মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নিজামের মিষ্টি | Nobobarta

ঢাকা   আজ সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নিজামের মিষ্টি

মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নিজামের মিষ্টি

Rudra Amin Books

মিষ্টি শব্দটা শুনতেই বাঙালির জিভে এক ধরনের মিষ্টির স্বাদ অনুভব হয়, আর সেই মিষ্টি যদি স্বাদ ও গুণগত মানে সেরা হয় তাহলে এক কথায় বলতে গেলে বাঙালি তার স্বাদের প্রেমে পড়ে যায়। যে প্রেমের বিচ্ছেদ সহজেই ঘটে না। ঠিক তেমনি মিষ্টি হচ্ছে মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওরের নিজামের মিষ্টি। যার স্বাদ ও গুণগতমান অনন্য। নিজামের মিষ্টি শুধু দেশেই নয় , বিদেশেও ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করছে। ইতোমধ্যে সৌদি, কুয়েত, কাতার ও মালেশিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে নিজামের মিষ্টি। দেশের বিভিন্ন স্থানে জামাই আদর,বিবাহ জন্মদিনের অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায় একশ বছরে ধরে তেরশ্রী নিজামের মিষ্টি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

মিষ্টির পাশাপাশি দধি ও ঘি খ্যাতি রয়েছে। গ্রাম বাংলার অনুষ্ঠান গুলোতে অতিথিদের আর্পায়ন করতে মিষ্টির বিকল্প নেই। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মিষ্টি কেনার জন্য বহু লোকজন তেরশ্রী নিজামের দোকানে আসেন। তবে বৃহস্পতীবার ও শুক্রবার বেশি লোকজন মিষ্টি কেনার জন্য আসে। নিজামের মিষ্টির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই মিষ্টি ১৫ দিনেও নষ্ট হয়না। চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে অধিক মুনাফার কথা না ভেবে গুনগত মান ও সুনামকে ধরে রাখতে ঘিওরের তেরশ্রী নিজামের মিষ্টি ঐতিহ্য রয়েছে সারা দেশ ব্যাপি।

মিষ্টির ইতিহাস : মানিকগঞ্জ জেলার মধ্যে ইতিহাস ঐতিহ্য শিক্ষা সংস্কৃতির এক বৈচিত্র্যময় গুণের সমন্বয়ে গঠিত তেরশ্রী গ্রাম। এই গ্রামেই সর্বপ্রথম ৮০ দশকে তৈরি হয় নিজামের মিষ্টি। এই মিষ্টি প্রস্ততকারী ব্যক্তির নাম নিজাম, তার নাম অনুসারেই এটি সর্বত্র নিজামের মিষ্টি নামেই পরিচিত। নিজাম বেশিদূর পর্যন্ত লেখা পড়া করতে পারেননি, জীবিকার তাগিদে তেরশ্রী বাজারে তিনি চায়ের দোকান শুরু করেন। তেরশ্রী বাজারে ওই সময়ে মিষ্টির দোকান ছিল না। নিজাম তেরশ্রী বাজারে মিষ্টির দোকানের অভাব অনুভব করতে লাগলেন। তিনি তার চায়ের দোকানের পাশাপাশি মিষ্টি বানানো শুরু করলেন।

বাজারে মিষ্টির দোকানটি ভালোই চলতে লাগল আর নিজামেরও মোটামুটি টাকা-পয়সাও আয় হচ্ছিল। একদিনের একটি ঘটনাই নিজামকে আজকের সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে গেছে। নিজাম প্রতিদিন অনেক পরিমাণ দুধ জ্বাল করতেন চা তৈরির জন্য। একদিন তার দোকানে লোকজনের আনাগোনা ছিলই না, এর ফলে তার দোকানে অনেক পরিমাণ দুধ বেঁচে গেল, এতে চিন্তিত হয়ে গেলেন এত পরিমাণ দুধ তিনি কী করবেন এবং কোন কাজে ব্যবহার করবেন, উপায় না পেয়ে সেদিন তিনি সব দুধ জ্বাল করে শুকিয়ে দুধের সর বানান তারপর সেগুলো হাত দিয়ে গুঁড়া করেন, সেই দুধের গুঁড়ায় হালকা পরিমাণে চিনি দেন তারপর তাতে বিস্কুটের গুঁড়া মিশিয়ে , মিষ্টির উপরে প্রলেপ দিয়ে দুধের গুঁড়া কাজে লাগান। তার সেদিনের সেই দুধের গুঁড়ার প্রলেপ দেওয়া মিষ্টিই আজকের ঐতিহ্যবাহী নিজামের মাওয়া মিষ্টি।

এখন বয়সের ভারে তিনি আগের মত চলাফেরা ও কাজকর্ম করতে পারেনা। স্মৃতি শক্তি লোপ পেয়েছে। অসুখ বিসুখ শরীরে বাসা বেঁধেছে। তাই ছেলে সাইফুল বতর্মানে বাবার পেশা বেছে নিয়েছে। সাইফুল প্রায় ১৮ বছর যাবৎ বাবার মিষ্টির দোকানে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। তিনি বলেন, আমার বাবা বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি তৈরি করতেন। তার কাছ থেকেই আমার মিষ্টি তৈরি করা শিখেছি। তিনি আমার ওস্তাদ। তবে আমার বাবা সততা, নিষ্টা ও পরিশ্রম করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। জীবনে কোন দিন মিথ্যা কথা বলেনি। অনেক কষ্ট দুঃখ করে তিনি আজকে ব্যবসাটি প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বংশ পরস্পরতায় দীর্ঘ ৫০ বছর যাবৎ সুনামের সাথে এ ব্যবসা পরিচালনা করেন। বর্তমানে ১২জন কারিগর নিয়ে তেরশ্রী, সিংজুরি, কুষ্টিয়া বাজার থেকে ভোর বেলা প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ মন দুধ কিনতে হয়। ১২টার পরে দুধ এবং চিনি জালিয়ে মাওয়া তৈরি করা হয়। তবে দুধ থেকে কোন ক্রীম বের করা হয়না। খাঁটি দুধ থেকেই সকল প্রকার মিষ্টি তৈরি করা হয়। বাবা সৎ ব্যবসায়ী ছিলেন। কাজেই খাবারের দ্রব্য সাগ্রীতে কোন ধরনের মেডিসিন ব্যবহার করতেন না ।

তৈরি করা উপকরণ : গরুর দুধকে দীর্ঘক্ষণ জ্বাল করে দুধের গুঁড়া তৈরি করা হয়। তারপর দুধের ছানা, ময়দা, সাথে মিশিয়ে চিনির শিরায় জ্বাল দেওয়ার পর ঠাণ্ডা হলে মিষ্টির গায়ে দুধের গুঁড়ার প্রলেপ দেওয়া হয়, যা মাওয়া মিষ্টি। দুধের শিরায় জ্বাল দিয়ে আবার দুধের মাঝে ভিজিয়ে রাখা হয়- এর নাম মালাই চপ, ছানা দিয়ে বিশেষ ভাবে তৈরি করা হয়, আফলাতুন ছানা ও সন্দেশ। মিষ্টির ছানা দিয়ে শুকনো ভাবে তৈরি করা হয় শাহী চমচম।

স্বাদ : নিজামের মিষ্টির স্বাদ এক কথায় অনন্য এবং অতুলনীয়। যার স্বাদ আপনার দীর্ঘদিন পর্যন্ত মনে থাকবে। নিজামের মিষ্টির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই মিষ্টি ১৫ দিনেও নষ্ট হয়না।


Leave a Reply

নববার্তা ফেসবুক পেজে আলোচিত সংবাদ

১৪ দলের নতুন মুখপাত্র প্রত্যাশা ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীর১৪ দলের নতুন মুখপাত্র প্রত্যাশা ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীর3K Total Shares
রেড জোনের আওতায় মানিকগঞ্জ জেলারেড জোনের আওতায় মানিকগঞ্জ জেলা2K Total Shares
ঘিওর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইরিন আক্তারসহ  করোনায় আক্রান্ত ১০ঘিওর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইরিন আক্তারসহ করোনায় আক্রান্ত ১০2K Total Shares
ঘিওর উপজেলাবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন অধ্যক্ষ হাবিবঘিওর উপজেলাবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন অধ্যক্ষ হাবিব2K Total Shares
ঘিওরের ইউএনও আইরিন আক্তারের করোনা জয়ের গল্পঘিওরের ইউএনও আইরিন আক্তারের করোনা জয়ের গল্প1K Total Shares
মানিকগঞ্জে বিএনপির অসহায় নেতাকর্মীদের মাঝে তারেক রহমানের ঈদ উপহার তুলে দিলেন – এস এ জিন্নাহ কবিরমানিকগঞ্জে বিএনপির অসহায় নেতাকর্মীদের মাঝে তারেক রহমানের ঈদ উপহার তুলে দিলেন – এস এ জিন্নাহ কবির1K Total Shares
ব্রীজ ভেঙে ভোগান্তিতে হিজুলিয়া গ্রামবাসীব্রীজ ভেঙে ভোগান্তিতে হিজুলিয়া গ্রামবাসী1K Total Shares
মানিকগঞ্জে পৌর বিএনপির নেতাদের হাতে ঈদ উপহার শাড়ি লুঙ্গি তুলে দিলেন এ্যাডঃ জামিল ও এস এ জিন্নাহমানিকগঞ্জে পৌর বিএনপির নেতাদের হাতে ঈদ উপহার শাড়ি লুঙ্গি তুলে দিলেন এ্যাডঃ জামিল ও এস এ জিন্নাহ1K Total Shares
বেসরকারি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের করোনা প্রটোকলের বাইরে রাখা হটকারি সিদ্ধান্তবেসরকারি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের করোনা প্রটোকলের বাইরে রাখা হটকারি সিদ্ধান্ত899 Total Shares
ঘিওর উপজেলাবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন মোঃ রবিউল আলম প্রধানঘিওর উপজেলাবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন মোঃ রবিউল আলম প্রধান840 Total Shares



Nobobarta © 2020 । About Contact Privacy-PolicyAdsFamily
Developed By Nobobarta