের প্রতি উদাত্ত আহবান রাখতে চাই- বছরজুড়ে তো ব্যবসা করলেন এবার না হয় মানবতার পাশে দাড়ান মহামারি মোকাবিলা করে জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। এই কঠিন দুর্যোগময় মূহুর্তে আমাদের দেশে কাজ করা এনজিও, স্বেচ্ছাসেবি-মানবিক সংগঠন (যারা সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করেন, এই মূহুর্তে সেই সব প্রজক্ট থেকে স্বাস্থ্যসেবা, মাস্ক, স্যানিটাইজেন সামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করলে বেশী উপকার হবে। ও ধনবান যারা বিভিন্ন সময় অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে সহযোগীতার হাত প্রসারিত করেন তারা সরকারের পাশাপাশি তহবিল গঠন করে করোনা মোকাবিলায় সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাড়াবেন এই প্রত্যাশা আজ সর্বসাধারনের।

সবশেষ- কথা নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পাশের জনকে সুরক্ষা দিতে করমর্দন, কোলাকুলি, অপরিচ্ছন্ন থাকা থেকে বিরত থাকুন, বারবার হাত পরিষ্কার করুন, বিদেশ ফেরতদের সঙ্গ এড়িয়ে চলুন সে যতোই কাছের হোক, তাদেরকে দুর থেকে বাড়িতেই অবস্থান করতে বলুন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন আর ‘আতংকিত না হয়ে বেশী সচেতন হোন, সাবধান হোন’। করোনা মোকাবিলার এই কঠিন যুদ্ধে নিজেকে সম্পৃক্ত করুন। যাতে আমাদের ছোট্ট এই দেশটি, দেশের মানুষগুলো সুস্থ থাকে, ভালো থাকে, করোনার মতো মহামারি থেকে রক্ষা পায়। আমার আপনার সচেতনতাই করোনা বিস্তার রোধে সবচেয়ে কার্যকরি ভুমিকা রাখতে পারে। আবারও বলি- সচেতন হোন নিজে বাঁচুন, অন্যকে বাঁচার পরিবেশ তৈরী করতে সাহায্য করুন, আগামীর বিশ্বকে, আগামী প্রজন্মকে সুস্থ-সুন্দর পৃথীবি উপহার দিন। এই দুর্যোগের কঠিন মূহুর্তে আমাদের, জনসাধারন আক্রান্ত আগেই ‘আতংক নয় সচেতন হোন, সাবধান থাকুন’ শ্লোগানটি গুরুত্ব সহকারে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। দেশে আর যাতে কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয় সেই প্রত্যাশা আজ সকল মানুষের এবং খুব দ্রতই প্রতিষেধক-ঔষধ আবিষ্কার হবে সে আশায় বিশ্ববাসী। (শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখাও জরুরী হয়ে পরায় ১৭মার্চ থেকে ৩১মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষনা করেছে সরকার)

সফিউল্লাহ আনসারী
সংবাদকর্মী-স্বেচ্ছাসেবী


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta