মাস্কে বাড়ে করোনার ঝুঁকি | Nobobarta

আজ শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ০৩:২০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
মাস্কে বাড়ে করোনার ঝুঁকি

মাস্কে বাড়ে করোনার ঝুঁকি

Rudra Amin Books

আমিনুল ইসলাম রুদ্র : বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সেই সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সবাই মাস্ক কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। এমতাবস্থায় বিভিন্ন দেশে মাস্কের সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সুপার মার্কেটগুলোয় মাস্ক নেই, এমন প্ল্যাকার্ডও দেখা গেছে। এরপরই প্রশ্ন উঠেছে, মাস্ক কি প্রকৃতপক্ষে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে?

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাস্ক পরলে সংক্রমণ থেকে বাঁচার চেয়ে সংক্রমিত হওয়ারই আশঙ্কা বেশি। ফেস মাস্ক পরিধান করলেই আপনি করোনায় আক্রান্ত হবেন না এমন কোনও গ্যারান্টি নেই। ভাইরাসগুলি অতিক্ষুদ্র হওয়ায় মাস্কের ভেতর দিয়েও শরীরে প্রবেশ করতে পারে। চোখ কিংবা অন্যন্য অঙ্গ থেকে হাতের সাহায্যে এটা দেহের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। তবে মাস্ক পরিধান করলে এটা প্রতিরোধে কিছুটা সহায়ক হতে পারে বটে তবে মাস্ক ব্যবহারেও কিছু সর্তকতা আছে যা মেনে চলতে হবে তবুও আপনি নিশ্চিত নন।

ইন্ডিয়া টাইমস এনিয়ে ডঃ রমিল টিকো (ইন্টারনাল মেডিসিন, ম্যাক্স হাসপাতাল) এবং ডঃ তরুন সাহনীর ( জেনারেল ফিজিশিয়ান, ইন্টারনাল মেডিসিন, ইন্দ্রপ্রস্থ ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতাল) সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের প্রশ্ন করা হয়েছিল,সার্জিক্যাল মাস্ক কি দুই অংশে ব্যবহার করা যায় এবং হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়া বার্তা কি সত্য? এমন প্রশ্নের জবাবে তরুন সাহনী বলেছেন, এটা একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক। সার্জিক্যাল মাস্ক শুধু রঙ্গিন অংশ বাইরে রেখে এবং সাদা অংশ ভেতরে রেখে পরিধান করতে হবে। এছাড়া তিনি আরও বলেছেন, সাদা অংশ বাইরে রেখে সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার শুধু অকার্যকর নয় এমন করে ব্যবহার অস্বস্তিদায়কও।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যানডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিভাগের মেডিসিনের অধ্যাপক ডা. উইলিয়াম স্ক্যাফনার বলেছেন, সহজাতভাবেই মানুষ মনে করে, তার নাক ও মুখ স্কার্ফ বা মাস্ক দিয়ে ঢেকে রাখলে চারপাশে ঘুরতে থাকা এসব ভাইরাস থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি মিলবে; কিন্তু শ্বাসযন্ত্রের সম্পর্কিত রোগ যেমন, ফ্লু এবং কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নয়।

যদি তাই হতো তাহলে সিডিসি বহু বছর আগেই এমন পরামর্শ দিতো। কিন্তু তারা এমনটি করেনি। কারণ, তারা বিজ্ঞানভিত্তিক সুপারিশ করে থাকে। সিডিসি বলছে, সংক্রমণ ঘটাতে পারে এমন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা যেগুলো বাতাসে ঘুরে বেড়ায় তা সার্জিক্যাল মাস্ক পরলেও আটকানো সম্ভব না। এমনকি এসব মাস্ক চেহারার চারপাশে স্নাগসিলও তৈরি করে না। করোনা ভাইরাস সংক্রম থেকে রেহাই পেতে গবেষকরা যখন মাস্ক ব্যবহার ও কিছু নিয়ম কানুন পালনের কথা বলছেন৷ তখন একদল মার্কিন বিজ্ঞানী বলছেন উল্টো কথা৷ তাদের মতে, মাস্ক ব্যবহার করলেই নাকি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি৷

একটি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত নন, এমন ব্যক্তি যদি মাস্ক পরেন তবে তার সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়৷ কারণ, মাস্ক পরার পর হাঁচি-কাশি হলে জীবাণু ভিতরেই থেকে যায়৷ তাই ওই মার্কিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অসুস্থ হলে তবেই মাস্ক পরুন, অন্যথা নয়৷ তবে হাত ধোওয়ার মতো সতর্কতা অবলম্বন করতে বলছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিসিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC)৷

এমনকি স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে এন৯৫ রেসপিরেটরস মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেয় না সিডিসি। এরই মধ্যে মাস্ক কেনা বন্ধে মানুষজনকে আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সার্জন জেনারেল ডা. জেরোমি অ্যাডামসও মাস্ক কেনা বন্ধ করতে মানুষজনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এসব মাস্ক সাধারণ মানুষের করোনায় সংক্রমিত হওয়া ঠেকাতে পারবে না। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার সময় মাস্ক না পরলে, তারা এবং আমাদের কমিউনিটি ঝুঁকিতে পড়বে।

ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. অ্যাডামস বলেন, এমনকি মাস্ক পরলে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তিনি বলেন, যারা সঠিকভাবে মাস্ক পরতে পারে না তাদের মুখে হাত দেয়ার প্রবণতা বেশি এবং এর কারণে করোনা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই ভাইরাস প্রতিরোধে একাধিক বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন হাত মুখ পরিষ্কার রাখতে। প্রয়োজন পড়লে স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। পাশাপাশি জানাচ্ছেন রাস্তাতে বেরোলে মাস্ক ব্যবহার করতে।


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.






Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta