সংবাদকর্মীদের কথাও ভাবুন | Nobobarta

আজ শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ০৩:১০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
সংবাদকর্মীদের কথাও ভাবুন
-সফিউল্লাহ আনসারী-

সংবাদকর্মীদের কথাও ভাবুন

Rudra Amin Books

সংবাদপত্রের কথা ভাবলে, জনগনের কথা ভাবলে সংবাদকর্মীদের কথাও ভাবুন! শুনতে একটু অন্য রকম লাগছে তাইতো? অথচ বাস্তবতাটা খুব কঠিন। বিশেষ করে এই দুর্যোগময় করোনা ভাইরাস সংক্রমনের দিনগুলিতে। রাষ্ট্রের অন্যসব নাগরিকদের মতো সংবাদকর্মীরাও সমাজের একজন তাই তাদের কথা গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে।

সাংবাদিকতা একটা পেশা এবং প্রাচিন পেশাও যা বর্তমান সময়ে অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সংবাদপত্র শিল্পে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে, ডিজিটালের ছিটেফোটা সংবাদকর্মীর কাজে-কর্মেও লেগেছে কিন্তু তাদের ভাগ্য বদলের সম্ভাবনাটা আজও সর্বস্তরে পৌঁছুইনি যদি বলি ভুল হবেনা। এই আধুনিক যুগেও (অফিস স্টাফ বাদে) সংবাদ কর্মীদের বেতনের বিষয়টি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ, ফাইলবন্ধী।

করোনা মোকাবিলায় সময়ের সহযোদ্ধা, বিশেষ করে মফস্বল সংবাদকর্মীদের কথা যদি বলি। যারা এক আর্থে খেটে খাওয়া মানুষের কাতারে যেহেতু তাদের নির্দিষ্ট কোন বেতন-ভাতাদি নেই ( মফস্বলে- দু‘একটা মিডিয়া ছাড়া, সেটাও যৎসামান্য)। একজন সংবাদকর্মী অন্যান্য পেশার মতোই তারাও শ্রমিক। মফস্বল সাংবাদিকের নির্দিষ্ট অফিস না থাকলেও তার পুরো কর্ম এলাকাই তার অফিস। ভাবতে অবাক লাগে- যেখানে ঘটনা সেখানেই তাকে যেতে হয়, যথা সময়ে সংবাদ প্রেরন করতে হয়, মোবাইল লাগে, লেপটপ লাগে, মডেম লাগে, নেট খরচ লাগে, মোটর বাইক লাগে, তেলখরচ লাগে, নিজের পেটের কথা ভাবতে হয়, সংসার আছে অথচ তার নেই কোন মাসিক বেতন-ভাতা! এই আধুনিক যুগে এসব ভাবা যায়?

সংবাদ সংগ্রহে পকেট থেকে অর্থ খরচ করে এরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সারাদেশে সারাক্ষন শ্রম দিয়ে যাচ্ছে দেশ ও মানুষ তথা জাতীর কল্যাণে। এরা গতরখাটা শ্রমিকও, অথচ তাদের কথা কেউ খুব এবটা ভাবে না বিশেষ করে করোনা আতংকের এই সময়ে। এই দূর্যোগময় মূহুর্তে সরকার, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, দানবির, অর্থবিত্তের মালিক ও জনপ্রতিনিধিরা খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাড়াচ্ছেন। ভাবছেন দেশের সর্বসাধারনের কথা, শ্রমজীবদিরে কথা, প্রশ্নটা থেকেই যায় তাহলে সংবাদকর্মীরা কি দেশের সর্বসাধারনের আর শ্রমজীবিদের মধ্যে পড়েনা? যদি সেটা হয়েই থাকে তবে কেনা তাদের কথা ভাবছেন না? নাকি সাবাদিকরা সমাজের, এদেশের, কোন পরিবারের-সমাজের, কোন নির্বাচনি এলাকার ভোটার না? তাহলে তাদের থামতে বলুন, বলবেন- আপনারা বললে তারা থামবেনা। তাহলে কি হলো সাংবাদিকরা দায়িত্বপরয়ান, সমাজের সুখদ:ুখের কথাগুলো ‘সমাজের দর্পনখ্যাত’ মাধ্যমে তুলে ধরবেই।
একজন সংবাদকর্মী দেশের কথা দেশের মানুষের কথা, সমস্যা-সম্ভাবনার কথা, তার চারপাশে নিত্যঘটে যাওয়া খবর লিখতে লিখতেই হাঁপিয়ে উঠেন। নিজের সমস্যা-সম্ভাবনাগুলো অগোচরেই রয়ে যায়। হয়তো মফস্বল সাংবাদিক পেশাটাকে নেশা এবং চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছেন নয়তো নিজের কষ্টের বিষয়টা সয়েই চলেছেন যে।

মানবিকতার স্বাক্ষর তো আপনারা রেখেই চলেছেন এবার এসব খেটে খাওয়া সুবিধা বঞ্চিত বিনা বেতনের শ্রমিকদের পাশে একটু দাড়ান, তাদের কাজের গতি সচল রাখতে এগিয়ে আসুন, তাদেরকে কাছে টানুন সমস্যার কথা শুনুন আর তাদের ন্যায্য দাবি শ্রমের মূল্য এবার বুঝিয়ে দিন। সংবাদকর্মীরা ভালো থাকলে পুরো জাতি ভালো থাকার অনুপ্রেরণা পাবে, সাহস পাবে এই সময়ের সবচেয়ে বড় দূর্যোগ করোনা সতেনতায়।
শ্রমের উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিন এদের সংসার নিয়ে বাঁচতে সহায়ক ভুমিকা পালন করুন। এরা সুস্থ থাকলে, বেঁচে থাকলে, বাঁচবে সংবাদপত্র শিল্প, তাই বলছি স্ব স্ব মিডিয়া মালিকগন সংবাদকর্মীদের কাজের মূলায়ন করুন। প্রেস ইনিস্টিটিউট বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের প্রশিক্ষনসহ নানাবিধ পরিকল্পনা, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করার কাজ করছেন। মাঠে খোঁজ নিয়েছেন সংবাদকর্মীরা কেমন আছেন? তথ্য মন্ত্রনায়ের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই সংবাদকর্মীদের বিষয়ে নতুন করে ভাবুন, তাদের বেতন-ভাতার ব্যাবস্থা করুন। প্রয়োজনে এই দূর্যোগময় সময়ে একটা ফান্ড তৈরী করে সংবাদকর্মীদের প্রতি মানবিকতার হাত বাড়িয়ে তাদের বাঁচান।

সচেতনতা বাড়াতে সাবধান করতে দেশবাসীকে সুস্থ রাখতে ডাক্তারদের ভুমিকা মানবিক এবং অপরিসমী, তাদের পাশে যারা এ কাজটিকে সার্বক্ষনিক প্রচার করছেন তারা সংবাদকর্মী তাই চিকিৎসকদের সুরক্ষার পাশাপাশি সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মিডিয়া, প্রেস ইনস্টিটিটিউট, তথ্যমন্ত্রনালয় গভীর ভাবে শীঘ্রই ভাবুন। ইতমধ্যেই বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাই সংবাদকর্মীদের পিপিই সহজলভ্য করুন, ফ্রিতে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। এই দূর্যোগময় মূহুর্তে তাদের কথাও গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে, কারন তারা সংবাদ সংগ্রহের সময় নানা শ্রেনী-পেশার মানুষের সংস্পর্শে আসছেন। মারনব্যাধি করোনা ভাইরাসে তারা আক্রান্ত না হয় সেজন্য তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি অতীব জরুরী।

সংবাদ পত্রকে সংবিধানের চতুর্থ স্তম্ভ। অথচ এই শিল্পের/ মাধ্যমের কর্মীরা সামান্য রুটি-রুজির জন্যঅপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোন কোন ক্ষেত্রে অসহায় দিনাতিপাত করছেন, এটা ভাবা যায়? তাই জোর দিয়ে বলবো অন্য পেশার খেটে খাওয়া মানুষের মতো এ সময়ে সংবাদকর্মী তথা গণমাধ্যকমীরা বেশীরভাগ ইনকাম শূণ্য, তাদের পকেট ফাঁকা, তাই দয়া করে তাদের কথাও ভাবুন। তাদের অধীকার বঞ্চিত করবেননা। সংকটময় মূহুর্তে সংবাদকর্মীদের পাশে সরকার ও সংশ্লিষ্টরা পাশে দাড়াবেন এই প্রত্যাশা আজ প্রত্যেক গণমাধ্যমকর্মী ও সংবাদকর্মীর।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta